এই ঈদের ঘটনা।
৫০+ ঘণ্টা বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। ইন্টার্নেট ছিল না। খালি পড়ছি, পড়ছি আর পড়ছি। প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার বই ৫ দিনে শেষ করে দিলাম।
ছোট একটা রিভিউ।
নামঃ দশগ্রীব
লেখক: সিদ্দিক আহমেদ
জনরা: সাই-ফাই/ কল্পবিজ্ঞান
প্রকাশক: বাতিঘর
প্রথম প্রকাশ: ২০১২
পৃষ্ঠা: ৪০০+
কাহিনী সংক্ষেপঃ
খুবই সংক্ষেপে, হইছে কি জানেন একজন প্রফেসর, ওইযে মাটি খুরে পুড়নো জিনিস নিয়ে গবেষণা করে। ওই ধরনের প্রফেসর, বাংলায় বলে আর্কিওলজিস্ট, সে এক জায়গায় মাটি খুরে একটা বই পায়। সেই বইতে একটা আজব জিনিস থাকে। কি থাকে বলবো না, পড়ে নিয়েন।
কিন্তু সেই বইয়ের জন্য সে খুন হয়ে যায়। সেই বই চুরি হয়ে যায় তার বাসা থেকে। কেন চুরি হয়, কি আছে সেই বইয়ের পাতায়, সেটা খুঁজতে শুরু করে তার দুই ছাত্র। একজন ছাত্র আর একজন ছাত্রী। খুঁজতে গিয়ে তারা বিভিন্ন বিপদে পড়তে থাকে। আর আবিষ্কার করে এর পিছনে আরো অনেক লোক লেগে আছে।
কারা লেগে আছে সেটা জানতে হলে পড়তে হবে এই বই।
আমার অনুভূতি আর হাবিজাবি জিনিসঃ
অনুভূতি খুব একটা সুবিধার না।
জ্বীন বইটা নিয়ে লেখকের একটা দুর্নাম আছে, যে সে INFORMATION DUMPING করেছে অনেক। যারা এমন অভিযোগ করছে তাঁদের বলবো এই বইটা পড়েন। ভাইরে ভাইরে, এতো আকডুম-বাকডূম লিখছে যে শেষের দিকে আমি পেজ স্কিপ করে গেছি। মানে দুই-তিন প্যাড়া পড়েই বুঝতে পারছি এখন কিছু DUMPING হবে, পুরো অধ্যায় বাদ দিয়ে গেছি।
INFORMATION DUMPING যে আমার কাছে খারাপ লাগে সেটা কিন্তু না।
আমার আরো কিছুটা ভালোই লাগে, যে নতুন নতুন আঙ্গিকে কিছু জানতে পারছি। কিন্তু যখন দেখি এই INFORMATION পড়ে এসে গল্পের কোথাও যোগ হচ্ছে না, তখন বিরক্ত লাগে কিছুটা। INFORMATION DUMPING বাদ দিলে বইটা ২০০-২৫০ পেজে শেষ হয়ে যেতো।
এই বইয়ের আর একটা জিনিস আমার কাছে বেশ খারাপ লেগেছে। একবার ভেবেছিলাম কথা বলবো না, যেহেতু আমি লিখি, আমার লেখা “আঁধারে লুকানো ভয়” বইটা বাজারে ঘুরছে। তাই ভেবেছিলাম এড়িয়ে যাবো, কিন্তু বইয়ে জিনিসটা এমন ভাবে আছে চোখে লাগার মতন।
সেটা হল “বানান ভুল”, তাও আবার বেশ ফানি ভাবে। মানে, এমন ভুল না যে, সবাই একটা জানে কিন্তু বইয়ে অন্য রকম আছে, ভুল গুলো হল “Missing” টাইপের। যেমন, একটা শব্দে লেখক “ঈ”কার ব্যবহার করেছেন, কিন্তু সেই একি শব্দে পড়ে আবার “ই”কার, আবার পড়ে একি শব্দে “ঈ”কার। আবার ধরেন, “ব্যথা” বানানটা কোথায় উনি ব-এ য ফালার পড়ে “আ”কার দিয়েছেন আবার কোথাও দেননি। সম্পাদনা যে কি ভ্যাজলের কাজ কিছুটা হলেও বুঝি, তাই আর লেখায় বানান ভুল ধরতে যাই না। কিন্তু “Missing” টাইপের ভুলগুলো হয়তো এড়ানো সম্ভব।
যাইহোক, ওভারঅল মোটামুটি কিন্তু INFORMATION একটু কম দিলেও হয়তো।
ধন্যবাদ,
আবার আসবেন।
বেশী বেশী বই পড়বেন।