যেভাবে আমি আমার জীবনের ৪টি মূল্যবান বছর নষ্ট করেছি
হ্যালো, আমি ইয়াছিন। আমার বয়স ২০ বছর।
আজ আমি আমার জীবনের গত চার বছরের গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
হয়তো আপনাদের অনেকেই আমার গল্পের সাথে নিজের জীবনের কিছু মিল খুঁজে পাবেন। হয়তো আমার মতো আপনি গেম খেলেন না, কিংবা Anime দেখেন না। কিন্তু এমন কিছু না কিছু অবশ্যই আছে, যা আপনার অজান্তেই প্রতিদিন আপনার মূল্যবান সময় কেড়ে নিচ্ছে।

শুরুটা হয়েছিল গেমিং আসক্তি দিয়েঃ
আমার বয়স যখন ১৬ বছর, তখন আমি গেম খেলার প্রতি প্রচণ্ড আসক্ত ছিলাম।
শুরুর দিকে আমার সবচেয়ে প্রিয় গেম ছিল Clash of Clans। অনেক সময় ধরে সেটিই খেলতাম। কিন্তু কিছুদিন পর Free Fire আমার জীবনের বড় একটি অংশ হয়ে যায়।
পরবর্তী প্রায় দেড় বছর এমন একটি দিনও যায়নি, যেদিন আমি Free Fire খেলিনি।
প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, আর অনেক সময় তারও বেশি সময় শুধুমাত্র এই গেমের পেছনে ব্যয় করতাম।
একসময় এমন অবস্থায় পৌঁছেছিলাম যে, অন্য কিছু করার কথা মাথাতেই আসত না।
তারপর জীবনে এলো Anime:
একসময় গেম খেলতে খেলতেই আমার পরিচয় হয় Anime-এর সাথে।
আমার জীবনের প্রথম Anime ছিল Naruto।
শুরুতে শুধুমাত্র কৌতূহল থেকে দেখা শুরু করেছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটি ভালো লাগা থেকে নেশায় পরিণত হলো।
Naruto দিয়ে শুরু, তারপর একে একে বড় বড় Anime এবং Donghua-র জগতে ডুবে গেলাম।
একসময় এমন হলো যে Free Fire সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়ে Anime-ই আমার নতুন আসক্তিতে পরিণত হলো।
সবচেয়ে খারাপ অভ্যাসটি যেভাবে তৈরি হয়েছিলঃ
Anime দেখতে দেখতে আমি জীবনের সবচেয়ে খারাপ একটি অভ্যাস তৈরি করি।
সেটি হলো—রাতে না ঘুমিয়ে সারারাত জেগে থাকা এবং সারাদিন ঘুমানো।
এই অভ্যাসটি আজও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারিনি।
অনেক সময় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতাম।
রাত কেটে যেত Anime দেখে, আর দিন কেটে যেত ঘুমিয়ে।
তখন সময়ের কোনো মূল্যই বুঝতাম না।
যখন বুঝলাম সময়ের মূল্য
এইভাবে সময় যেতে যেতে একসময় উপলব্ধি করতে শুরু করলাম যে, আমি আসলে নিজের জীবন থেকেই সময় চুরি করছি।
সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলাম—এখন থেকে নিজের Skills Development-এর দিকে মনোযোগ দেব।
আমার আগ্রহের কিছু বিষয়ে শেখা শুরু করলাম। যেমন—
- Digital Art
- Programming
- Writing
কিন্তু সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়।
আমি যখনই নতুন কিছু শিখতে বসতাম, কয়েক মিনিট পরেই মনোযোগ হারিয়ে ফেলতাম।
Programming শিখতে বসে ১৫–২০ মিনিট পরই মন অন্যদিকে চলে যেত।
কারণ দীর্ঘদিনের আসক্তি আমার মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতাকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছিল।
আসক্তি থেকে বের হওয়া এত সহজ ছিল না
অনেকেই মনে করেন, শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই আসক্তি থেকে বের হওয়া যায়।
কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আমি যখন Free Fire খেলতাম, তখনও বহুবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে এবার নিজের উন্নতির জন্য সময় দেব।
প্রথম ২–৩ দিন খুব Motivated থাকতাম।
Game Uninstall করে দিতাম।
কিন্তু কয়েকদিন পর আবার সেটি Install করে ফেলতাম।
এই চক্রটি অসংখ্যবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
প্রতিবারই মনে হতো এবার হয়তো পারব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবার একই জায়গায় ফিরে যেতাম।
ধীরে ধীরে পরিবর্তনের শুরুঃ
অনেক চেষ্টা, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অবশেষে আমি সেই আসক্তি থেকে অনেকটাই বের হতে পেরেছি।
আজ আমি আর আগের মতো গেম খেলি না।
Anime দেখি, তবে খুবই কম। শুধুমাত্র মাঝে মাঝে, বিনোদনের জন্য।
যদিও এখনও কিছু খারাপ অভ্যাস পুরোপুরি ছাড়তে পারিনি, বিশেষ করে রাত জাগা।
তবুও আগের আমি আর বর্তমান আমি—দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ।
আমি কীভাবে নিজেকে ধীরে ধীরে পরিবর্তন করেছি, সেই পুরো Journey নিয়ে পরে বিস্তারিত বলবো।
এই লেখাটি কেন লিখলাম?
আমার এই চার বছরের Journey শেয়ার করার উদ্দেশ্য খুবই সহজ।
যদি আপনার জীবনেও এমন কোনো অভ্যাস থাকে—
- অতিরিক্ত Gaming
- Social Media
- Endless Scrolling
- Anime বা Series
- অথবা অন্য যেকোনো কিছু
যেখানে আপনি প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিচ্ছেন, কিন্তু দিন শেষে সেটি আপনার ভবিষ্যতে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে না,
তাহলে আজ থেকেই সেটির পেছনে সময় কমানো শুরু করুন।
কারণ সময় কখন চলে যায়, তা আমরা বুঝতেই পারি না।
আজ যে ২ ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সেটাই একসময় ২ বছর হয়ে যেতে পারে।
শেষ কথা
আমি আমার অতীতকে পরিবর্তন করতে পারব না।
কিন্তু সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎকে অবশ্যই পরিবর্তন করা সম্ভব।
সময় পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
টাকা হারালে আবার উপার্জন করা যায়, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সময় কোনোদিনই ফিরে আসে না।
তাই নিজের স্বপ্ন, নিজের লক্ষ্য এবং নিজের ভবিষ্যতের জন্য আজ থেকেই সময়কে মূল্য দিতে শুরু করুন।