
বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করে ছাব্বিশটিতেই নাকি ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ছোটবেলার সেই পঙ্গু তোফাজ্জলের মাইকিংয়ের কথা মনে পড়লো। মুক্তাগাছার বিখ্যাত পঙ্গু তোফাজ্জল মিয়ার আসল দাঁতের কালো মাজন। অন্তত ময়মনসিংহের এমন কোনো মানুষ নেই যে এই কালো মাজন ব্যবহার করেন নি। সেসময় এরচেয়ে আরেকটু উন্নতমানের আর ফ্লেভারের ছিলো বিদ্যুৎ টুথ পাউডার আর বিদ্যুৎ কালো নিমের মাজন। আম গাছ, নিম গাছের ডাল তো তখন উৎকৃষ্ট মাজনি ছিলো। দাঁতের শক্তি বাড়াতে গেন্ডারি বা আঁখ বা কুশাইল ছিলো এক্সট্রা পাওয়ারফুল টনিক। কালো মাজন দিয়ে দাঁত মাজার পর মুখের চারপাশে মাজনের কালি লেগে মুখের ছিরি না বদলাইলে দাঁত মাজা হয় নাই।
আজকের এই মাইক্রোপ্লাস্টিকওয়ালা টুথপেস্টের যুগে এসে মনেই হচ্ছে, একমাত্র পঙ্গু তোফাজ্জলের আসল কালো দাঁতের মাজনই আসল... সদ্য চুলা থেকে আনা কয়লার গুড়া থেকে একেবারেই প্রাকৃতিক উপায়ে কোনো কেমিক্যাল ছাড়া তৈরী ও কাঁচের বোতলে সরবরাহকৃত এই মালের কোনো ঋণাত্মক প্রচারণা কিংবা প্রতিবেদন নাই।
অথবা সেই সময়ের বিদ্যুৎ টুথ পাউডার, বিদ্যুৎ কালো নিমের মাজন অথবা দাঁতনের যুগে টুথপেষ্ট আইলো আধুনিক মানুষের কাছে। সাথে ব্রাশ, তাও আবার যেনতেন করে দাঁত মাজলে হবেনা, উপর থেকে নিচে, ভেতর থেকে বাইরে। হাহ হাহ হাহ... সেসবের যুগে টুথপেস্ট এলেও টুথপেস্টের যুগে সেসব আর আসেনা, আসবেও না।
লেখাটি কেবলই সদ্য প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে শৈশবের স্মৃতিচারণ। কোনো বস্তু বা সামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহিত করা উদ্দেশ্য নয়।