গল্প

প্রথমা

September 5, 2026

শাকের আনোয়ার

7
View

ইন্টারমিডিয়েটের পর ইচ্ছা ছিল জার্নালিজম নিয়ে পড়ব। পাবলিকে না হলেও চেয়েছিলাম যেন প্রাইভেটে পড়তে পারি। যেহেতু পড়ার ইচ্ছা, কোথাও পড়লেই হয়। কিন্তু শেষে ঢাবিতেই চান্স পেলাম। আমার মতো এমন ভবঘুরে, যে পড়ালেখায় কোনোকালেই সিরিয়াস ছিল না, তার ঢাবিতে চান্স পাওয়া এবং পছন্দের বিষয়ে, অনেকটা অবিশ্বাসই ছিল। খোদার দুনিয়ায় আশ্চর্যের কতকিছুই তো ঘটে, এটাও হয়তো তেমনই কোনো ঘটনা ছিল।
 

ভার্সিটিতে আসার আগে যেমন অসামাজিক ও ঘরকুণো স্বভাবের ছিলাম, এখনও তেমনই রয়ে গেছি। কারো সাথে আগ বেড়ে কথা বলার স্বভাবও নেই। আড্ডা, খেলাধুলায় যাই না। তবে সাহিত্যচর্চার কল্যানে কিছু বন্ধু-বান্ধব জুটেছে, যাদের সাথে নিয়মিত পাঠচক্র করি, সাহিত্য আড্ডা দিই, পত্র-পত্রিকায় গল্প-কবিতা লিখি। যেমন নীলা, জাবের, শুভ্র, ইবরাহিম, নুসরাত, তারেক, তুহিন ও লামিয়া।

আমাদের নিয়মিত পাঠচক্র হয়। এক সপ্তাহে এক বই নিয়ে আলোচনা হয়। নির্ধারিত আলোচনা শেষ হলে কোনো বিষয়ে কারো মন্তব্য থাকলে মন্তব্য করার সুযোগ থাকে। মাঝেমধ্যে লেখালেখি ছাড়াও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কও হয়। একবার টিএসসিতে পাঠচক্র হলো। পাঠচক্রের আলোচনা শেষে বিতর্ক ওঠে গদ্য কবিতা নিয়ে। বিতর্কের মূল নীলা। সে দাবি করে, “গদ্য কবিতা বলতে কিছু নেই। গদ্য কবিতা কবিতারই অন্তর্ভুক্ত নয়। যারা গদ্য কবিতা লেখে তাদেরকে আমি কবিই মনে করি না…।”

আমি নীলাকে থামিয়ে বঙ্কিমের কথা দিয়ে শুরু করি— “কবিতা যে পদ্যেই লিখিত হইবে, তাহা সঙ্গত কি না আমার সন্দেহ আছে। ভরসা করি অনেকেই জানেন যে কেবল পদ্যই কবিতা নহে।”

বললাম, বঙ্কিম যেখানে কবিতাকে পদ্যেই লিখতে হবে এই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং বেশকিছু গদ্য কবিতা লিখেছেনও, সেখানে তুমি কীভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দাও। বঙ্কিমের চেয়ে এক ধাপ বেশি বোঝো?

বলতে থাকলাম, দেখ— গদ্য কবিতা কে লিখেনি? রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছেন, শঙ্খ ঘোষ লিখেছেন, শামসুর রাহমান তো গদ্য কবিতাই লিখলেন সারাজীবন। আল মাহমুদ লিখেছেন, বিনয় মজুমদার লিখেছেন, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ লিখেছেন, সুকান্ত লিখেছেন। আরো অনেকেই লিখেছেন। সেখানে তুমি স্বীকার না করলে সাহিত্যের যেমন কিছু এসে যায় না, কবিদেরও কিছু এসে যায় না।

শোন, যাঁরা গদ্য কবিতা লিখেছেন, তাদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন পদ্য কবিতার লিখে এক সময় গদ্য কবিতা লিখেছেন, কিংবা মাঝেমধ্যে লিখেছেন। সর্বোপরি শুধুই গদ্য কবিতা লিখেছেন এমন কবির সংখ্যা কম। তুমি গদ্য কবিতা পছন্দ না করলে না লিখতে পার। তবে অস্বীকার তো আর করতে পার না।

সবাই চাওয়াচাওয়ি করছে। একবার আমার দিকে আরেকবারে নীলার দিকে। ওরা কি দ্বিধায় পড়ে গেছে কাকে সঠিক বলবে? আমার কিছুটা অপরাধবোধ হলো এইজন্য, নীলা কথা শুরু করার পর ওর কথা হয়তো শেষ হয়নি তার আগেই ওকে থামিয়ে বক্তৃতা শুরু করেছি। যদিও আমি কথা শুরু করার পর ও চুপ করে গেছে। । তবুও অপরাধবোধ মনটাকে কুড়িয়ে আরোখানিক তর্ক-বিতর্কের পর সেদিনের পাঠচক্র শেষ হয়।

পরদিন ক্লাসে নীলাকে পেলাম। ডাকার পর কোনো উত্তর দিল না। চেহারায় কিছুটা রাগের ছাপ দেখা গেল। এই অভিমান কি আমার সাথে গতকালের বিতর্কের কারণে না অন্য কোনো ঘটনার কারণে বুঝলাম না। প্রতিদিনই ক্লাস করতে আসে আবার চলে যায়। অপরিচিতের মতো কোনো কথা বলে না। আমাদের পাঠচক্র নিয়মিত চলে, সাহিত্য আড্ডা হয়, কিন্তু নীলা উপস্থিত হয় না। অথচ এক সময় নীলার সাথে কত কথা হতো— সাহিত্য, রাজনীতি, ইতিহাস বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ সময় তর্ক-বিতর্ক হতো!

একদিন তারেক এসে জিগ্যেস করল, শাকের, ১৯ তারিখে তো তোর বেস্টফ্রেন্ড নীলার জন্মদিন, এই উপলক্ষ্যে ওকে কী গিফ্ট দিবি?

—গিফ্ট দিব কেন? আর নীলা আমার বেস্টফ্রেন্ড তোকে কে বলছে? ও তো আমার সাথে কথাই বলে না। দেখিস না এখন সাহিত্য আড্ডায় আসে না, পাঠচক্রে আসে না, ক্লাসে আসলেও দেখা করে না।

—অভিমান করছে ভালো, কিন্তু তোর তো দায়িত্ব অভিমান ভাঙানো। আর ওদের মুডসুইং বেশি হয় তা তো জানিসই। দেখবি হুট করে অভিমান ভুলে যাবে। তুই স্পেশালি বাড্ডে উপলক্ষ্যে কিছু গিফ্ট দে। ও সারপ্রাইজড হয়ে যাবে নিশ্চিত।

—কালকে একসময় দেখা করিস তাহলে, পরামর্শ করব কী দেওয়া যায়।

—আচ্ছা।

পরদিন তারেকের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করলাম কী কী উপহার দেওয়া যায়। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত শামসুর রাহমান রচনাবলি, আহমদ ছফার ছোটগল্প, আর কয়েকটা সাহিত্য সাময়িকী দেওয়ার পরিকল্পনা করলাম। শামসুর রহমান অবশ্য ওর প্রিয় লেখক। শামসুর রাহমানের বহু কবিতা ও আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছে।

১৯ জুন জন্মদিনে লামিয়াকে দিয়ে আমার উপহারগুলো নীলার কাছে পাঠাই। সাথে একটি চিরকুট লিখে দিই। চিরকুটে লিখি—

“আসসালামু আলাইকুম, নীলা। আশা করি ভালো আছো। শুরুতেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিও।

তোমার জন্মদিন উপলক্ষ্যে কয়েকটা বই পাঠিয়েছি। তোমার প্রিয় লেখক শামসুর রাহমানের রচনাবলি, আহমদ ছফার ছোটগল্প আর কয়েকটা সাময়িকী। হয়তো তুমি সারপ্রাইজড হবে; কিংবা হবে না। সরাসরি আমি দিলেই হয়তো আমি খুশি হতাম। কিন্তু তোমার অভিমানের জন্য কী করব! তাই বাধ্য হয়ে লামিয়াকে দিয়েই পাঠাতে হলো।

নীলা, সেদিনের সামান্য বিতর্ক থেকে তুমি এমন অভিমান করবে কে জানত। আমি কি তোমাকে অভিমান করার মতো কিছু বলেছি? সুদ্ধসুদ্ধি ভুল বুঝে অভিমান করলে!

সাপ্তাহিক সাহিত্য আড্ডায় তোমাকে মিস করি। অপেক্ষা করি, তুমি আসবে। কিন্তু আসো না। ক্লাসে এলেও কথা বলো না। যাই হোক, আগামীকাল এলে দেখা করিও। আবারও জন্মদিনের শুভেচ্ছা।”

শাকের আনোয়ার

জগন্নাথ হল

পরদিন ক্লাসে যাওয়ার জন্য হল থেকে মাত্রই বেরিয়েছি। অমনি নীলার সাথে দেখা। চাতক যেভাবে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকে, আমি কি তেমন অপেক্ষায় ছিলাম নীলার? মনে হয় ছিলাম। নীলা সামনে আসতেই ওর জলে টলটলায়মান চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। ওর মুখে রা নেই। আমিও নিশ্চুপ। দুজন দুজনের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকলাম এক মুহূর্ত। মনে হলো আমাদের যেন এক শতাব্দী কাল পর্যন্ত দেখা হয়নি।

খানিক পর নীরবতা কাটিয়ে বললাম, চলো নীলা, ভেতরে বসি।

জিগ্যেস করলাম—

—নীলা কেমন আছো?

—ভালো, কিন্তু তুমি?

—আমি সবসময় ভালো থাকি নীলা।

—শাকের, জানি তুমি কষ্ট পেয়েছ। না বুঝে কষ্ট দেওয়ার জন্য ক্ষমা করে দিও।

—অসুবিধা নাই নীলা, আমি কষ্ট পাইনি। আমার কষ্ট দেওয়ার কারণেই বরং তুমি অভিমান করেছো, ক্ষমা তো আমার চাওয়া প্রয়োজন।

—অতীত ভুলে যাও শাকের, যা হওয়ার হয়েছে। আমরা এবার একত্রে কাজ করতে চাই। ওইদিন লামিয়াই মনে হয় বলল, তোমরা না কি অগ্রণী নামে একটা সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছো ফোরাম থেকে। ভেরি গুড ডিসিশন। অগ্রণী প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত শুরুশেষ তোমাকে সাহায্য করার জন্য যে কোনো সময় আমি প্রস্তুত।

—তুমি থাকলে অবশ্যই আমাদের জন্য কাজ করা সহজ হবে। আবার উভয়জনের চিন্তা আদান-প্রদানেরও সুযোগ হবে।

—অবশ্যই। ঠিক বলেছ।

নীলা, অগ্রণীর প্রথম সংখ্যার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কিছু লেখাও সংগ্রহ করেছি। আরো কিছু বাকি আছে। পাশাপাশি সম্পাদনা এবং বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্যও দৌড়াদৌড়ি চলছে। যদিও আমাদের নামধামহীন পত্রিকায় কেউ বিজ্ঞাপন হয়তো দেবে না, তার ওপর এটাই প্রথম সংখ্যা; কিন্তু খরচ তো ওঠাতে হবে কোনোভাবে। একেবারেই অপারগ হলে তখন হয়তো বন্ধু-বান্ধবদের থেকে চাঁদা উঠিয়ে প্রকাশ করতে হবে। যেহেতু কাজ হাতে নিয়েছি, অন্তত একটি সংখ্যা হলেও প্রকাশ করব এমন সংকল্প আমাদের। যে কোনোভাবেই হোক, কাজ শেষ করা চাই। এবার তোমরা যদি সাথে থাকো, তবেই কাজটা শেষ হবে।

—অবশ্যই, আমরা তোমার সাথে থেকে কাজটা শেষ করব। তুমি চিন্তা কোরো না।

—আচ্ছা নীলা, ঠিক আছে। তোমরা থাকলে আমার কোনো চিন্তা নাই।

পাঠককে বলে রাখি, অগ্রণীর সম্পাদনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ফোরাম থেকে আমাকে দেওয়া হয়। সম্পাদনায় সহযোগী হিসাবে নীলা আর জাবেরকে আমার সাথে রাখি। আর অন্যান্য কাজ বাকিদের মধ্যে বণ্টন করে দিই। সার্বিক তদারকির দায়িত্ব দিই শুভ্র ও ইবরাহিমকে, লেখা সংগ্রহের দায়িত্ব নুসরাত আর তারেককে। আর বিজ্ঞাপন সংগ্রহের দায়িত্ব তুহিনকে এবং ক্যাম্পাসে প্রচারের দায়িত্ব তুহিন ও লামিয়াকে দিই।

লেখা সংগ্রহ শেষ হলেও আমাদের নামধামহীন ম্যাগাজিনে কোনো বিজ্ঞাপন পাওয়া গেল না। তুহিনের কয়েকদিনের দৌড়াদৌড়ি বৃথা যায়। আমিও পরিচিত কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তাদের প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য, কিন্তু পরে তারা আর কল ধরে না। সরেজমিনে কাজ করে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো, কিছুটা কষ্ট লাগা খুবই স্বাভাবিক। তবে আমরা হতাশ নই। কীভাবে শেষ করা যায় দেখি।

লেখা সম্পাদনা শেষ করে প্রচ্ছদ ও সেটআপও শেষ হলো। প্রচ্ছদ করেছে শুভ্র। আর সেটআপ জাবের করে দিয়েছে। এবার ছাপার পালা। দুই ফর্মার অগ্রণী নিউজপ্রিন্টে ছাপালে হিসাব করে দেখলাম ছয় থেকে সাত হাজারে তিনশ কপি করা যাবে। কেউ টিউশনির টাকা দিল, কেউ লেখালেখির টাকা থেকে দিল। আমি সম্প্রতি একটা গল্প লিখে দুই হাজার টাকা সম্মানী পেয়েছিলাম তা দিয়ে দিলাম। অগ্রণী অবশেষে আলোর মুখ দেখল।

কিন্তু অগ্রণী প্রকাশ হওয়ার পর কিছু হিংসুকের কবলে পড়তে হয় আমাদের। তিলকে তাল করে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের ব্যাপারে অপপ্রচার করে। প্রশাসনকে জানায়, আমরা নাকি সরকারের বিরুদ্ধে লিখেছি। দেশের স্বাধীন গণতন্ত্রকে অস্বীকার করেছি। সরকারকে স্বৈরাচার বলেছি। যদিও এটা মিথ্যা ছিল না। তুহিনের প্রবন্ধে বাংলাদেশের আলোকে গণতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের বিশ্লেষণে ক্ষমতাসীন সরকারের কথা এসেছিল। সে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, ‘বর্তমান বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার গণতন্ত্র গণতন্ত্র জপ করলেও দেশে গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক অধিকার বাকস্বাধীনতা নেই। নাগরিকদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। স্বাধীনভাবে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের অধিকার নেই। ফলে একে গণতন্ত্রের চর্চা কোনোভাবেই বলার সুযোগ নেই। বরং এসব তো স্বৈরতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের নিদর্শন।’ এই বাস্তবতা আমাদের কিছু ক্লাসমেট, যারা ছাত্রলীগের রাজনীতি করে, তারা মেনে নিতে পারে না। এরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিলকে তাল করে আমাদের বিষয়ে অপপ্রচার করে। ক্লাস শেষে আমাদেরকে অফিসে ডাকা হয়। ভিসি স্যারসহ সব ফ্যাকাল্টির টিচাররাও উপস্থিত হয়েছেন আমাদের বিষয়ে কী করা যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য। ভিসি স্যার প্রথমেই বললেন, 

“আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এরা একটা সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করেছে, যার মাধ্যমে ওরা স্টুডেন্টদের মধ্যে সরকারের প্রতি বিদ্বেষ ও অপপ্রচার ছড়িয়ে চলেছে। এবং ধীরে ধীরে অনেক ছাত্রকে নিজেদের চিন্তায় প্রভাবিতও করছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার বিরোধী রাজনীতির কোনোই অনুমতি নেই। রাজনীতি করতে হলে সরকারের পক্ষেই করতে হবে। এই অবস্থায় এই স্টুডেন্টদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আপনাদেরকে ডাকা হয়েছে। সবাই একে একে নিজেদের মতামত প্রকাশ করুন।”

চারুকলার আব্দুল লতিফ স্যার বললেন, ওদের সাহিত্য ফোরাম নিষিদ্ধ করে এইবারের মতো ক্ষমা করে দেন।

সাইন্সের তাহের স্যার বললেন, সরকার দেশে এত উন্নয়ন করার পরও কেন সরকারের পেছনেই এরা লাগতে যাবে, এরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। এদেরকে বহিষ্কার করাই ভালো হবে। নইলে এদেরকে দেখে আরো শিক্ষার্থীরা বিপথে যাবে।

আরো টিচাররা কেউ পক্ষে কেউ বিপক্ষে বললেন।

সবার আলোচনা শুনে ভিসি স্যার আমাদেরকে বললেন, তোমরা যেই অপরাধ করেছ, যদিও তা তোমাদের ছাত্রত্ব বাতিলের জন্য যথেষ্ট; কিন্তু তোমাদের ভালো চেয়ে বলছি, অভিযুক্ত প্রবন্ধটা তোমরা ঘোষণা দিয়ে দায়মুক্তি ঘোষণা করো, এবং পরবর্তী সংখ্যায় তা ঘোষণা দিয়ে দিতে পারো। আমরা সবাই পরামর্শ করে স্যারকে জানাই, আমরা যেহেতু অসত্য কিছু বলিনি, তাই দায়মুক্তিও ঘোষণা করতে পারব না। যদি দায়মুক্তি ঘোষণা করি, তাহলে প্রমাণিত হবে আমাদের অবস্থান সঠিক নয়। অথচ আমাদের অবস্থান একবিন্দুও ভুল নয়। স্যার আমাদেরকে বললেন, তোমরা আপাতত যাও। পরে সিদ্ধান্ত হবে। পরদিন নোটিশে জানানো হলো,

“সরকার বিরোধী অপপ্রচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শ ও আইন লঙ্ঘনের অপরাধে শাকের আনোয়ার (জার্নালিজম ২০২৩-২০২৪), একই ব্যাচের নীলা ইয়াসমীন ও জাবের আব্দুল্লাহ, শুভ্র আহমেদ (চারুকলা ২০২৪-২০২৫), ইবরাহিম হোসেন (আরবি ২০২২-২০২৩), তানিয়া নুসরাত (সায়েন্স ২০২৪-২০২৫), তারেক খান, তুহিন আহমেদ শান্ত ও লামিয়া (অ্যাকাউন্টিং ২০২৪-২০২৫) প্রমুখ শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হলো।”

—বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রাজনৈতিক রোষানলে পড়ে আমাদেরকে বহিষ্কার হতে হলো। তাদের এহেন সিদ্ধান্তে আমরা নিশ্চুপ হয়ে গেলাম। তবু অসত্যের কাছে মাথানত করিনি, তাদের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অঙ্গুলিনির্দেশ করে কথা বলেছি, এইই আমাদের সাহস, এইই আমাদের শক্তি।

Comments

    Please login to post comment. Login