'অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে' বিখ্যাত এই উক্তিটি কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর বিলাসী গল্পের কথক 'ন্যাড়া'-র। তেলাপোকা টিকে থাকার সত্যিকারের নজির দেখল বৃহৎ ভারতবাসী।
ছাত্রদের দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হয়েছে বিজেপি সরকারকে। ওইদেশের পিএম নরেন্দ্র মোদিকে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে মিষ্টি মিষ্টি ভাষণও দিতে হয়েছে। সিজেপি'র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এখন তারুণ্যের প্রিয়মুখ। তার কথায় ক্ষমতাকে জবাবদিহি করতে হাজারো ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামে।
৩৬ দিনের যন্তর মন্তরের অবস্থান কর্মসূচি শেষে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। বেকার তরুণদের 'তেলাপোকা' বলে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া এই আন্দোলন অল্প সময়েই ভারতের মতো শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জবাবদিহির এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। সরকার শিক্ষা সংস্কার, অনিয়মের তদন্ত এবং প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আ'ত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণসহ আন্দোলনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে লেখক অরুন্ধতী রায় বলেছিলেন, তরুণদের এই প্রতিবাদ ভারতের গণতন্ত্রের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানালেও অনশন শেষ করার আহ্বান জানান, যাতে তাদের জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে। তাঁর মতে, এই আন্দোলন কেবল পরীক্ষা বা শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের জবাবদিহি, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিরও বহিঃপ্রকাশ।
দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র সংগঠন, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা পৃথক বিবৃতি ও সমাবেশের মাধ্যমে CJP আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। আন্দোলনটি ধীরে ধীরে শুধু প্রশ্নফাঁসের ইস্যু নয়, বরং বেকারত্ব, শিক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির দাবিতে একটি বৃহত্তর যুব আন্দোলনে পরিণত হয়।
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জবাবদিহি। রাষ্ট্র যত শক্তিশালীই হোক, সংগঠিত ও শান্তিপূর্ণ জনআন্দোলনের সামনে শেষ পর্যন্ত তাকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতেই হবে -এটাই চূড়ান্ত সত্য। CJP আন্দোলন সেই বাস্তবতারই সবিশেষ একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
লেখক: সাংবাদিক
২৫ জুলাই ২০২৬