Posts

গল্প

যোগ্যতা অধ্যায়- ২

July 22, 2026

FIJON QURAYSH

Original Author ফিজন কোরাইশ

4
View

অধ্যায় ২: যোগ্যতার আসল পরীক্ষা

প্রতিযোগিতার দিন ভোরে সোনাঝুরি গ্রামের আকাশ ছিল একেবারে পরিষ্কার। কিন্তু তাহমিদ, তাজবিদ, মিহি, রাইকা, আবির, আনাস, শান্তি ও বায়জিদের মনে ছিল উত্তেজনা আর দুশ্চিন্তা।

আজই প্রমাণ হবে—তাদের পরিশ্রম সত্যিই সফল হবে কি না।

সকালে জামাল চাচা বললেন,

"মনে রেখো, জয়ের আগে মানুষের চরিত্রের পরীক্ষা হয়। যোগ্যতার আগে আসে সততা।"

সবাই তাঁর কথা মন দিয়ে শুনল।

এদিকে গ্রামের সম্মানিত ব্যক্তি আব্দুল সাত্তার প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হিসেবে এলেন। তিনি গ্রামের সবার কাছে একজন ন্যায়পরায়ণ ও শিক্ষাপ্রেমী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তিনি বললেন,

"আজ আমি শুধু কার কাজ সুন্দর, তা দেখব না। আমি দেখব—কার হৃদয়ে সত্যিকারের মানবতা আছে।"

এ কথা শুনে সবাই আরও মনোযোগী হয়ে গেল।

অন্যদিকে শহর থেকে এলেন একজন তরুণ শিক্ষিকা আলবিনা। তিনি বিচারকদের একজন। তিনি শিশুদের শিক্ষা ও নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করেন।

আলবিনা বললেন,

"যোগ্যতা শুধু পরীক্ষার নম্বরে নয়। মানুষের ব্যবহার, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ আর অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতাও যোগ্যতার অংশ।"

তার কথা শুনে মিহি ও রাইকা খুব অনুপ্রাণিত হলো।

ঠিক তখনই আরেকজন তরুণ প্রযুক্তিবিদ মুস্তাকিম এসে উপস্থিত হলেন। তিনি প্রতিযোগীদের তৈরি প্রকল্প পরীক্ষা করবেন।

তিনি বললেন,

"আমি ভুল খুঁজতে আসিনি। আমি দেখতে এসেছি, তোমরা ভুল থেকে কী শিখেছ।"

এই কথাটি তাহমিদের মনে গভীর দাগ কাটল।

কিছুক্ষণ পর বিচার শুরু হলো।

তাহমিদ পুরো প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরল।

তাজবিদ দেখাল কীভাবে অল্প খরচে শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।

আবির প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামের শিশুদের শেখানোর নতুন পদ্ধতি দেখাল।

আনাস ব্যাখ্যা করল কীভাবে গ্রামের দরিদ্র মানুষদেরও এই কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

মিহি ও রাইকা শিশুদের নিয়ে একটি ছোট শিক্ষামূলক প্রদর্শনী করল।

শান্তি পুরো প্রকল্পের হিসাব ও পরিকল্পনা সুন্দরভাবে তুলে ধরল।

বায়জিদ পুরো দলের সমন্বয় করল।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল।

হঠাৎ একটি কঠিন প্রশ্ন করলেন আলবিনা।

"যদি তোমরা পুরস্কার না পাও, তাহলে কি এই শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেবে?"

কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।

তারপর তাহমিদ দাঁড়িয়ে বলল,

"আমরা পুরস্কারের জন্য কাজ করিনি। আমরা মানুষের উপকারের জন্য কাজ করেছি। পুরস্কার না পেলেও এই কাজ চলবে।"

পুরো মাঠ করতালিতে মুখর হয়ে উঠল।

আব্দুল সাত্তার হাসলেন।

তিনি বললেন,

"আজ তোমরা একটি বড় শিক্ষা দিলে—যোগ্যতা কখনো পুরস্কারের উপর নির্ভর করে না।"

এরপর মুস্তাকিম একটি শেষ পরীক্ষা নিলেন।

তিনি ইচ্ছে করে একটি ছোট সমস্যা তৈরি করলেন এবং দেখলেন দলটি কীভাবে তা সমাধান করে।

কেউ দোষারোপ করল না।

সবাই একসঙ্গে সমস্যার সমাধান করল।

মুস্তাকিম বললেন,

"এই ঐক্যই তোমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।"

দূরে দাঁড়িয়ে আলম খান, সাত্তার মিয়া, মালেক মোল্লা, কাশেম ও জামাল একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসলেন।

সাত্তার মিয়া বললেন,

"আমি একসময় ভেবেছিলাম এরা কিছুই পারবে না। আজ বুঝলাম, যোগ্য মানুষকে কখনো ছোট করে দেখা উচিত নয়।"

দিনের শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হলো।

সোনাঝুরি গ্রামের দল প্রথম স্থান অর্জন করল।

কিন্তু তাহমিদ মঞ্চে উঠে বলল,

"আজকের এই পুরস্কার শুধু আমাদের নয়। যারা আমাদের বিশ্বাস করেছে, যারা সমালোচনা করে আরও শক্ত হতে শিখিয়েছে, আর যারা শিক্ষা দিয়েছে—এই জয় তাদেরও।"

আব্দুল সাত্তার তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দিয়ে বললেন,

"আজ থেকে তোমরাই সোনাঝুরি গ্রামের নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।"

সেই দিন থেকে গ্রামের শিক্ষা কেন্দ্রটি আরও বড় হয়ে উঠল। সেখানে শত শত শিশু পড়াশোনা শুরু করল। অনেক দরিদ্র ছেলে-মেয়ে নতুন স্বপ্ন দেখতে শিখল।

গল্পের শিক্ষা:

  • যোগ্যতা জন্মগত নয়, পরিশ্রম ও শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত হয়।
  • দলগত কাজ মানুষকে বড় সাফল্য এনে দেয়।
  • সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
  • পুরস্কার নয়, মানুষের উপকার করাই প্রকৃত সফলতা।

Comments

    Please login to post comment. Login