সপ্তম পর্ব: বার্ধক্যে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, শেষ দরসসমূহ, শিষ্যদের উত্তরাধিকার প্রস্তুতি এবং সমাজীয় প্রভাবের চূড়ান্ত পর্যায় (প্রায় ১১৫৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১১৬০-এর দিকে)
বয়স যখন ৭৫-৮০ এর কাছাকাছি, তখনো আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) নিয়মিত মাদ্রাসায় যেতেন। শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও তাঁর মনোবল ছিল অটুট। তিনি ছাত্রদেরকে বলতেন, “শরীর দুর্বল হলেও অন্তর আল্লাহর স্মরণে জাগ্রত রাখো।” তাঁর শেষ দরসগুলোতে তিনি কুরআনের সূরা আল-ফাতিহা এবং অন্যান্য আয়াতের গভীর ব্যাখ্যা করতেন। তিনি জোর দিতেন যে, ইসলাম হলো সম্পূর্ণ জীবনব্যবস্থা—ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র সবকিছুতে।
তিনি শিষ্যদেরকে উত্তরাধিকারের জন্য প্রস্তুত করতেন। তাঁর পুত্র আবদুল রাজ্জাক (রহ.)-কে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিতেন। অন্যান্য শিষ্যদেরকে খিলাফত দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতেন। তিনি বলতেন, “আমার পরে তোমরা শরীয়ত ও তরিকতের সমন্বয় রক্ষা করবে।” এই প্রস্তুতির ফলে কাদেরিয়া তরিকা তাঁর মৃত্যুর পরেও টিকে থাকে এবং বিস্তার লাভ করে।
সমাজীয় প্রভাবের চূড়ান্ত পর্যায়ে তিনি বাগদাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতেন। দুর্ভিক্ষ বা অস্থিরতার সময় তিনি লোকদেরকে ধৈর্য ধরতে এবং সাহায্যের হাত বাড়াতে বলতেন। তাঁর লঙ্গরখানা চালু ছিল এবং তিনি নিজে তত্ত্বাবধান করতেন। তিনি ধনীদেরকে জাকাত ও সাদকার গুরুত্ব বোঝাতেন। তাঁর উপদেশে অনেকে সম্পত্তি দান করে দিতেন।
তাঁর শেষ ওয়াজগুলো ছিল আরও গভীর। তিনি মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং বলতেন, “প্রত্যেকে আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে।” লোকেরা তাঁর কথা শুনে তওবা করত এবং জীবন পরিবর্তন করত। তাঁর বক্তৃতায় হাজারো মানুষ সমবেত হতো। বাগদাদের শাসকরা তাঁর সম্মানে বিশেষ ব্যবস্থা করতেন।
তিনি এই সময়ে আরও গ্রন্থের সংকলন তত্ত্বাবধান করেন। তাঁর শিষ্যরা তাঁর কথা লিপিবদ্ধ করত। “কিবরিয়াতে আহমর” এবং অন্যান্য গ্রন্থ এই পর্যায়ে প্রচারিত হয়। তিনি শিক্ষা দিতেন যে, সাধকের জীবন হওয়া উচিত আল্লাহর উপর নির্ভরশীল।
দৈনন্দিন জীবনে তিনি এখনো নামাজে দীর্ঘ সময় কাটাতেন। তাঁর সন্তানরা তাঁর সেবা করত। তিনি তাদেরকে উপদেশ দিতেন যেন তরিকা সঠিকভাবে চলে। তাঁর বাড়িতে সবসময় শিষ্যরা আসত এবং তিনি তাদের সমস্যা শুনতেন।
তাঁর প্রভাব আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছায়। দূর-দূরান্ত থেকে লোক আসত তাঁর দোয়া নিতে। তিনি সকলকে সমান চোখে দেখতেন। ধনী-গরিব, আরব-অনারব কোনো ভেদাভেদ ছিল না।
এই সময়ে তাঁর স্বাস্থ্য আরও খারাপ হয়। কিন্তু তিনি কাজ থামাননি। তিনি ছাত্রদেরকে বলতেন, “আমার চলে যাওয়ার পরেও ইলমের ধারা চালিয়ে যেও।” তাঁর এই কথা শিষ্যদেরকে অনুপ্রাণিত করত।
তিনি সমাজের নেতাদেরকে ঐক্যের উপদেশ দিতেন। তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতায় তাঁর কথা শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করত। তিনি কখনো হিংসা বা বিদ্বেষ প্রচার করেননি।
তাঁর জীবন ছিল আদর্শের উদাহরণ। তিনি শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। এই পর্যায় তাঁর উত্তরাধিকারকে সুসংগঠিত করে।
🎉 ১ লাখ টাকা পুরস্কার জেতার সুযোগ!
আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। তারপর যেকোনো ভিডিওতে এই কমেন্টটি করুন:
🔗 https://youtube.com/@jaminatvmt
📝 @jaminatvmt
ধন্যবাদ ❤️
