গল্প

কতটুকু স্মৃতি বেঁচে রইল!

September 5, 2026

Abu Hanif

Original Author মোঃ আবু হানিফ

148
View

জীবন সংসারে অদ্ভুত শূন্যতার  ক্যানভাসে দাড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসিত হই কতটুকু স্মৃতি বেঁচে রইল। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মানুষ চলে যায়, চারপাশের চেনা জগৎও কেমন যেন অচেনাভাবে বদলে যায়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারাতেও বয়সের দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ বেলায় এসে আমাদের অহংকার, আমাদের প্রাপ্তি, আমাদের সম্পদ— সব কিছুই অর্থহীন হয়ে পড়ে। তখন শুধু বেঁচে থাকে টুকরো টুকরো কিছু রোমন্থর  আওড়ানো স্মৃতি। শৈশব ফুরিয়ে যৌবন ও বৃদ্ধকালের অনন্ত অবগাহনে সময় এক নির্মম স্রোতস্বিনী। তার বুকে আমরা প্রত্যেকেই এক একটি নামহীন অচেনা তরী, নিয়তির অমোঘ টানে ভেসে চলেছি এক অনিশ্চিত মোহনার পানে।

এই চঞ্চল জীবন-নদীতে আমাদের সবচেয়ে আপন সঞ্চয় হয়তো স্মৃতি। অথচ, গোধূলির আবছা আলোয় যখন জীবনের জীর্ণ খাতাটি খুলে বসা হয়, তখন বুকের ভেতর থেকে একটি দীর্ঘশ্বাসই কেবল দীর্ঘায়িত হয়। শৈশবের সেই দিনগুলো, যা আজ কুয়াশাচ্ছন্ন এক রূপকথার গল্প। ধূলিমলিন চরণে চঞ্চল ছুটে চলা, নিছক কারণে মেঘমুক্ত আকাশের মতো অমল অট্টহাসি, আর প্রথম কদম ফুলের ঘ্রাণে বর্ষার আগমনী বার্তা। সেই তীব্র, সজীব অনুভূতিগুলো আজ মহাকালের কোন এক অতল গহ্বরে হারিয়ে গেল। নাগরিক জীবনের রূঢ় সমীকরণে, বেঁচে থাকার ক্লান্তিকর সেই সোনালী অধ্যায় আজ বিবর্ণ ও ধূসর। স্মৃতির মণিকোঠায় তারা এখন আর জীবন্ত কোনো ছবি নয়, বরং দূর আকাশে আবছা আলোয় নিবু নিবু করে বেঁচে থাকা এক নক্ষত্র। ছোঁয়া যায় না, দেখা যায় না, শুধু অনূভবের এক অপার্থিব বেদনায় মনটাকে আর্দ্র করে দিয়ে যায়।

মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কত আয়োজনই না করে! দীর্ঘ জীবন চাওয়াতে তো কোনো অপরাধ নেই। বেঁচে থাকতে চাওয়াটাও মানুষের স্বাভাবজাত চাহিদা। অথচ সেই মানুষটিই হয়তো জানে না—তার জীবনের ক্যালেন্ডারে আজকের দিনটির পর আর কোনো দিন বা তারিখ লেখা আছে কি না? জীবনটা আসলেই এমন! আমরা মানুষকে খুব সহজেই বিচার করি। কে ভালো, কে খারাপ? কে বেশি ধার্মিক, কে কম? কার জীবন সঠিক পথে চলছে, কার জীবন ভুল পথে? অথচ নিজের জীবনের হিসাবটুকুই কি আমরা কখনো ঠিকভাবে করতে পারি? নিজের ভেতরের লোভ? নিজের গোপন অহংকার? নিজের বলা কষ্টের কথাগুলো? নিজের অবহেলায় ভেঙে যাওয়া কোনো মানুষের হৃদয়? নিজের কাছে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গেলেই হয়তো আমরা বুঝতে পারি—অন্যের বিচার করার আগে নিজের সামনে দাঁড়ানো কত কঠিন? আমি জানি না, কে কতটা ভালো? কে কতটা পুণ্যবান? কে কতটা স্রষ্টার প্রিয়? এসব জানার ক্ষমতা আমার নেই। আমি শুধু এটুকু জানি—মানুষ যতই অন্যের ভুল খুঁজে বেড়াক, একদিন তাকে নিজের ভুলগুলোর সামনে দাঁড়াতে হবেই। আর সেই দাঁড়িয়ে থাকার দিনটি হয়তো খুব দূরে নয়।

মায়ের কবরের কাছে গেলে মনটা অন্যরকম হয়ে যায়। পৃথিবীর সকল ব্যস্ততা যেন কবরস্থানের ফটক পেরিয়ে ধীরে ধীরে বাইরে থেকে যায়। কবরস্থানে ঢুকলেই মনে হয়—এখানে কোনো মানুষের বীরত্ব নেই। এখানে কেউ ধনী নয়? গরিব নয়? ক্ষমতাবান নয়? দুর্বল নয়? এখানে সব পরিচয়ের শেষে মানুষ শুধু একটি পরিচয় বহন করে শুয়ে থাকে— সে একদিন বেঁচে ছিল! কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো হয়তো জানে না, নিচে শুয়ে থাকা মানুষটি কে ছিল। বাতাস জানে না, তার কত সম্পদ ছিল? পাখিরা জানে না, সে কত বড় পদে ছিল? মাটিও হয়তো জানে না, তাকে জীবিত অবস্থায় কত মানুষ সম্মান করত? মৃত্যুর পরে পৃথিবী মানুষের পরিচয়গুলোকে কতই না সহজেই ছোট করে দেয়। একদিন নামের আগে কত পদ-পদবী ও বড় বড় বিশেষণ ছিল। তারপর একদিন— সব পরিচয়ের শেষে ছোট্ট একটি ফলক, একটি নাম ও দুটি তারিখ। জন্ম এবং মৃত্যু। আর মাঝখানে ছোট্ট একটি দাগ। সেই ছোট্ট দাগটির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটি মানুষের পুরো জীবন। হাসি, কান্না, ভালবাসা, ব্যর্থতা, পাপ-পুণ্য, অপূর্ণ স্বপ্ন আর তার না বলা কত কথা।

সেদিন মায়ের জন্য দোয়া করে কবরস্থান থেকে বের হচ্ছিলাম। চারদিকে এক ধরনের নিস্তব্ধতা। হঠাৎ একটি পুরোনো কবরের সামনে এসে আমার পা থেমে গেল। কবরটি দেখে মনে হলো, বহু বছর ধরে কেউ সেখানে আসেনি। চারপাশে আগাছা, ভাঙা সীমানা, কোথাও জমে থাকা শুকনো পাতা, কোথাও মানুষের ফেলে যাওয়া ময়লা। এক কোণে হয়তো একসময় নাম লেখা ছিল, সময়ের ব্যাবধানে নামটিও আজ অস্পষ্ট। কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইলাম। কেন জানি না, মনে হচ্ছিল—এই মানুষটি খুব একা হয়ে গেছে। মৃত্যুর দিন সে একা ছিল না, সেদিন নিশ্চয়ই মানুষ এসেছিল? কেউ কেঁদেছিল? কেউ তাকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিল? কেউ হয়তো তার নিথর হাতটি ধরে বলেছিল—“তুমি আমাদের ছেড়ে চলে গেলে কেন?” কেউ হয়তো বুকের ভেতর জমে থাকা কান্না আর ধরে রাখতে পারেনি। সন্তান, স্ত্রী, বাবা- মা, বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজন? কেউ নিশ্চয়ই ছিল। কোনো মানুষই পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার মুহূর্তে সম্পূর্ণ একা হয় না। সময়! সময় বড়ই নির্মম। একসময় যারা প্রতিদিন আসতো, তারা সপ্তাহে একদিন আসে। তারপর মাসে। তারপর বছরে। তারপর কোনো একদিন তারা নিজেরাই আর আসে না, এই কবরের পাশে। 


কারণ তারাও ব্যস্ত হয়ে যায় সময়ের আবর্তে। তারাও বৃদ্ধ হয় এবং চলেও যায়। এক প্রজন্মের স্মৃতি ধীরে ধীরে আরেক প্রজন্মের কাছে গল্প হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই গল্পও একদিন হারিয়ে যায়। আমি সেই পুরোনো কবরটির দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম—এই মানুষটিও কি কখনো ভেবেছিলেন, একদিন এমন হবে? তিনি কি জানতেন, তার এত যত্ন করে কবর দেয়া জায়গাটি একদিন আগাছায় ঢেকে যাবে? তিনি কি জানতেন, যারা আজ তাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না, তারাও একদিন আর তাকে দেখতে আসবে না? হয়তো তিনি অনেক সম্পদ রেখে গেছেন? হয়তো তার ঘরে দামি অনেক আসবাব ছিল? হয়তো ব্যাংকে টাকা ছিল? হয়তো ব্যবসা ছিল? হয়তো ক্ষমতা ছিল? হয়তো একসময় তার একটি ফোনেই অনেক মানুষ ছুটে আসত? আজ? আজ তিনি ডাকলেও কেউ আর শুনবে না। তিনি চাইলেও তার আর ঘরে ফেরা হবে না। নিজের রেখে যাওয়া অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সেটাও জানার ক্ষমতা নেই। তার বাড়ি ও সম্পদ এখন অন্যের। তার প্রিয় জিনিসগুলো হয়তো বহু আগেই ভাগ হয়ে গেছে। তার পোশাক অন্য কেউ পরে ফেলেছে। তার ব্যবহৃত জিনিস হয়তো নষ্ট হয়ে গেছে। তার নামটি হয়তো কোনো পুরোনো কাগজে কোথাও পড়ে আছে। কিন্তু পৃথিবী? পৃথিবী থমকে দাঁড়ায়নি। পৃথিবী কাউকে হারিয়ে থেমে যায় নি। কি নিষ্ঠুর পৃথিবী! তাইনা? 

আমি দাঁড়িয়ে কবরটির দিকে তাকালাম। তারপর মনে হলো— একদিন হয়তো আমাদের কবরটিও পুরোনো হবে। ঘাস জন্মাবে। ফলকের লেখা নাম অস্পষ্ট হয়ে যাবে। আজ যাদের কাছে আমি প্রয়োজনীয়, তাদের কেউ হয়তো একদিন আমাকে খুব মনে করবে। তারপর ধীরে ধীরে জীবন তাদেরও ব্যস্ত করে তুলবে। আমার স্মৃতি তাদের কথার ফাঁকে ফাঁকে আসবে বা হয়তোবা না। তারপর কোনো উৎসবে বা কোনো বিশেষ দিনে। তারপর বছরে একবার। তারপর, হয়তো? একদিন আমার নাম উচ্চারণ করার মতো মানুষও আর থাকবে না। ভাবতেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন শূন্যতায় ভরে গেল। আমরা সারাজীবন কত কিছুই না জমাই! টাকা, সম্পদ, পরিচিতি, ক্ষমতা বা মানুষের প্রশংসা। নিজের নামের চারপাশে কত বড় বড় দেয়াল তৈরি করি। কিন্তু শেষ যাত্রায় আমাদের সঙ্গে যায় না সেই দেয়ালের একটি ইটও। একদিন সবকিছু রেখে চলে যেতে হয়। কি অদ্ভুত নিয়ম! সারাজীবন আমরা পৃথিবীতে বসবাসের জন্য নিজের একটি স্থায়ী আবাস তৈরি করতে ব্যস্ত থাকি। অথচ শেষ পর্যন্ত আমাদের স্থায়ী ঠিকানা হয়— কয়েক হাত মাটি। সেখানে নেই কোনো পদ-পদবী, নেই কোনো পরিচিতি, নেই কোনো অহংকার, নেই কে বড়-আর কে ছোট?  মাটির নিচে সবাই একই প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে; জীবনটা কেমন ছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো টাকা দিতে পারে না। ক্ষমতা দিতে পারে না। মানুষের দেওয়া সম্মানও দিতে পারে না। সেখানে হয়তো আমাদের হয়ে কথা বলে শুধু আমাদের কর্ম। আমাদের ভালোবাসা। আমাদের ক্ষমা। আমাদের সাহায্য। আমাদের গোপন কাজগুলো। আর সেইসব কাজ, যা পৃথিবীর কেউ দেখেনি; কিন্তু দেখেছেন একজন? তিনি হলেন আমাদের স্রষ্টা। 

সেদিন কবরস্থান থেকে বেরিয়ে আসার সময় বারবার মনে হচ্ছিল— মানুষ আসলে কত বছর বাঁচল? সেটি কি সত্যিই সবচেয়ে বড় কথা? একশো বছর বা তার বেশী। মাত্র কয়েক বছর বেঁচেও কি কোনো মানুষ শত মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারে না? মানুষের জীবনের দৈর্ঘ্য হয়তো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার জীবনের গভীরতা? তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় কি? সে কত মানুষকে ভালোবেসেছিল? কতজনের পাশে দাঁড়িয়েছিল? কতটি ভাঙা হৃদয়কে শান্ত করেছিল? কতজনের চোখের জল মুছিয়েছিল? কতবার নিজের অহংকার ভেঙে ক্ষমা চেয়েছিল? কতবার প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাউকে ক্ষমা করে দিয়েছিল? একদিন এসব প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতেই হবে। হয়তো অন্য কেউ আমাদের প্রশ্ন করবে না, নিজেদের বিবেকেই নিজেকে প্রশ্ন করবে। তাই, আজকাল কবরকে খুব ভয় লাগে না। ভয় লাগে জীবনের অপচয়কে। ভয় লাগে এই ভেবে—আমি যদি আজই চলে যাই, আমার চলে যাওয়ায় পৃথিবীর কোনো অংশে কি ভালো কিছুর অভাব অনুভূত হবে? কেউ কি বলবে- “মানুষটা থাকলে হয়তো আজ আমার একটু উপকার হতো।” কেউ কি বলবে—“সে আমাকে কখনো কষ্ট দেয়নি।” কেউ কি চোখের পানি মুছে বলবে-  “সে আমাকে ভালোবাসত।” আর কেউ কি আমার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে হাত তুলে বলবে— “হে আল্লাহ, মানুষটি ভুল করেছে, পাপ করেছে, আমাদের মতোই দুর্বল ছিল। আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন।” হয়তো এ পৃথিবীতে মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় প্রার্থনা আর কি হতে পারে। আমাদের নাম হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে। ছবিগুলো বিবর্ণ হয়ে যাবে। লেখাগুলো মুছে যাবে। বাড়ির মালিক বদলে যাবে। সম্পদের উত্তরাধিকার বদলে যাবে। আমাদের ব্যবহার করা জিনিসগুলো একদিন আবর্জনা হয়ে যাবে। কিন্তু, কোনো এক মানুষের হৃদয়ে যদি আমাদের দেওয়া ভালোবাসা থেকে যায়, কোনো অসহায় মানুষের মুখে যদি আমাদের সাহায্যের স্মৃতি থেকে যায়, কোনো ক্ষমা করা মানুষের হৃদয়ে যদি আমাদের জন্য দোয়া থেকে যায়, হয়তো স্রষ্টার নিকট তৈরী হবে আপনার জন্য এক প্রশান্ত গভীর মহাসম্মান বা মর্যাদা এবং বেঁচে থাকবেন সকল মানুষের হৃদয়ের অন্তস্থলে।

মানুষের আয়ু ফুরিয়ে আসে, চেনা পৃথিবীটা অচেনা কোনো রূপ ধারণ করে, আর আরশির সামনে দাঁড়ালে নিজের অবয়বেও মহাকালের কুটিল আঁচড় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমরা প্রতিনিয়ত কত কোলাহলের মাঝে হাঁটি, কত বিচিত্র মুখ দেখি, কত সহস্র কথা বাতাসে ভাসিয়ে দিই। কিন্তু এই নশ্বর মস্তিষ্কের সাধ্য কী সেই অনন্ত ধারাকে ধারণ করে? অধিকাংশ মুহূর্তই ঝরা পাতার মতো সময়ের স্রোতে ভেসে যায় বিস্মৃতির অতলে। যা অবশিষ্ট থাকে, তা কোনো নিরেট ঘটনা নয়-তা কেবলই কিছু বিমূর্ত অনুভূতি। জীবনের শেষ প্রহরে এসে আমাদের সঞ্চিত অহংকার, জাগতিক প্রাপ্তি, ঐশ্বর্যের আস্ফালন- সবকিছুই এক লহমায় অর্থহীন ও মরীচিকা বলে ভ্রম হয়। তখন কেবল বেঁচে থাকে কিছু খণ্ড-বিখণ্ড স্মৃতির অবশেষ। এক পরম শূন্যতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তখন এই ধ্রুব সত্যটি উন্মোচিত হয় যে, জীবনের সবটুকু স্মৃতি কখনোই অমরত্ব পায় না। যতটুকু বেঁচে থাকে, তা হলো কেবলই এক কণা দীর্ঘশ্বাস, অধরের কোণে এক চিলতে বিষণ্ন হাসি, আর অন্তহীন এক হাহাকারের মাঝেও নিজের মধ্যে প্রশ্ন জাগে, আর কতটুকু স্মৃতি বেঁচে রইল?

--মোঃ আবু হানিফ--
৷২০ শে ভাদ্র ১৪৩৩

Comments

    Please login to post comment. Login