গল্পের ষষ্ঠ অংশ
নিলয়ের মা নেকা কান্না করায় নিলয় সেখান থেকে রাগ করে তার ঘরে গেল। সে নীলিমাকে ফোন ধরে থাকতে দেখল। নীলিমা তখন শান্ত গলায় বলল আমি নিলয় কে ঠকবাজ মনে করেছিলাম কিন্তু ও সেরকম ছেলে নয়। আমি ওকে ভুল বুঝেছিলাম আসলে তো ও ওর মায়ের ঠকবাজে শিকার।নীলিমা সব সত্য আকাশকে খুলে বললো। আকাশ বলল তাহলে এখন কি তুমি তোমার কথা রাখবে না। নীলিমা বলল আমাকে একটু ভাবার কিছুটা সুযোগ দিবেন। তখন আকাশ বলল হ্যাঁ তোমার যত সময় লাগে তুমি নাও। কিন্তু সঠিক পথটাই বেচে নাও। নীলিমা ফোন কেটে দিল। নিলয় নীলিমার কাছে এসে তাকে বলল, তুমি কেন ওকে না বলে দিলে না। তখন নীলিমা বললো আমি উনাকে কিভাবে না বলি। কারণ তুমি জানো না উনার বাবা আমাদের গরিব থাকা অবস্থায় কত উপকার করে গেছে। তখন নিলয় বলল, তাহলে তোমার পরিবার ওর পরিবারকে আগে থেকেই চিনতো। নীলিমা বললো না ওর পুরো পরিবারকে নয় শুধু ওর বাবাকে চিনতো। যিনি মরে যাওয়ার আগে আমাদেরকে অনেক সাহায্য করেছে। আমার বাবা আজও আকাশের বাবার কাছে ঋণী হয়ে আছে। আর তাছাড়া তুমি যখন পাশে ছিলে না তখন আকাশ আমায় অনেক ভরসা দিয়েছিল। আর সে বিশ্বাস হয়ে উঠেছিল আমার স্বপ্ন। আমি সহজে ওকে না বলে দিতে পারছি না। নিলয় বলল আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি তোমার কাছ থেকে। কিন্তু তুমি তো জানো আমি সব বুঝে শুনে করিনি বরং ঠকবাজের শিকার হয়ে করেছি। নিলয় বলল তাহলে তুমি ওকে এক্ষুনি না বলে দাও। নীলিমা বললো আমি তোমার উপর রাগ করে থাকতে পারি না। আজকে আকাশ ব্যস্ত আছে কালকে আমি ওকে না বলে দেবো। নিলয় নীলিমা হাতের ওপর হাত রাখল। এটি অনামিকা দেখে হিংসা জ্বলে উঠলো। সে বিনিতা দিদিকে সব বলল। এতে নিলয় মা ক্ষিপ্ত হয়ে বলল ওই মেয়ে আমার ছেলেকে কেড়েছে আমার থেকে। আমি ওকে কিছুতেই ছাড়বো না। তুমি অনামিকা এক্ষুনি আকাশকে ফোন কর ওর সাথে কথা আছে। অনামিকা ফোন করলো বিনীত দিদি বলল আকাশ কেমন আছো বাবা। আকাশ বলল ভালো আছি তো আপনি কেমন আছেন । কেমন আর থাকি এই আছি। আকাশ বলল আন্টি কি হয়েছে। বিনীতা দিদি বলল নীলিমা যা শুরু করেছে তাতে কি আর ভালো থাকা যায়। ও এখন আমার ছেলেকে অনেক বেশি ভালোবেসে নিজের দিকে টানছে। বলল আন্টি আপনার ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে নীলিমা আমায় সব বলেছে । বিনীতা দিদি বলল তুমি কি চাও না যে নীলিমা তোমার হোক। আকাশ বলল চাইত। এদিকে দেখো অনামিকা চাই আমার ছেলেটাকে। তাহলে আমরা একটা ষড়যন্ত্র করলে কেমন হয় ওদেরকে আলাদা করার। আমাদের সবার একসাথে কাজ করলে আমাদের স্বপ্ন সত্যি হয়ে উঠবে বুঝতে পেরেছ বাবা। তুমি কি আমার শর্তে রাজি আছো। তোমার বাবা নীলিমার বাবার পিছনে যা খরচ করেছে। তুমি তা নীলিমা কাছ থেকে শর্তসাপেখে চাও। না হয় ও তোমাকে বিয়ে করুক না হয় তোমার বাবার সাহায্য করা অর্থ সম্পদ ফিরিয়ে দিক। তখন আকাশ বলল হ্যাঁ আন্টি আমি আপনার কথাই রাজি। যে আমাকে কাল কল করলে আমি তাই বলবো। নীলিমা ও নিলয় আকাশকে ফোন করল পরদিন। আকাশ ফোন ধরল নীলিমা কে বলল তোমার উত্তর কি হবে। নীলিমা বলল না হবে। কারণ আমি নিলয় কে অনেক বেশি ভালোবাসি।
এখন গল্পের সপ্তম অংশ একটু দেরি করে আসবে সেকশন সেভেন।