পনেরই আগস্ট
ঘাতকের বুলেটে যদিওবা নিয়ে গেল প্রাণ
তোমার
নিতে পারেনি তোমাকে
তুমি রয়ে গেলে বাংলার বুকে—আছ—থাকবে যুগযুগ ধরে
চিরকাল—চিরগৌরবের সাথে
বাংলাদেশের আনাচেকানাচে—প্রতিটি ঘরে-ঘরে
বাংলা ও বাঙালির প্রাণে চির অম্লানে
তোমাকে ম্লান করতে পারবে না কোনো নতুন ইতিহাস
তুমি প্রাগৈতিহাসিক
উদিত হয়েছিলে ধ্রুবতারা হয়ে বাংলার আকাশে একদিন
তোমার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বিশ্ববঙ্গহৃদয়ে
তুমি নক্ষত্র বাংলার
তোমাকে মুছতে হলে মুছতে হবে বাংলার মানচিত্র
মুছতে হবে বঙ্গসাহিত্যভাণ্ডার—গান, গল্প, কবিতা, নাটক, চলচ্চিত্র যত ইতিহাস
তোমার দরদভরা বজ্রকণ্ঠের আওয়াজ এখনো ধ্বনিত হয় আকাশে-বাতাসে
ধ্বনিত হবে সকল ক্রান্তির ময়দানে
তুমি যুগেযুগে আসবে-যাবে বিপ্লবীর জ্বালাময়ীরূপে—
শেখ মুজিবুর রহমান
বাংলার মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক
তোমার ভাস্কর্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া যাবে
মূর্তি ভেঙে বিলীন করা যাবে
মুছে ফেলা যাবে দেয়ালের লিখন
ভেঙে চুরমার করা যাবে স্মৃতিস্তম্ভ—বত্রিশের মতো ইটপাথরের ঘর
অন্তরের লিখন মুছবে কে?
তোমার কীর্তি—তোমার নাম—যশখ্যাতি মুছে দেবে কিছু চণ্ডাল?
তোমার শানিতকণ্ঠ রোধ করা যাবে?
পদ্মা, মেঘনা, যুমনা শত নদনদী যত দিন বইবে বঙ্গে
তুমি ছাড়া ইতিহাস রচনা হবে?
তুমি হৃদয়েশ্বর
হৃদয়ের বাজারে ঈশ্বরের মৃত্যু নেই
সভা-সেমিনার, ভাষণ-বক্তৃতা, মিছিল-মিটিং বন্ধ করা যাবে
প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধ করা যায় না—যাবে না কোনোকালে
তোমার ত্যাগের তুলনা নেই বাংলার জমিনে
তুমি কীর্তিমান
তোমার কীর্তির স্মৃতিস্তম্ভ হবে বাংলার বুকে—প্রতিটি মোড়ে মোড়ে
তোমার কর্মনীতি বাঙালিকে দিয়ে যাবে আজীবন অনুপ্রেরণা
তোমার কণ্ঠধ্বনির প্রতিধ্বনি হবে প্রতিটি যুদ্ধক্ষেত্রে
প্রতিটি যুদ্ধের ময়দানে হবে রণন
জোগাবে সমস্ত যোদ্ধার মনে অসীম সাহস
তুমি সংগ্রামীর অনুপ্রেরণার শক্তির মূর্তপ্রতীক
তোমার আদর্শ—তোমার সম্প্রীতি জগতে অতুল্য
তুমি প্রিয়জন বাঙালির
তোমার মতো নেতা আর আসবে না এদেশে
হবে না জন্ম পৃথিবীতে
তোমার হারানো শোকে আজ শোকান্বিত বাংলা
তোমাকে ভুলা যাবে না
ভুলা যাবে না এ শোকের দিন
সেই বিভীষিকাময় কালোরাত—
কারবালার মতো মাতমি অধ্যায়
তুমি মহান—বাংলার স্থপতি
বাঙালি অকৃতজ্ঞ জাতি
কেউ মানুক বা না মানুক তুমি “জাতির জনক”
বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ
যত দিন বইবে নদনদী আবহমান বাংলায়
তত দিন বঙ্গবন্ধু অমর তুমি বঙ্গে...