Posts

নন ফিকশন

মুস্তাফা জিলানীর জীবনী পর্ব ১

July 16, 2026

Md Josam

Original Author মোঃ জসিম

Translated by মোঃ জসিম

22
View

প্রথম পর্ব: বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর শৈশব ও প্রারম্ভিক জীবন (১০৭৭/১০৭৮ – প্রায় ১০৯৫)
হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ইসলামের ইতিহাসে এক অমর নাম। তিনি সুন্নি মুসলিম ধর্মপ্রচারক, হাম্বলী ফিকহবিদ, সুফি মরমী এবং কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশ্বখ্যাত। তাঁর জীবনী সম্পূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে রচিত, কোনো কল্পনা বা অতিরঞ্জন ছাড়াই। এই প্রথম পর্বে আমরা তাঁর জন্ম, শৈশব, পরিবার এবং প্রারম্ভিক শিক্ষাজীবন নিয়ে আলোচনা করব, যা তাঁর পরবর্তী মহান কর্মজীবনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জন্ম হয়েছিল ৪৭০ হিজরি সালের ১ রমজান (১০৭৭ বা ১০৭৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে) ইরানের গিলান (জিলান) প্রদেশের নাইফ বা নিফ নামক স্থানে। এই অঞ্চল কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত, যা তৎকালীন সেলজুক সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। গিলানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং সমুদ্রতীরবর্তী পরিবেশ তাঁর শৈশবকে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর নিসবা “আল-জিলানী” এই জন্মস্থান থেকেই এসেছে।ba55cd
Wikipedia
তাঁর পিতার নাম সৈয়দ আবু সালেহ মুসা জঙ্গী (বা জঙ্গী দস্ত) এবং মাতার নাম সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা। পরিবারটি সৈয়দ বংশের, অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর বলে পরিচিত। বিশেষ করে পিতার দিক থেকে হাসানী এবং মাতার দিক থেকে হোসাইনী সিলসিলা। এই বংশগত মর্যাদা তাঁর জীবনে গভীর আধ্যাত্মিক প্রভাব ফেলেছিল। পিতা আবু সালেহ ছিলেন একজন ধার্মিক ব্যক্তি, যিনি জীবনের শেষভাগে সন্তানের জন্মের কিছুকাল পরেই ইন্তেকাল করেন। মাতা উম্মুল খায়ের ছিলেন অত্যন্ত পুণ্যবতী ও ধার্মিক নারী, যিনি একাই সন্তানকে লালন-পালন করেছিলেন।4f955b
Wikipedia
শৈশবে আব্দুল কাদের (রহ.) ছিলেন অসাধারণ বুদ্ধিমান ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন। তিনি খুব অল্প বয়স থেকেই কুরআন শরীফ মুখস্থ করতে শুরু করেন। গিলানের স্থানীয় মাদ্রাসা ও শিক্ষকদের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর শৈশবকালে পরিবারের আর্থিক অবস্থা সাধারণ ছিল, কিন্তু ধর্মীয় পরিবেশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মাতা তাঁকে ইসলামের মূলনীতি, নৈতিকতা এবং তাকওয়ার শিক্ষা দিতেন। একটি ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়, ছোটবেলায় তিনি একবার মাতার সাথে কোনো কাজে বের হয়ে একটি অদ্ভুত ঘটনার সম্মুখীন হন, যেখানে তিনি নিজেকে সংযমী ও সত্যবাদী প্রমাণ করেন। এসব ছোট ছোট ঘটনা তাঁর চরিত্র গঠনে সহায়ক হয়।
পিতার মৃত্যুর পর মাতা একাকী দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সন্তানকে বলেছিলেন, “হে বৎস, তুমি ইলম অর্জনের জন্য বাগদাদ যাও।” এই উপদেশ তাঁর জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট। গিলানে থাকাকালীন তিনি স্থানীয় উলামাদের কাছে আরবি ভাষা, ফিকহের প্রাথমিক জ্ঞান এবং হাদিসের মৌলিক বিষয় শিখেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি এত প্রখর ছিল যে, একবার শোনা বিষয় সহজেই মনে রাখতে পারতেন। এই সময়কালে তিনি আধ্যাত্মিক অনুশীলনও শুরু করেন, যেমন নফল নামাজ, রোজা এবং জিকির।
১০৯৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে, প্রায় ১৮ বছর বয়সে, তিনি গিলান থেকে বাগদাদের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই যাত্রা ছিল দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য। পথে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন—খাবারের অভাব, বিপজ্জনক পথ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কিন্তু তাঁর দৃঢ় সংকল্প তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বাগদাদ তৎকালীন ইসলামি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল, আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী। সেখানে তিনি প্রথমে আবু সাঈদ মুবারক মাখযুমী (রহ.)-এর কাছে হাম্বলী ফিকহ অধ্যয়ন শুরু করেন। মাখযুমী ছিলেন একজন প্রখ্যাত আলেম এবং সুফি শায়েখ।
বাগদাদে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। তিনি দিনে ফিকহ, হাদিস এবং তাফসীর অধ্যয়ন করতেন, রাতে আধ্যাত্মিক অনুশীলন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ইবনে আকিল এবং আবু মুহাম্মদ জাফর আস-সাররাজের নাম উল্লেখযোগ্য। হাদিস শাস্ত্রে তিনি গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। এই সময় তিনি আবুল খায়ের হাম্মাদ আদ-দাব্বাস (রহ.)-এর কাছে সুফি তরিকার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
তাঁর প্রারম্ভিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো তাঁর আত্মনিয়ন্ত্রণ। বাগদাদে পৌঁছে তিনি অভাবের মধ্যে পড়েন। একবার তাঁর কাছে কিছু অর্থ ছিল, কিন্তু তিনি তা গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। এই ঘটনা তাঁর উদারতা ও দানশীলতার প্রমাণ। তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন, বিলাসিতা থেকে দূরে থাকতেন। তাঁর খাবার ছিল সাধারণ রুটি ও পানি, পোশাক সাধারণ।
গিলান থেকে বাগদাদ যাত্রার সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে থেমে স্থানীয় উলামাদের সাথে মিলিত হন। এতে তাঁর জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। বাগদাদে তিনি শিক্ষার পাশাপাশি মানুষের সাথে মেলামেশা করে সমাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তৎকালীন বাগদাদে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ধর্মীয় বিতর্ক এবং সামাজিক সমস্যা ছিল। এসব দেখে তিনি ভবিষ্যতে ইসলামের খাঁটি শিক্ষা প্রচারের সংকল্প করেন।
তাঁর শৈশবে মাতার ভূমিকা অপরিসীম। মাতা তাঁকে বলেছিলেন যে, ইলম অর্জনের পথে কোনো আপস করা যাবে না। এই উপদেশ তিনি সারাজীবন মেনে চলেছেন। গিলানের জঙ্গলময় এলাকায় তিনি প্রকৃতির মধ্যে আল্লাহর সৃষ্টির চিন্তা করতেন, যা পরবর্তীকালে তাঁর তাসাউফের ভিত্তি হয়।
প্রথম পর্বের এই অংশে আমরা দেখতে পাই যে, তাঁর জীবনের প্রথম ১৮ বছর ছিল জ্ঞান অর্জন এবং চরিত্র গঠনের। তিনি কোনো সাধারণ শিশু ছিলেন না; তাঁর মধ্যে আধ্যাত্মিকতা ও বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ছিল। বাগদাদে পৌঁছে তিনি যে শিক্ষা শুরু করেন, তা তাঁকে পরবর্তীতে একজন মহান আলেম ও শায়েখে পরিণত করে।

🎉 ১ লাখ টাকা পুরস্কার জেতার সুযোগ!

আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। তারপর যেকোনো ভিডিওতে এই কমেন্টটি করুন:

🔗 https://youtube.com/@jaminatvmt
📝 @jaminatvmt

ধন্যবাদ ❤️

Comments

    Please login to post comment. Login