আমি যেটা পারি সেটা নিয়ে থাকি। একটু লিখতে পারি আর কি……
তো চলুন একটু পাঠ প্রতিক্রিয়া জানাই…
বইঃ ভয় সমগ্র
লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশনীঃ সফা প্রকাশনী
পৃষ্ঠাঃ ৩৫৯
গায়ের মূল্যঃ ৫৫০ টাকা
বইটা মূলত এমপিথ্রি।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাহেবের ৩৯ টা গল্প নিয়ে। ৩৮ টাও বলতে পারেন, একটা গল্প দেখলাম দু'নামে কিন্তু একি গল্প, একটু ভিন্ন ভাবে।বইয়ের নাম দেখেই বুঝতে পেরেছেন, সব গল্পই ভয় নিয়ে। আর ভয় মানেই ভূত, অন্ধকার আর অজানা নিয়ে আলাপচারিতা।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাহেবের ভক্ত হয়েছিলাম তারানাথ পড়ে। এই বইতে তারানাথের গল্পও আছে। কিন্তু পড়তে পড়তে মনে হল আমার ভয়ের গল্পের টেস্ট বাট বদলে গেছে। এই বইয়ের কোন গল্পই আমাকে খুব একটা শিহরিত করতে পারেনি। শিহরনের মেজারমেন্ট আমি কীভাবে করি?
ধরেন রাতে বাথরুমে যেতে ভয় লাগছে বা অন্ধকারের ঘরের দরজার কোনায় তাকাতে ভয় পাচ্ছি বা একা ঘরে নামাজ পড়ার সময় পিছনে দেয়াল রেখে দাড়াই, না হলে মনে হয় কেউ পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। এমন কোন অনুভূতিই জাগেনি পুরো বই শেষ করেও।
আর একটা জিনিস লক্ষ করলাম, বেশীর ভাগ গল্পই দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বর্ণনা করা। যেমন, আমি এক আড্ডায় বসলাম। চার পাঁচজন বন্ধুমিলে প্রায় সন্ধ্যায় আড্ডা হয়। সেখানে একদিন নতুন একজন আসলো। কোন এক বন্ধুর আত্মীয়। সে একটা ভয়ের গল্প বলল। অথবা লেখক কোথাও যাচ্ছে। পথে একজনের সাথে দেখা, সে কোন একটা তার বা তার কোন দাদাঠাকুরের ভয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে। এই প্যাটার্নেই বেশীরভাগ গল্প।
সম্পাদনা নিয়ে অল্প একটু বলি। বানান বেশ কয়েক জায়গায় ভুল আছে। তবে আমি বইটা পড়তে পড়তে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম, যে পড়তে একটু কষ্ট হচ্ছে। কষ্ট হবার দুটা কারন, একটা হল সাধুভাষা (এটা আমার সমস্যা) আর দ্বিতীয়টি হল বানান এবংসম্পাদনা। পোস্ট করার পড়ে আমার এক কাছে ছোট ভাই নিচের কমেন্টা করলো। কোট করে দিলাম…
**QTE**
“যখনই দেখবেন কোনো বুকশপ বা প্রকাশনী এসব সংকলন, পুরনো সাহিত্য নিয়ে লাফঝাপ করছে, বুঝবেন তার বাজেটে আসলে টান পড়েছে। সে বাজেট তুলতে এসব বই বাজারে আনে। বাট ভেতরের মাল-মশলায় সম্পাদনা কিংবা পরিমার্জনে তেমন কোনো যত্নই নেয় না। শুধু ডেকোরেশনটা উচ্চমার্গীয় করে।“
**UNQTE**
আমার কাছেই কিছুটা এমন লেগেছে।
যাইহোক, তবে যারা নতুন নতুন ভূতের গল্প পড়ছেন তারা পড়তে পারেন। আমার জন্য আর একটু হার্ডকোর দরকার হবে। একবার চেয়েছিলাম বইটা আমার বিক্রি করার তালিকায় ফেলি। পড়ে ভাবলাম, আমার ঘরের পরের প্রজন্মের জন্য রেখে দেই। তার কাছে ভালো লাগবে আশাকরি।
বেশী বেশী বই পড়ুন।
বেশী বেশী বই সংগ্রহকরুন।
শুনলাম কে বা কারা নাকি বই স্ক্যান করে ধ্বংস করে ফেলছে।
খুবই ন্যাক্কারজনক কাজ হচ্ছে।