পাহাড়ের গিরিপথ ধরে হাঁটতে থাকেন কমান্ডার ইয়াসির আরাফাত। চারপাশে সবুজ-শ্যামল বৃক্ষ আর তরুলতার সমারোহ। লতাপাতায় ছেয়ে যাওয়া পাহাড়কে মনে হয় যেন শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা উদ্যম-উচ্ছল কিশোরী। অপরূপ দৃশ্যে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। এক লহমা তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে প্রকৃতির পানে। তবু ইয়াসিরকে হাঁটতে হয় নিজের ইচ্ছা উপেক্ষা করে। এদিকে মার্কিন সেনাদের সতর্ক অবস্থান। সামান্য উনিশ-বিশ হলেই হয়তো ওরা দেখে ফেলবে। তাকে চলতে হবে অতিসতর্কতার সাথে। কোনো অবহেলাই করা যাবে না, পথ যতই বন্ধুর হোক, যতই প্রতিবন্ধকতা থাকুক।
আঠারোজন সেনা সাথে নিয়ে সেই ফজরের নামাজ পড়ে বেরিয়েছিলেন ইয়াসির আরাফাত। পথ চলতে চলতে অনেক সময় গড়িয়েছে। পূবের সূর্য এসে দাঁড়িয়েছে মাথার ওপরে। জগতের ক্লান্তি তো পেয়েছেই; সাথে ক্ষুধাও লেগেছে ঢের। এবার কোথাও কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে —ভাবতে ভাবতে কোনো গলিপথ খুঁজতে খুঁজতে চলতে থাকেন ইয়াসির ও তার সহকর্মীরা। যেতে যেতে বাঁ দিকে সরু একটি গলিপথ তারা পেয়েও যান। গলিপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটি গ্রামে পৌঁছেন। গ্রাম বলতে সর্বোচ্চ পনেরো থেকে বিশটি বাড়ি এতটুকুই। ইয়াসির আশেপাশে একবার সতর্কতাস্বরূপ দেখে নিয়ে তার মোবাইলে একটি গোপনীয় অ্যাপ দেখতে থাকলেন। এই অ্যাপটিতে সকল বাড়ির নাম্বার অনুযায়ী ডাটাবেইজ সংরক্ষণ করা আছে কারা তালেবান সরকারের পক্ষে আর কারা মার্কিন সরকারের পক্ষে। এমনকি লোকেশন অপশনও রাখা হয়েছে অ্যাপটিতে। ইয়াসির লোকেশন চালু করে নিশ্চিত হয়ে নিলেন এখানকার বাড়িগুলো তালেবান সরকারের পক্ষেই। এবং মার্কিনিদের কোনো ক্যাম্পও আশেপাশে নেই —অ্যাপেই দেখে নিলেন ইয়াসির। ইয়াসির একটি বাড়ির দরজায় কড়া নেড়ে উচ্চস্বরে সালাম দিলেন। সালামের উত্তর শোনা গেল না। তবে কিছু একটার আওয়াজ শোনা গেল। ইয়াসিররা ভাবলেন, হয়তো এই বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই তাই উচ্চকন্ঠে কেউ সালাম নেয়নি। তবে যেহেতু উত্তরে আওয়াজ এসেছে, কোনো নারী থাকতে পারে। অথবা হতে পারে কোনো নারীও নেই। এম্নিই কোথাও কোনো শব্দ হয়েছে যাকে তারা ভেতর থেকে আসা সালামের উত্তর ভেবে বসেছেন। কিংবা মনের হেঁয়ালি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। তারা ফিরে যাবেন এমন সময় দরজা খুলল। কিশোরী একটি মেয়ে তাদেরকে স্বাগত জানিয়ে বলল—
আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম নুরিন। আপনারা কেমন আছেন? আম্মু আপনাদেরকে ভেতরে যেতে বলেছেন। চলুন, ভেতরে বসুন।
ইয়াসির যেহেতু এখানে দলপ্রধান—সামনে গিয়ে আমতা আমতা করে বললেন:
—আমরা একটু বিশ্রাম নিয়েই চলে যাব। তোমাদের অসুবিধা হবে না আশা করি।
—কোনো অসুবিধা নেই। আপনারা প্রথমে মুখহাত ধুয়ে পশ্চিম পাশের রুমে বসুন। আম্মু আপনাদের সাথে কথা বলবেন।
ইয়াসির-সহ একে একে সবাই হাতমুখ ধুয়ে আসতে আসতে দেখলেন টেবিলে রুটি-গোশত রেখে গেছেন নুরিনের আম্মা। সবাই চেয়ারে বসলেন। যদিও স্বাভাবিক আহার। তবু মুজাহিদদেরকে খাইয়ে মহিলা নিজেকে ধন্য মনে করছেন। ওরা বসার পর বলে উঠলেনও:
—হঠাৎ করে আপনারা আসবেন সে তো জানতাম না। যা রান্না করা ছিল তাই দিলাম।
কিছুটা লজ্জা নিয়েই বোধহয় এ কথা বললেন তিনি। এবার এদের মধ্য থেকেও একজন বলল:
—আমরা সাথে ছাতু নিয়ে এসেছি পথে প্রয়োজন হলে খাওয়ার জন্য। রুটি আপনাদের জন্য রেখে দিলে আমরা খুশি হব। আমরা ছাতু খেয়ে নিলেই হবে।
—প্রয়োজন হলে আবার রান্না করা যাবে। তোমরা আগে খেয়ে নাও। বিশ্রাম করো।
এবার ইয়াসির আগ বাড়িয়ে মহিলাকে জিগ্যেস করলেন—
এদিকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন?
—এদিকের নিরাপত্তা এখন ভালো অবশ্য। তবে মাস দুয়েক আগে এমন ছিল না। উত্তরদিকে যে উঁচু বাড়িটি দেখা যাচ্ছে, তার পূর্ব পাশে মার্কিনিদের ক্যাম্প ছিল। যা তারা উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তা ছাড়া বিক্ষিপ্ত দুয়েকজন সেনা থাকার সম্ভাবনাও নেই —মুজাহিদদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় এখন মার্কিনিদের টেকা মুশকিল হয়ে পড়ছে। আলহামদুলিল্লাহ।
—আলহামদুলিল্লাহ। তাহলে তো ভালোই। যতক্ষণ এ এলাকায় আছি আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি।
—অবশ্যই। আল্লাহ ভরসা।
—আমরা সামনেই কালাতই খালজি যাব। কালাতই খালজি বিজয় হলে রাজধানী কাবুলের উদ্দেশে রওনা হব। আমাদের মতো আরো বেশকিছু ছোট ছোট দল এভাবে যুদ্ধ করতে করতে আসছে। সবাই গিয়ে কাবুলে মিলিত হব— আল্লাহ যদি তাওফিক দেন।
—ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তোমাদের সাথেই থাকবেন। তোমাদের সাথে না থাকলে আর কার সাথেই বা থাকবেন। তোমরা তো তাঁর উদ্দেশেই এবং তার সন্তুষ্টিকামনার লক্ষ্যেই তাঁর জমিনে ইসলাম কায়েম করার সংগ্রাম করে যাচ্ছ। অবশ্যই আল্লাহ রহমত তোমাদের সাথে থাকবে। তোমাদের জন্য দোয়া করি।
—অবশ্যই। তা তো আমরা আশা করি নিশ্চয়ই। আল্লাহ আমাদের সাথেই থাকবেন।
কথা বলতে বলতে খাবারও প্রায় শেষ হয়ে আসে। ইয়াসির একবার ভাবেন তাদের পরিবারে কোনো পুরুষ আছে কিনা জিগ্যেস করবেন। করবেন করবেন করেও যখন তিনি দ্বিধান্বিত, তখন হঠাতই নুরিনের মা বলে উঠলেন—
নুরিনের আব্বু এবং বড় দুই ভাই আছে। তারা ময়দানে জিহাদে রয়েছে। অবশ্য ওর আব্বু ডান পা হারিয়েছেন আরো আগে। তবু তাঁর কথা হলো আফগানিস্তান যতদিন স্বাধীন হচ্ছে না, আমাদের বিরাম নেই, আমরা ক্ষান্ত হব না। তিনি বাড়িতেও কদাচিৎ আসেন। আবার ফিরে যান। বাজার সদাই তথা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপাতি গ্রামের ইমাম সাহেব এনে দেন। তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে এখানকার প্রত্যেকটি বাড়িতে খোঁজ-খবর নেন। কারো কোনো প্রয়োজন থাকলে তা পূরণ করেন। বাজার-সদাই কিছু লাগলে এনে দেন। ফলে অসুবিধা হয় না।
খাবার শেষ হয়ে এলে ইয়াসির নুরিনের আম্মাকে বিদায় জানিয়ে দীর্ঘ পথের কথা জানান। সালাম দিয়ে বিদায় নেন।
ইয়াসিররা আবার পথ চলতে শুরু করেন। পাহাড়ি বন্ধুর পথ, উঁচু-নিচু, সেইসাথে বিভিন্নরকম বন্য গাছে অন্ধকারে ছাওয়। তাঁদের চলতে কষ্ট হয়। কিন্তু এই তো তাঁদের সুমহান ব্রত। জগতের ক্লান্তি-অবসাদ ভুলে সেই গুরুদায়িত্বে প্রাণপণ প্রচেষ্টা করার শপথ নিয়েই তাঁরা যুদ্ধে এসেছে। তাঁরা অবিরাম চলতে থাকে। ক্লান্ত হলেও সবাই ক্লান্তি ভুলে হাঁটতে থাকে, সন্ধ্যার আগেই তাঁদেরকে স্থানীয় ক্যাম্পে গিয়ে পৌঁছাতে হবে। ইয়াসির তাঁর সাথীদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন,
প্রিয় ভাইয়েরা, আমরা আশা করি সন্ধ্যার আগে নিকটবর্তী ক্যাম্পে পৌঁছাতে পারব। আপনারা ধৈর্য ধরে হাঁটতে থাকুন। নইলে এই অনিরাপদ জায়গায় বিশ্রাম নেওয়া আমাদের জন্য নিজেদেরকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে। আমরা তো শুধু আমাদের জন্যই না যে, মরে গেলে আমাদের কোনো দায় নেই। আমরা তো পুরো জাতির স্বাধীনতার মহান গুরুদায়িত্ব নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছি। অতএব আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করেই দেশের মানুষ ও দেশকে স্বাধীন করার জন্য আমরণ লড়াই করে যেতে হবে।
সাথিরা ইয়াসিরের কথায় সাড়া দেন। তারা নিজেদেরকে বুঝিয়ে হাঁটতে থাকেন কমান্ডারের কথামতো। তাঁরা হাঁটতে থাকেন। দীর্ঘ হণ্টনের পর ক্যাম্পে এসে পৌঁছেন। তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। এশার সময় হয়ে গেছে। তারা ক্যাম্পের কাছে এসে বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে ক্যাম্পে পৌঁছানোর খবর ভেতরে পাঠান। নইলে যতই উচ্চপদস্থ কমান্ডার ও নেতৃত্বই হোক না কেন, বিশেষ নিয়ম রক্ষা করে ও নির্ধারিত জায়গা থেকে যোগাযোগ না করে গেলে ক্যাম্পে প্রবেশের সুযোগ নেই। ক্যাম্পে প্রবেশ করতে মূল ফটক ছাড়াও আরো তিনটি দরজা পেরোতে হয়। মূলত নিরাপত্তার জন্যই তারা এভাবে ব্যবস্থা করেছেন। তারা এশার নামাজ পড়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন ইয়াসিররা শুনতে পান এক দুঃখজনক সংবাদ। যে নুরিনদের বাড়িতে তারা কিছুক্ষণের জন্য গিয়েছিলেন, ঠিক তারা চলে আসার পর গত রাতে নুরিনের মা-সহ বাড়ির সবাইকে মার্কিন বাহিনি ধরে নিয়ে গেছে বিদ্রোহীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে। নিশ্চয়ই স্থানীয় কোনো গুপ্তচর তাদের এই বাড়িতে অবস্থানের সংবাদ মার্কিন বাহিনীকে দিয়েছে। এই সংবাদ শুনতেই ইয়াসির ও তার সাথিরা নিজেদেরকে খুব অপরাধী মনে করেন। তারা না গেলে হয়তো নুরিনদের পরিবারকে এভাবে আটক হতে হতো না। কিন্তু এখন নিজেকে অপরাধী মনে করেই কী লাভ, অথবা গুপ্তচরদের অভিশাপ দিয়েও লাভ কী—যা হবার হয়ে গেছে। এখন এই বিষয়ে কোনো কাজ করারও সুযোগ তাদের হাতে নেই যে, নুুুরিনদের পরিবারকে মুক্ত করার জন্য কিছু করবে। তারা সবাই মিলে শলাপরামর্শ করে, যেই গুপ্তচররা তাঁদের গতিবিধি লক্ষ্য করে একটি পরিবারকে মার্কিন বাহিনীর হাতে তুলে দিল সেই গুপ্তচরদের নজরদারি থেকে নিশ্চয়ই তারাও মুক্ত নয়। একবার মনে হয় তাদের ১৬ জনের মধ্যেই কেউ গুপ্তচরবৃত্তি করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো পাচার করছে কি না; কিন্তু কারো প্রতিই ইয়াসির নিশ্চিত হতে পারেন না। তিনি তার বিশেষ সহযোগী খালিদ ও মোহাম্মদের সাথে একান্ত পরামর্শ করেন। তবুও কোনো সিদ্ধান্ত স্থির হয় না। তারা তিন জন মিলে সকল সদস্যকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। তারা তিনজন বাকি ১৪ জনের ওপর বিশেষ নজরদারি করেন। নজরদারির দায়িত্ব এভাবে ভাগ করেন, যেন সবসময় অন্তত দুজন জাগ্রত থেকে পাহাড়া দেয়। একজন ঘুমায়। তার ঘুম শেষ হলে আরেকজন ঘুমায়। যেন একজনের চোখ ফাঁকি দিলেও দুজনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ অস্বাভাবিক কোনো আচরণ করতে না পারে। কিন্তু এমন নজরদারিতেও তাঁরা কারো ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেন না। অথচ তাদের সবসময়ের তথ্য মার্কিন বাহিনীর হাতে চলে যাচ্ছে তৎক্ষণাৎ। ইয়াসির ও তার সহকারীরা স্থির করতে পারেন না কী করবেন।
পরদিন সকালে তারা ক্যাম্প থেকে কালাতই খালজি অভিমুখে রওনা হন। ইয়াসির দুই রাকাত নামাজ পড়ে সবাইকে নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। বলেন—
“হে আল্লাহ, আমাদের এত শ্রম, নির্ঘুম রাত্রিজাগরণ, নাওয়া-খাওয়াবিহীন পথেপ্রান্তরে দিন কাটানো, এত অজস্র মানুষের রক্ত ও হতাহত হওয়া তুমি বৃথা যেতে দিও না। আমাদের মাধ্যমে হোক অথবা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের মাধ্যমে হোক তুমি এই জাতিকে এই দেশকে মুক্ত করবে আমরা জানি। কারণ তোমার ওয়াদা মিথ্যা হয় না। আমরা আজ মার্কিন বাহিনীর হাতে সবাই শহীদ হলেও এই শাহাদাত বৃথা যাবে না। বরং অজস্র শহীদের রক্ত রক্তের সাগরে পরিণত হওয়ার পর হয়তো তুমি আমাদের শাহাদাত কবুল করবে। তা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু বাহ্যিক দৃষ্টিতে এভাবে আরো মানুষদের মতো শহীদ হওয়ায় তো আমাদের আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থতা মনে হয়, আমরা যে তোমার অতিধৈর্যহীন ও অতিদুর্বল সৃষ্টি। তুমি আমাদের হাতেই এই জাতিকে ও এই দেশকে স্বাধীন করো। আমাদের আর পরীক্ষা নিও না। তোমার পরীক্ষার প্রতি নিরাশ হয়ে এই জাতি তোমাকে ভুলেও বসতে পারে, তখন তোমার পথে যুদ্ধ করার মতো মানুষ থাকবে না, তোমার পথে মানুষকে ডাকবে এমন কেই থাকবে না। তুমি আমাদের নিরাপত্তা দাও। আমাদের দোয়া কবুল করো।”
সবাই সমস্বরে ‘আমীন’ বলেন। ইয়াসির চোখের জল মুছে মুনাজাত শেষ করেন। এবার আবার পথ ধরতে হবে কালাতই খালজির। ভোরের আবছা অন্ধকার থাকতেই বেরিয়ে যেতে হবে ইয়াসিরদের। যত দেরি হবে ভয় তত বেশি।
ভোরের আবছা আলোয় ইয়াসির তার ১৬ জন সেনাদসদ্য নিয়ে বেরিয়ে পড়েন কালাতই খালজির উদ্দেশে। গ্রামের মানুষজন এখনও ঘুম থেকে ওঠেনি। পাহাড়ি জঙ্গল থেকে বিভিন্ন পশু-পাখির কলকোলাহল ও কিচির-মিচির শোনা যাচ্ছে। যেন তারা মানুষকে ভোর হওয়ার জানান দিচ্ছে। সবার শরীর ক্লান্ত। পর্যাপ্ত ঘুম হয়নি। ইয়াসির ও সহকারীরা তো রাতে ঘুমাননিই। সকল ক্লান্তি ও ঘুম উপেক্ষা করে তারা হাঁটতে থাকেন। জাবুলের পাহাড়ে ঢুকতেই ইয়াসিররা বুঝতে পারেন তারা এখন আর স্বাধীন নেই, তারা কারো নজরদারিতে। হয়তো শত্রুরা এখানে চারদিক থেকেই ওঁৎ পেতে আছে। এই মুহুর্তে সামনে যাবেন না কী করবেন ভেবে পান না ইয়াসির। তিনি সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন এবং শত্রুদের কাউকে দেখলেই গুলি নিক্ষেপের নির্দেশ দেন। কিন্তু শত্রুরা পাহাড়ের ওপরে নির্জন জায়গায় নিরাপদে ওত পেতে আছে। তাদেরকে নিচ থেকে দেখা যায় না সহজেই। তবুও তারা এলোপাতাড়ি গুলি নিক্ষেপ করতে থাকেন অনুমান করে। পাহাড়ের ওপর থেকেও শত্রুরা লাগাতার গুলি বর্ষণ করতে থাকে। তাদেরকে মোকাবেলা করার অসুবিধা ছিল শত্রুরা ওপরে থাকায় তাদেরকে দেখা যাচ্ছিল না। এভাবে অসম যুদ্ধে এক পক্ষের ক্ষতি বেশি হয়। প্রাণপনে লড়াই করে তারা সামনে যেতে থাকেন। হঠাৎই লাগাতার মাইন বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। স্থলে মাইন স্থাপন করে শত্রুরা পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি বর্ষণ করছে মুজাহিদদের এখানেই শেষ করে দেওয়ার জন্য। একে একে সবাই শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। তৈরি হয় একটি ব্যর্থতার কাহিনি, অথবা সফলতার সূচনা।