এই শহরে ঠিক কতগুলো গল্প জমা হয়ে আছে । কতবার ভেবেছি ছোট ছোট চিরকুটে সেগুলো জমায় রাখবো। একদিন ছুড়ে ফেলো দিবো। আমি জানিনা এই গল্প গুলোকে ঠিক কি নাম দিবো। আর এই গল্পগুলোর রং ই বা কি? আর সেখানে আমার ভুমিকাই বা কি? ফাগুন এলো,আষাঢ় এলো,চলে গেলো কার্তিক। নিয়ে গেলো না আমায়। উত্তর ও দিলো না। এখানে কত আশ্চর্য! কত ক্ষোভ! আর আমার অকারণের সুখ।
রেজা ভাইর টং এ বসে আছি। ক্যাম্পাসের এক বড় ভাই হঠাত বলে বসলেন , রিগ্রেট বলতে আসলে কিছু নেই। যেমন দেখ সিজি নাই,চিল তো আছে। আমি নিশ্চুপ থাকলাম। পরে নিজেকে প্রশ্ন করলাম, আমি যে এতগুলো রাত নিজেকে পোড়ালাম, নির্ঘুম রাতকে প্রশ্ন করে গেলাম কিংবা এই নগরে যে এখন রংধনু দেখতে পেলাম না সেগুলো কি তাহলে? বিষাদ?
কথায় আছে ,মেয়েদের মন আর মেকানিক্স নাকি সহজে বোঝা যায় না। আর আমি আমার বন্ধু রাফির কাজকর্ম কিছু বুঝি না। আমি যখন ঘুমাতে যাই তখন সে ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসে। হঠাত সে এসে বললো দোস্ত চল আজকে পুরা রাজশাহী শহর ঘুরবো।। রাত ১ টার দিকে বের হলাম। গাফফার মামার রিকাশায় করে ঘুরলাম এই অনীহার শহরে। সোডিয়াম আলো কেন জানি খুব ভালো লাগে। রাত ৩ টা। কুকুরগুলো খুব বেশি ঘেউ ঘেউ করছে। সম্ভবত অন্য এলাকার কোনো বেচারা কুকুর এই এলাকায় এসে পড়েছে।
মান অভিমানের পালা গুলো খুব ধীরে কাটছে। চারপাশের কাউকে সহ্য হচ্ছে না। একাকীত্বের গ্রাসে কোনো এক অহেতুক ভীরে হেটে বেড়াচ্ছি। এর মাঝে জমে বসেছে বিষন্ন রোদ। কোনো এক গ্রামীন জীবনে সরে যেতে পারলে বোধহয় খুব ভালো হতো। সেখানে কিছু অপরিচিত মানুষদের সাথে জম্পেস খোস গল্পে যদি মেতে উঠতাম। এই বিলাসিতা কিংবা মান অভিমান আমাকে টানতে পারছে না। কিন্তু সেই গ্রামীন জীবন কি আমার নোংরা স্বত্তাকে গ্রহণ করবে?
ফুলতলার আকাশটা আজ অন্যরকম। এখানে ১০ টাকায় একটা চটপটি পাওয়া যায়। কারো ভালো লাগে কারো লাগে না। আমি পাশের দোকান থেকে পেয়ারা মাখা খাচ্ছি আর জমে থাকা মেঘ দেখছি। দুটো নাম না জানা পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে। আচ্ছা এই মুহুর্তটার নাম কি দেয়া যায়? সুখ? না শুধুই আবেগের মূর্ছনা? আমি জানিনা। জানতেও চাই না।
মে-জুন-জুলাই-আগস্ট আমি শুধু হেসেই গেছি। কাঁদতে ভুলে গেলেও হাসতে ভুলিনি। যদিও ভিতরটা পুড়ে গেছে। তার খোঁজ কেউ রাখেনি। কেনোই বা রাখবে? তবু আমি নিশ্বাস নিয়েছি। পদ্মার বাতাসের ঘ্রাণটা বেশ। এর মাঝে আমি কখন পরিবর্তন হয়েছি বুঝিনি। এতকিছুর মাঝেও একটা সুখবর আমি পেয়েছি। নিজেকে নিজে চিনতে পারার চেয়ে বড় সুখবর আর কি হতে পারে? তবুও কোনো এক ক্লান্ত সন্ধ্যায় মনেঢ় অজান্তে মামনির ফোনকলের অপেক্ষা আমি করি। চোখে জল আসলেও সে জল আমি মাটিতে গড়াতে দেইনা। ওই যে কাঁদতে ভুলে গেছি।
ল্যাব রিপোর্টটা শেষ করলাম। হাতের লেখা ভীষণ বাজে আমার। হয়তো কাল রিপোর্টে লাল কালিতে লেখা থাকবে “POOR”। তাতে আমার অবশ্য খুব বেশি যায় আসবে না। আমি ফুলতলা যাবো,রাত্রে গাফফার মামার রিকাশায় করে এ নেক্রপলিস ঘুরে ঘুরে দেখব,আল মদিনা হোটেলে ঢুকার সাথে সাথেই পরিচিত একজন এসে বলবে “মামা বসেন আমি খিচূড়ী বানায় দিচ্ছি”। আমি ঠিকই বাবুর টং এর ঐ মামাটারে যায়ে বলবো,দুধ চা খেয়ে তোমাকে গুলি করে দিবো। এতকিছুর পরে যখন ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরবো ,তারপর? তারপর মেঘদল শুনবো।
কিছু বিষাদগ্রস্ত দিন ছিলো প্রেমিকার চোখে জমা
আহা!