ও ভাউ কই যাও??? নেকড়েটাকে হেলে দুলে চলতে দেখে শিমুল গাছের সাথে গা চুলকাতে থাকা হাতি জিজ্ঞেস করলো।
নেকড়ে ফিরে তাকিয়ে বলল, একটু গ্রামের দিকে যাচ্ছি ভাউ। কাজ আছে। তোমার চুলকানির কি খবর??? আগের থেকে কমছে???
আরে কই কমলো!!! মনে হচ্ছে শিয়ালটা আমার সাথে চালাকি করছে। ধুতরা ফুল খেতে বলল, খেলাম। কাজ তো হলোই না এখন মনে হচ্ছে পেটের মধ্যেও চুলকায়।
নেকড়ে হাটা শুরু করে বলল, এটা নতুন কি!!! ওই বেটা তো সবাইকে পারলে ঘোল খাওয়ায়। আচ্ছা চললাম।
নেকড়ে এগোতে লাগলো। সামনের নদীটা পার হতে হলে কিছুটা পথ পশ্চিমে যেতে হবে। ওখান থেকে নদীটা সরু তার উপরে একবার মানুষ এসে একটা ব্রিজের মত করেছিল। সেটাও প্রায় ভেঙ্গে যাচ্ছে।
নদীর পাড় ধরে হাঁটছে। নদী থেকে কুমীর মাথা তুলে জিজ্ঞেস করলো, ভাউ কই যাও সকাল সকাল???
গ্রামের দিকে ভাউ, কুমীরের দিকে না তাকিয়ে জবাব দিলো।
হঠাৎ গ্রামে!!! তুমি তো মানুষ খাওয়া ছেড়ে দিছ শুনলাম।
নেকড়ে হেঁসে উত্তর দিলো, মানুষ খেতে যাচ্ছি কে বলল??? মানুষ দেখতে যাচ্ছি।
কি বলছ এসব!!! মানুষের নতুন করে দেখার কি হল??? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো কুমীর।
আগে দেখে তো আসি, এসে বলবো।
কথা বলতে বলতে সেই ব্রিজের কাছে এসে গেলো ওরা। নেকড়ে তিন লাফে নদী পার হয়ে কুমীরের দিকে তাকিয়ে বলল, শিয়ালের সাথে দেখা হলে সাবধান করে দিও। হাতি তাকে হন্যে হয়ে খুজছে ধোলাই দিবে।
নদী থেকে মাইলতিনেক দুরেই গ্রাম। নেকড়ে এবার একটু জোরে পা চালাতে লাগলো।
কিছুদুর যেতেই গম্ভীর একটা কণ্ঠ ডাক দিলো ওকে, ভাউ কোথায় যাওয়া হচ্ছে এতো হুড়োহুড়ি করে???
নেকড়ে দাড়িয়ে গেলো, আরে সিংহ ভাউ যে। কেমন আছো??? শুকিয়ে গেছ দেখছি। ভাবি কই???
সিংহ একটা দির্ঘ্য নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল, আর কই, বাপের বাড়ি গেছে। এখানে নাকি দম বন্ধ হয়ে আসছে। দেখো অবস্থা সে কিন্তু ৯ দিন আগেই বাপের বাড়ি থেকে আসছে।
নেকড়ে হেঁসে বলল, তোমাকে মনে হয় আর ভালো লাগছে না। তাই একটু ঘন ঘন হাওয়া বদল করতে যাচ্ছে।
বুঝতে পারি না তো। মেয়ে জাতির মন। আচ্ছা যাইহোক, তুমি কোথায় চললে???
একদিন সময়ে করে আমার বাসায় এসো। কিছু বুদ্ধি দিয়ে দিবো। ওহ একটু গ্রামের দিকে যাচ্ছি। মানুষ দেখতে।
আচ্ছা আসবো। মানুষ দেখতে মানে???
শুনলাম কি এক রোগ আসছে দুনিয়ায়!!! দলে দলে মানুষ মরে যাচ্ছে। ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না। তাই ভাবলাম মানুষ জাতি আদো ঘরে আছে কি না বা যদি সত্যি সত্যি সব মরে যায় তবে তো আর দেখা হবে না। তাই যাচ্ছি আর কি!!!
সিংহ চোখ বড় বড় করে বলল, এই খবর তোমাকে কে দিলো???
নেকড়ে বলল, কে আবার!!! মানুষের পাশাপাশি থাকে যে পাখি। কাক।
সিংহ এবার নেকড়ের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো, বলল, চল তবে আমিও গিয়ে দেখি।
এবার দুজনে গল্প করতে করতে গ্রামের দিকে চলল।
গ্রামের ঢুকার আগে একটা টিলার মত পড়ে। তার উপরে উঠে একটা লম্বা দেবদারু গাছে নিচে বসল দুজন। ওই দিন আবার গ্রামে হাঁটবার। হাঁট বসেও জঙ্গলের এই দিকটায়। হাঁটে মানুষ গিজ গিজ করেছে।
সিংহ নেকড়েকে বলল, কই ভাউ, মানুষ তো দিব্যি আগের মতন আছে। কাক মনে হয় তোমাকে ভুল খবর দিয়েছে।
নেকড়ে বলল, খবরটা শিয়াল দিলে আমি এতো দুরে আসতাম না।
দুজনের উঠে ফিরে যাবে এমন সময় দেখল কাক উড়ে আসছে। নিচ থেকে নেকড়ে ডাক দিলো।
কাক নিচে নেমে আসলো।
নেকড়ে বলল, কি ভাউ আমাকে বললে মানুষ সব ঘরে থাকবে। মানুষের নাকি কি ব্যারাম হচ্ছে।
কাক তার কালো মুখ কালো করে বলল, মিথ্যে বলিনি ভাউ। কিন্তু মানুষ না মরা পর্যন্ত বুঝবে না সে কি বিপদে আছে। তোমার আমার কি!!! এখন দেখছ না পরিবেশটা কেমন আগের মত হতে যাচ্ছে। এগুলো আমাদের দোয়াতেই হচ্ছে। তোমরা কি ফাকা গ্রাম দেখবে বলে আসছিলা??? লল, লাভ নেই। চল বনে যাই। না মরলে গ্রাম ফাকা হবে না।
তিন জন ধীরে ধীরে বনের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেলো।
***সমাপ্ত***