দুই ধরণের মানুষকে এক কাতারে রেখে তাদের ব্যাপারে অনুপুঙ্খ জাজমেন্টাল হবেন এবং ক্রিটিক করবেন। যে লোকটি ৭৫ এর ৩২ নাম্বার অ্যাসাসিনেশনকে নানা অজুহাত ও বাহানায় জাস্টিফাইড করে এবং যারা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে গবেষক বনে গিয়ে ৫টা তারিখের কনফিউশন হাজির করে!
শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার স্থপতি ও পুরোধা ব্যক্তিত্ব। এবং সেটি স্বীকার করে নিয়ে জীবদ্দশায় 'একটি জাতির জন্ম' শিরোনামে অসাধারণ একটি প্রবন্ধ লিখেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট বীর উত্তম জিয়াউর রহমান। যে শেখ মুজিবকে জিয়াউর রহমান স্টেট লিডার হিসেবে সম্মান দিয়েছেন ওই মুজিবকে হিউমিলিয়েট করলেও তিনি স্বস্থানেই বহাল থাকবেন। বাহাত্তর-পঁচাত্তরে মুজিবের শাসন আপনার ভালো লাগে নাই -তার কাছে জবাবদিহি চাইবার রাইটস আপনার আছে। শিশু শেখ রাসেল এবং বেগম আরজু মনির গর্ভের সন্তানের সাথে আপনাদের শত্রুতা কী করে হতে পারে? শি'শুহ'ত্যাকে জাস্টিফাইড করতে পারে কোন মানসিকতার লোক?
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবদ্দশায় ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেছেন। তিনি নিজে যে তারিখ স্বীকৃতি দেবেন ওটাই তাঁর জন্মদিন। এবং বিএনপির লাখো কর্মী ও অনুসারী ওই দিনটিই তাদের নেত্রীর জন্মদিন হিসেবে ওউন করে। কার্বন টেস্টের মাধ্যমে মানুষের আনুমানিক বয়স বের করা যায় -কিন্তু এখনো বিজ্ঞানভিত্তিক কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি -যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিবিশেষের সুনির্দিষ্ট জন্মতারিখ বের করা যায়। তো আপনারা যারা ১৫ আগস্ট এলেই বিভিন্ন তারিখ নিয়ে সরব হন -তাদের উত্থাপিত উপাত্তের বেসিস আসলে কী? কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আপনারা কারো নির্দিষ্ট জন্মের তারিখ প্রমাণ করতে পারেন?
আগস্ট মাসটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে নানা ঘটনা পরম্পরায় বিশেষভাবে চিহ্নিত। সর্বশেষ চব্বিশের ৫ আগস্ট গণরোষে আ.লীগ সরকারের পতন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাচ্যুতি একটি।
মানুষ অন্য মানুষকে হারিয়ে দিতে পারে না যতক্ষণ না ওই ব্যক্তি নিজেই নিজেকে হারিয়ে ফেলে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া দল আ.লীগের পতনের মূল কারণ তারা সবাইকে আ.লীগ বানাতে চেয়েছিল। জা'মায়াত ও তাদের ঘরাণার মানুষেরা ওই সুযোগটাই লুফে নিয়েছিল। এখন যে যার জায়গায় স্বস্থানে বহাল হয়ে গেছে। আপনি গায়ের জোরে কোনো আদর্শ কারো ওপর চাপিয়ে দিতে চাইলেই ফ্যা'সিজমের ভূত আপনার মাথায় চেপে বসেছে জানবেন। এবং টুডে অর টুমরো আপনার পতন ঠেকানোর সাধ্য কারোরই থাকে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে শেখ হাসিনার আ.লীগ। দুঃখজনক হলেও সত্যি মানুষ এখন ওই আ.লীগের নাম করে পঁচাত্তরের মর্মন্তুদ অ্যাসাসিনেশনকে জাস্টিফাইড করে। শেখ পরিবারের নির্বিরোধ ও নির্দোষ নারী ও শিশুদের এটা কিছুতেই পাওনা ছিল না।
কাজেই আ.লীগারদের উচিত হবে কারো জন্মদিনের পেছনে না লেগে -নিজেদের পায়ের তলা থেকে সরে যাওয়া মাটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করা। ক্ষমতায় থাকা অন্যরা রিকনসিলিয়েশনের কথা তখনই ভাববে -আপনি যখন আত্মসমালোচনা ও অনুশোচনা করবেন।
আমরা দ্বিমাত্রিক ১৫ আগস্টকে স্মরণ করি ইতিহাসের প্রতি সুবিবেচনাপ্রসূত সুবিচারের মাধ্যমে। ইনটেনশনাল পলিটিক্যাল বিদ্বেষ ঝেড়ে ফেলে -আমরা যার যেখানে স্থান তাকে স্বস্থানে সসম্মানে রাখতে চাই।
শুভ জন্মদিন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া।
শোক জানাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার পরিজনের প্রতি।
লেখক: সাংবাদিক
১৫ আগস্ট ২০২৬