গল্প

ঝালমুড়িওয়ালা

September 9, 2026

FIJON QURAYSH

Original Author ফিজন কোরাইশ

13
View

পর্ব–১: “এক মুঠো ঝালমুড়ি আর এক বুক স্বপ্ন”

শহরের ব্যস্ত একটা রাস্তার পাশে প্রতিদিন বিকেল হলেই একটা ছোট্ট ঠেলাগাড়ি দেখা যেত।

ঠেলাগাড়ির ওপর লেখা—

“রহিমের ঝালমুড়ি”

নামটা খুব সাধারণ।

কিন্তু এই ছোট্ট ঠেলাগাড়িটার পেছনে লুকিয়ে ছিল এমন একটা গল্প, যেটা কেউ জানত না।

রহিমের বয়স তখন মাত্র সতেরো।

এই বয়সে অন্য ছেলেরা স্কুল শেষে মাঠে খেলত, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিত, কেউ কেউ বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফুচকা-চটপটি খেত।

আর রহিম?

সে প্রতিদিন বিকেল চারটার আগেই তার পুরোনো ঠেলাগাড়িটা নিয়ে রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়াত।

এক হাতে কাগজের ঠোঙা।

অন্য হাতে মুড়ির বড় ডিব্বা।

সঙ্গে পেঁয়াজ, মরিচ, চানাচুর, সরিষার তেল আর সামান্য মসলা।

আর মুখে সবসময় সেই ডাক—

“ভাইয়া, আপু… ঝালমুড়ি লাগবে? একদম টাটকা ঝালমুড়ি!”

কেউ তার দিকে তাকিয়ে হাসত।

কেউ দাম কমাতে চাইত।

কেউ আবার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নাক সিটকাত।

রহিম সব সহ্য করত।

কারণ তার কাছে ঝালমুড়ি শুধু একটা খাবার ছিল না।

ওটাই ছিল তার পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা।

রহিমের বাবা করিম মিয়া আগে রিকশা চালাতেন।

সংসারটা খুব বড় ছিল না।

করিম মিয়া, তার স্ত্রী আমেনা বেগম, ছেলে রহিম আর ছোট মেয়ে মায়া।

ছোট্ট একটা ভাড়া বাসা।

একটা ঘর।

সামনে সরু বারান্দা।

বর্ষার সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ত।

শীতকালে জানালার ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢুকত।

তবুও সেই ঘরটাতেই তাদের সুখ ছিল।

রহিম তখন স্কুলে পড়ত।

পড়াশোনায় খুব ভালো না হলেও স্বপ্ন ছিল অনেক।

সে প্রায়ই বাবাকে বলত,

“আব্বা, আমি বড় হয়ে একটা ভালো চাকরি করব।”

করিম মিয়া হাসতেন।

ছেলের মাথায় হাত রেখে বলতেন,

“তুই শুধু পড়াশোনা কর। তোর জীবনটা আমার মতো কষ্টের হোক, এটা আমি চাই না।”

রহিম বাবার দিকে তাকিয়ে বলত,

“তুমি এত কষ্ট করো কেন আব্বা?”

করিম মিয়া হেসে বলতেন,

“বাবা হলে বুঝবি।”

সেদিন কথাটার মানে রহিম বুঝতে পারেনি।

কিন্তু কয়েক বছর পর…

সে বুঝেছিল।

খুব ভালোভাবেই বুঝেছিল।

এক বর্ষার সন্ধ্যা।

বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি।

করিম মিয়া সেদিনও রিকশা নিয়ে বেরিয়েছিলেন।

আমেনা বেগম বারবার বলছিলেন,

“আজ যেও না। শরীরটাও তো ভালো না।”

করিম মিয়া ছাতা হাতে নিয়ে হেসে বলেছিলেন,

“আজ না গেলে কাল বাজার করব কী দিয়ে?”

দরজার পাশে দাঁড়িয়ে রহিম বলেছিল,

“আব্বা, তুমি থাকো। আমি কাল স্কুল থেকে এসে কিছু একটা কাজ করব।”

করিম মিয়া ছেলের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে ছিলেন।

তারপর বলেছিলেন,

“না বাবা। তুই কাজ করবি না। তুই পড়বি।”

এই ছিল বাবার শেষ কথা।

সেদিন রাতে করিম মিয়া আর বাড়ি ফিরলেন না।

রাস্তায় দুর্ঘটনা হয়েছিল।

পরদিন সকালে যখন কয়েকজন মানুষ তাদের বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়াল, আমেনা বেগম তখনই বুঝে গিয়েছিলেন কিছু একটা হয়েছে।

তিনি দৌড়ে দরজার কাছে গেলেন।

“আমার স্বামী কোথায়?”

কেউ উত্তর দিল না।

শুধু একজন নিচু গলায় বলল,

“আপা… নিজেকে শক্ত করেন।”

তারপর আমেনা বেগম মাটিতে বসে পড়লেন।

মায়া তখনও বুঝতে পারেনি কী হয়েছে।

সে মায়ের আঁচল ধরে বলেছিল,

“আম্মু, আব্বু কখন আসবে?”

কেউ উত্তর দেয়নি।

রহিমও কিছু বলতে পারেনি।

সে শুধু দরজার দিকে তাকিয়ে ছিল।

মনে হচ্ছিল—

এই বুঝি বাবা রিকশা নিয়ে এসে বলবে,

“বাবা, দরজা খোল।”

কিন্তু সেই ডাক আর কোনোদিন আসেনি।

বাবার মৃত্যুর পর সংসারটা যেন এক মুহূর্তে বদলে গেল।

আগে যে ঘরে সন্ধ্যায় বাবার হাসির শব্দ শোনা যেত, সেখানে এখন নীরবতা।

আগে যে মানুষটা বলতেন,

“খেয়ে নে বাবা।”

এখন সেই মানুষটাই নেই।

কয়েকদিন পর বাড়িওয়ালা ভাড়া চাইতে এল।

আমেনা বেগম চুপ করে ছিলেন।

রহিম বুঝতে পারছিল, ঘরে টাকা নেই।

সে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আম্মু, তুমি চিন্তা করো না।”

মা বললেন,

“কী করবি তুই?”

রহিম একটু হাসল।

“কাজ করব।”

“তুই পড়াশোনা করবি।”

“পড়াশোনাও করব।”

মা কিছু বলতে পারলেন না।

কারণ তিনি জানতেন—

সংসার শুধু স্বপ্ন দিয়ে চলে না।

পরদিন রহিম স্কুলে গেল।

কিন্তু ক্লাসে বসে তার আর বইয়ের দিকে মন বসছিল না।

স্যার বোর্ডে লিখছিলেন।

রহিম খাতার দিকে তাকিয়ে ছিল।

তার খাতার এক কোণে সে লিখল—

“আব্বা, আমি কথা দিচ্ছি, আমি তোমার স্বপ্নটা পূরণ করব।”

তার চোখের কোণে পানি জমে গেল।

সে দ্রুত চোখ মুছে ফেলল।

কারণ সে চাইত না কেউ তাকে কাঁদতে দেখুক।

কয়েক মাসের মধ্যেই রহিম স্কুল ছেড়ে দিল।

শেষ দিন স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল।

বন্ধু রাকিব এসে বলল,

“কী রে? ভেতরে যাচ্ছিস না?”

রহিম মাথা নাড়ল।

“আর যাব না।”

“কেন?”

রহিম হেসে বলল,

“সংসার চালাতে হবে।”

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

“তুই আবার আসবি তো?”

রহিম কোনো উত্তর দিল না।

শুধু বলল,

“দোস্ত, আমার জন্য দোয়া করিস।”

তারপর সে চলে গেল।

পেছন থেকে রাকিব অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল।

আর রহিম?

সে হাঁটছিল।

হাতে একটা পুরোনো ব্যাগ।

ভেতরে কয়েকটা বই।

সেই বইগুলো সে বিক্রি করতে পারেনি।

কারণ ওগুলো ছিল তার বাবার কিনে দেওয়া বই।

একদিন বাজারে সে দেখল একজন বৃদ্ধ ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন।

মানুষজন ভিড় করে কিনছে।

রহিম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল।

বৃদ্ধ লোকটা তাকে বললেন,

“কী দেখছিস?”

রহিম বলল,

“চাচা, এই কাজটা শিখতে চাই।”

বৃদ্ধ অবাক হয়ে বললেন,

“তুই তো ছোট।”

রহিম মৃদু হেসে বলল,

“ছোট মানুষদেরও তো বড় সংসার থাকে চাচা।”

বৃদ্ধ লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

তারপর বললেন,

“কাল সকালবেলা আসিস।”

সেদিন থেকেই রহিম ঝালমুড়ি বানানো শিখতে শুরু করল।

মুড়ি কীভাবে মাখাতে হয়।

কতটুকু তেল দিতে হয়।

কতটুকু মরিচ দিতে হয়।

কোন ক্রেতা ঝাল বেশি পছন্দ করে।

কোনজন ঝাল কম।

সব শিখে গেল সে।

কিন্তু সবচেয়ে কঠিন জিনিসটা সে শিখেছিল—

মানুষের অবহেলা সহ্য করা।

প্রথম দিন নিজের ঠেলাগাড়ি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ানোর সময় রহিমের হাত কাঁপছিল।

সে গলা উঁচু করে ডাক দিল,

“ঝালমুড়ি লাগবে?”

কেউ তাকাল না।

আবার ডাকল,

“ভাইয়া… ঝালমুড়ি?”

একজন লোক বলল,

“যাও তো ভাই, রাস্তা আটকাচ্ছ কেন?”

রহিম চুপ করে গেল।

আরেকজন এসে বলল,

“কত?”

“দশ টাকা।”

লোকটা বলল,

“পাঁচ টাকায় দিবি?”

রহিম একটু থেমে বলল,

“ভাইয়া, দশ টাকাই লাগে।”

লোকটা চলে গেল।

সেদিন প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর রহিম মাত্র তিনটা ঠোঙা ঝালমুড়ি বিক্রি করল।

মোট আয়—

ত্রিশ টাকা।

রাতে বাড়ি ফিরে সেই ত্রিশ টাকা মায়ের হাতে দিয়ে বলল,

“আম্মু, আজকে অনেক বিক্রি হয়েছে।”

আমেনা বেগম টাকাগুলোর দিকে তাকিয়ে বুঝলেন—

তার ছেলে মিথ্যা বলছে।

তিনি ছেলেকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন,

“তুই কাঁদিসনি তো?”

রহিম হেসে বলল,

“না তো।”

মা তার চুলে হাত বুলিয়ে বললেন,

“মিথ্যা বলিস না বাবা।”

এইবার রহিম আর নিজেকে সামলাতে পারল না।

মায়ের কোলে মাথা রেখে চুপচাপ কাঁদতে লাগল।

মা শুধু বলছিলেন,

“কাঁদ বাবা… কাঁদ। মনটা হালকা হোক।”

দিন যেতে লাগল।

রহিমের ঝালমুড়ি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠল।

তার একটা নিজস্ব নিয়ম ছিল।

কোনো বৃদ্ধ মানুষ টাকা কম দিলে সে দাম কমিয়ে দিত।

কোনো ছোট বাচ্চা এসে বললে,

“ভাইয়া, আমার কাছে পাঁচ টাকা আছে।”

রহিম বলত,

“দে, পাঁচ টাকারটাই দিচ্ছি।”

কিন্তু সেই পাঁচ টাকার ঠোঙায় সে একটু বেশি মুড়ি দিত।

বাচ্চাটা খুশি হয়ে চলে যেত।

রহিম দূর থেকে তাকিয়ে হাসত।

কারণ সে জানত—

ক্ষুধার কষ্ট কী।

কিন্তু নিজের ঘরের কষ্টটা দিন দিন বাড়ছিল।

মায়া ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ ছিল।

প্রায়ই জ্বর আসত।

ডাক্তার দেখাতে টাকা লাগত।

ওষুধ লাগত।

এক রাতে মায়া জ্বর নিয়ে বিছানায় শুয়ে ছিল।

রহিম তার পাশে বসে মাথায় পানি দিচ্ছিল।

মায়া চোখ মেলে বলল,

“ভাইয়া…”

“হুম?”

“তুমি কাল স্কুলে যাবে?”

রহিম থমকে গেল।

তারপর মৃদু হেসে বলল,

“হ্যাঁ।”

মায়া বলল,

“তুমি তো অনেকদিন স্কুলে যাও না।”

রহিম কিছু বলল না।

মায়া আবার বলল,

“আমার জন্য তুমি স্কুল ছাড়ছ?”

রহিম দ্রুত বলল,

“না রে পাগলি।”

“তাহলে?”

রহিম মায়ার কপালে হাত রেখে বলল,

“তুই বড় হয়ে ডাক্তার হবি। তখন আমার সব কষ্ট শেষ।”

মায়া মৃদু হেসে বলল,

“আমি ডাক্তার হয়ে তোমার চিকিৎসা করব।”

রহিমও হাসল।

কিন্তু মায়া ঘুমিয়ে যাওয়ার পর…

রহিম অনেকক্ষণ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল।

সে আস্তে করে বলল,

“আব্বা… তুমি থাকলে হয়তো আজ আমাকে এত কিছু করতে হতো না।”

পরদিন সকালে রহিম যখন ঝালমুড়ির ঠেলাগাড়ি নিয়ে বের হবে, মা তাকে ডাকলেন।

“রহিম।”

“জি আম্মু?”

“আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরিস।”

“কেন?”

মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,

“তোর জন্য একটা জিনিস রেখেছি।”

রহিম অবাক হলো।

“আমার জন্য?”

মা মাথা নাড়লেন।

“হ্যাঁ।”

রহিম হাসল।

“আচ্ছা, রাতে এসে নেব।”

সে বেরিয়ে গেল।

কিন্তু সেদিন সে জানত না—

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সে এমন একটা জিনিস দেখতে পাবে, যা তার পুরো জীবনটাই বদলে দেবে।

১০

সেদিন বিকেলে ঝালমুড়ির বিক্রি খুব ভালো হয়েছিল।

রহিমের হাতে প্রায় পাঁচশো টাকা উঠেছিল।

সে খুব খুশি।

মনে মনে ভাবছিল,

“আজ মায়ের জন্য ভালো কিছু খাবার নিয়ে যাব।”

মায়ার জন্য একটা জুসও কিনবে।

আর মাকে সেই পুরোনো শাড়ির বদলে একটা নতুন শাড়ি কিনে দেওয়ার জন্য টাকা জমাবে।

সন্ধ্যা নামল।

রাস্তার বাতিগুলো জ্বলে উঠল।

রহিম ঠেলাগাড়ি গুছিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল।

তার মুখে তখন অনেকদিন পর একটা সত্যিকারের হাসি।

হাঁটতে হাঁটতে সে ভাবছিল—

“আজ আম্মুকে বলব, আমি একদিন নিজের দোকান করব।”

তারপর সে দৌড়ে বাড়ির গলিতে ঢুকল।

কিন্তু গলির মুখেই তার পা থেমে গেল।

বাড়ির সামনে অনেক মানুষ।

কারও মুখে কথা নেই।

কারও চোখে পানি।

রহিমের বুকটা হঠাৎ ধক করে উঠল।

সে দৌড়ে গেল।

“কী হয়েছে?”

কেউ উত্তর দিল না।

সে দরজার ভেতর ঢুকল।

তারপর দেখল—

মায়া বিছানায় বসে আছে।

আর তার পাশে…

মা নেই।

রহিম চারদিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল—

“আম্মু কোথায়?”

একজন প্রতিবেশী ধীরে ধীরে বললেন,

“বাবা… তোর মা একটু আগে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।”

রহিমের হাত থেকে টাকার প্যাকেটটা মাটিতে পড়ে গেল।

সে কাঁপা গলায় বলল,

“কেন?”

লোকটা বলল,

“হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল।”

রহিম কিছু না বলে দৌড় দিল।

তার হাতে তখনও ঝালমুড়ির গন্ধ।

পকেটে দিনের উপার্জন।

কিন্তু মাথার ভেতর শুধু একটা কথাই ঘুরছিল—

“আম্মু… আমার জন্য যে জিনিসটা রেখে দিয়েছিলে, সেটা কী?”

হাসপাতালের করিডোরে পৌঁছে রহিম দেখল—

একজন ডাক্তার বেরিয়ে আসছেন।

রহিম ছুটে গিয়ে বলল,

“ডাক্তার সাহেব… আমার আম্মু কেমন আছে?”

ডাক্তার কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন,

“আপনি রহিম?”

রহিম মাথা নাড়ল।

ডাক্তার তার দিকে তাকিয়ে বললেন,

“আপনার মায়ের সঙ্গে কথা বলার আগে… আপনাকে একটা কথা বলতে হবে।”

রহিমের বুক কেঁপে উঠল।

ডাক্তার বললেন—

“আপনার মায়ের অবস্থা খুব ভালো নয়।”

রহিম দেয়ালে হাত রাখল।

তারপর আস্তে করে বলল,

“আমি কি… একবার আম্মুর সঙ্গে কথা বলতে পারি?”

ডাক্তার মাথা নাড়লেন।

রহিম ভেতরে ঢুকল।

বিছানায় শুয়ে থাকা মায়ের চোখ ধীরে ধীরে খুলল।

মা ছেলেকে দেখে মৃদু হাসলেন।

“তুই এসেছিস বাবা?”

রহিম মায়ের হাত ধরে বলল,

“হ্যাঁ আম্মু… আমি এসেছি।”

মা ফিসফিস করে বললেন,

“তোর জন্য একটা জিনিস রেখে গিয়েছিলাম…”

রহিম কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“ওসব এখন লাগবে না আম্মু। তুমি আগে ভালো হও।”

মা মৃদু হাসলেন।

তারপর বললেন—

“বাবা… সবসময় তো মানুষ তার প্রিয় মানুষগুলোর পাশে থাকতে পারে না…”

রহিম মায়ের হাত আরও শক্ত করে ধরে বলল,

“এমন কথা বলো না আম্মু…”

মা চোখ বন্ধ করে ফেললেন।

আর রহিম তখনও জানত না—

তার মায়ের রেখে যাওয়া সেই ছোট্ট জিনিসটার ভেতরে কী লেখা ছিল।

চলবে…

**পর্ব–২: — খুব শিগগিরই…

Comments

    Please login to post comment. Login

  • ২য় পর্বের অপেক্ষায়। কিছু কিছু বাক্য গঠনে ঝামেলা মনে হয়েছে। টাটকা ঝালমুড়ি হয় কিনা একটু দেখবেন? বাবার অ্যাকসিডেন্টের ঘটনাটা আরেকটু ক্লিয়ার করতে পারতেন। শুভ কামনা৷