চিন্তা

তারেক রহমান ভারত সফরে যাচ্ছেন!

September 1, 2026

ফারদিন ফেরদৌস

32
View

বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সিম্পটম থেকে অনুমান করা গিয়েছিল ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ছে। তবে আগস্টের একটি ঘটনা ওই সিম্পটমকে অনেকখানি দূরীভূত করেছে। দুই দেশের ভৌগোলিক আকাশ থেকে কালো মেঘেরা সরতে শুরু করেছে। আমরা আগেও পূর্বানুমান করেছিলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারত সফরে যাবেন। ওই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সকাশে আমাদের তরফে অনেক অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে সরাসরি কথা বলবেন।

গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যাচ্ছে, দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে (FCC) আওয়ামী লীগ নেতার অংশগ্রহণে নির্ধারিত একটি সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলন শেষ পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের বাধার কারণে বাতিল করা হয়।

গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে 'ইউরোপ এবং এশিয়া: সংলাপ থেকে অংশীদারত্ব' শীর্ষক এই সেমিনার-কাম-প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছিল।
এর আগে গত ৫ আগস্ট একই ক্লাবে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল বক্তব্য ও গণমাধ্যম মিথস্ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। এই ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম দুই দেশের সম্পর্কে বিরাট প্রভাব ফেলবে এমন কড়া বার্তা দিয়েছিল আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্লেষকদের মতে, সেই বিতর্কের জের ধরেই এই নতুন অনুষ্ঠানটি পুলিশ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আজ ঢাকায় বলেছেন, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে পুনরায় আলোচনা চলছে। তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

আজ ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একটি ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আলাপ আলোচনা হচ্ছে। আলাপ আলোচনার সময় ধরে একটা ডেট সেট করবো। যখন টাইমিং হবে তখন প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন। আমরা এখনো কোন ডেট সেট করিনি।

অপরদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটিকে ভারতের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেরই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একে অন্যের চ্যালেঞ্জগুলো বুঝে সেগুলো মাথায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অতীতের বিষয়গুলোতে আটকে না থেকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘অতীত আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। কারণ আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।’

ভারতের সাথে বাংলাদেশ তার বাণিজ্যিক স্বার্থ অস্বীকার করতে পারবে না। একই কথা ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে অভিন্ন স্বার্থে বাংলাদেশ-ভারত যদি স্বাভাবিক ও মর্যাদাশীল সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যায় -তাতে দুই দেশের জনগণেরই লাভ। প্রতিবেশি যেহেতু বদলে ফেলা যায় না -তাই অতীত তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখাটা অতি অবশ্যই বিবেচনার দাবি রাখে।

আশা করছি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে বীরোচিত সংবর্ধনা পাবেন। এবং বাংলাদেশ ও এখানকার জনগণের স্বার্থে তিনি নতুন কিছু বাগিয়ে নিয়ে আসবেন।

লেখক: সাংবাদিক 
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Comments

    Please login to post comment. Login