একজন ব্যক্তি নৈতিকস্খলনের দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও তার সংসদ সদস্য পদে ফুলের টোকা দেয় নাই নির্বাচন কমিশন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার ন্যাম ভবনে দুই বউ নিয়ে আনন্দবিহারে জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। নিজের জীবনের দামে আজ তার শাস্তির পথ নিশ্চিত করে গেলেন ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুন।
এই সমাজ, এই রাষ্ট্র -এমন কারুণ্য লিখে রেখেছে একা নারীর জন্য। পুরুষতন্ত্রের প্রতিভু কাপুরুষেরা ধর্ম, শাস্ত্র ও আইনকে পক্ষে নিয়ে নিজেদেরকে সাধুসন্তু সাজিয়ে রেখে কোমলমতি শিশু ও নারীদের জীবনে নরক নামিয়ে রেখেছে।
গণমাধ্যমগুলো লিখেছে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত) এর দ্বিতীয় স্ত্রী ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুন আ'ত্মহত্যা করেছেন।
আজ সন্ধ্যার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে গলায় ফাঁ'স দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছেছেন। জানা যাচ্ছে চরিত্রের বালাইহীন ওই এমপি তখন ওই ফ্লাটেই ছিলেন।
গেল জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা ৪ আসনের ওই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিকস্খলনের দায়ে বহিষ্কার করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর বাইরে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ কেউ আনেনি। দলের পদ হারিয়ে এমপি পদে বহাল থাকার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনই আইনগত চ্যালেঞ্জ জানায়নি।
একজন এমপির নারী কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও সরকারি পদপদবি ব্যবহারে কোনো অসুবিধা হয়নি। আইনের মুখোমুখিও তাকে হতে হয়নি। এইবার মরিয়ম ইস্যুতে হয়তবা বারবার ধান খেয়ে যাওয়া ঘুঘুকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
বাংলাদেশের পেনাল কোড অনুযায়ী আত্মহননে প্ররোচনা দেয়া ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। দণ্ডবিধির ১৮৬০ অনুযায়ী ৩০৫ ও ১০৭ ধারা প্রযোজ্য হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে এর সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা। নারীটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে ৩০৬ ধারা প্রযোজ্য হতো। যার শাস্তি যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারত।
গাজী নজরুল একেবারে আক্ষরিক অর্থেই পাজি নজরুল। ধরা খাওয়ার পর কিশোরী মরিয়মকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে বিয়ের নাটক করতে ছলচাতুরির সহায়তা নেয়ার অভিযোগও পাজিটার বিরুদ্ধে রয়েছে। মেয়েটি চাকরির জন্য এসেছিল লোকাল এমপির কাছে। আর তথাকথিত লম্পট এমপিটা অবুঝ কিশোরীর নির্বুদ্ধিতার সুযোগ নিয়ে চূড়ান্ত সর্বনাশ করে ছাড়ল।
দাবি করব ন্যায্য আইন গতি পাক। অপরাধী শাস্তি পাক। একজন নিরীহ নারী মরিয়ম খাতুনের জন্য আন্তরিক শোক জানাই। এত অল্পবয়সে এমন ট্রাজেডি শিশুতোষ নারীটির পাওনা ছিল না।🪶
লেখক: সাংবাদিক
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬