Posts

চিন্তা

আমাদের গ্রাম: কোথায় হারাল সুন্দর শ্যামলিমা!

August 24, 2026

ফারদিন ফেরদৌস

29
View

আমার গ্রামটা বরাবর ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় হিসেবে পরিচিত। ওখানে গিয়ে -সকালে হাঁটলে মন ভালো হয়ে যায়।

আজ গ্রামে গিয়ে ভীষণ মন খারাপ হলো। গ্রামে যাওয়ার পথটা রাতারাতি মুরগির ফার্ম দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। গ্রামে যেতে সড়কের দুইধার দিয়ে অন্তত ২৫টি অপরিকল্পিত মুরগির ফার্ম গড়ে তোলা হয়েছে। দুর্গন্ধে সড়ক ধরে দুদণ্ড হাঁটা যায় না। অথচ গ্রামে গেলে ভোরবেলায় এই পথটাকে মনে হতো স্বর্গের দুয়ারে যাওয়ার রাস্তা।

এলাকায় বর্ষায় পানি এসেছে। মুরগির বিষ্ঠা সবটাই বিলের পানিতে গিয়ে মিশছে। ওই এলাকার একটা দেশি মাছও মুখে নেয়া যায় না। পুকুরে পালা পাঙাস মাছের চেয়েও সেগুলো জঘন্য গন্ধযুক্ত।

ওই সড়কে যেতে অন্তত পাঁচটি পুকুর ও একটি বিল পড়ে। 
দুঃখজনক হলেও সত্যি বিরাট বড় পুকুরের ওপর মুরগির খামার দিয়ে ভরিয়ে তোলা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুরগির বিষ্ঠা খাচ্ছে পুকুরে পালা রুই কাতলা মাছ।

অচিরেই ওই এলাকার ছেলে বুড়ো কিশোররা মারাত্মক ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ মুরগিকে খাওয়ানো হয় বিষাক্ত ক্রোমিয়ামযুক্ত ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে বানানো ফিড। আবার ওই ফিড খাওয়া মুরগির বিষ্ঠা খাচ্ছে মাছ। মানুষ এইভাবে নিজের মরণ নিজেরাই ডেকে আনতে পারে -এটা বাংলাদেশকে না দেখলে অনুমান করা যায় না।

এলাকাবাসীকে বলব দয়া করে অবৈধ মুরগি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। এভাবে ফসলি জমিতে মুরগির ফার্ম গড়ে তুলে পরিবেশ দূষণ করা যায় না। সম্পূর্ণ আইনবিরোধী কাজ। কেন আপনার মূল্যবান ফসলি জমি সামান্য অর্থের বিনিময়ে দুর্বৃত্তের কাছে বর্গা দিচ্ছেন। এর পরিণামে শেষপর্যন্ত কেউ বাঁচতে পারবেন না। মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়বে আগামী প্রজন্ম। নিজেদের প্রজন্মের প্রতি দয়া করুন, মমতা দেখান, দায়িত্বশীল হোন -মুরগির ফার্ম এখনই হঠিয়ে দিন।

সবগুলো মুরগির ফার্ম ফসলি জমিতে বানানো হয়েছে। আমাদের এলাকায় বোরো ধান ও সরিষার জন্য বিখ্যাত। একটা ক্ষেতে মুরগির ফার্ম দেয়া মানে চারপাশের চারটি ক্ষেতের ফসল বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হবে।

সবচেয়ে জঘন্য কাজটি করেছে আমাদের আপন চাচা। আমরা গ্রামে গেলে যেই রুমটিতে বসবাস করি -সেই রুম ঘেঁষে চাচ্চু মুরগির ফার্ম দিয়েছেন। মুরগির গুয়ের গন্ধে ঘরে থাকা দূরের কথা আমরা বাড়ির উঠোনেও দাঁড়াতে পারি না। একদিকে গরম, অপরদিকে দুর্গন্ধ -একেবারে নাভিশ্বাস উঠে যাওয়া যাকে বলে। কাকে বলব দুঃখের কথা?

এলাকায় যাওয়াই বাদ দিচ্ছি। 
ওই গ্রামের লোক কিছুদিনের মধ্যেই মশা আর মাছিতে এতটা ভোগান্তিতে পড়বে যে, মুরগি পালার সাধ আপনাআপনিই মিটে যাবে সবার।

মুরগির ব্যাপারিদের জন্য আরো সুখবর আসতে চলেছে -
দেশে গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসছে। আমাদের অনেক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট এখনো গ্যাস নির্ভর। সরকার চাইলেও আগামীতে খুব বেশি ইলেক্ট্রিসিটি প্রোভাইড করতে পারবে -এমনটা নাও হতে পারে। তেমনটা হলে মুরগির বিষ্ঠার যন্ত্রণা হয়ত খুব বেশিদিন সইতে হবে না।

এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারিতে আনি না। কী লাভ? 
বিশ্বাস করি তারা সব জানেন। কে কী করবেন? মবের ভয় কার না আছে?

ফুটনোটস: 
বিষাক্ত ক্রোমিয়াম ও মারাত্মক অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত মুরগি বা ডিম আমরা খেতে চাই না। দয়া করে আমাদেরকে ফিরিয়ে দাও শ্যামল শস্যক্ষেত, ফিরিয়ে দাও পুষ্টিকর ও সুস্বাদু দেশজ মাছ, ফিরিয়ে দাও নির্মল বায়ু।

▪️
লেখক: সাংবাদিক 
২২ আগস্ট ২০২৬

Comments

    Please login to post comment. Login