Biography
নিজেকে এখনো লেখক বলতে পারি না। অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। আমার প্রথম এবং একমাত্র বই প্রকাশিত হয় আমার ৪০ বছর বয়সে। তাই খুব জানতে ইচ্ছে করছিল যে ৪০ বছর বয়সে থ্রিলার লেখকরা কেমন ছিলেন। পড়েছি, জেনেছি এবং জানাতে চাচ্ছি। ১০ জন লেখক এলোমেলো ভাবে বাছাই করেছি। তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী চেষ্টা করবো তুলে ধরতে।
সিরিজের নাম দিলাম “৪০ এ প্রথম বই”…
পর্ব_৩
*******
জেমস এ. মিচেনার: পৃথিবীকে গল্পে রূপ দেওয়া এক আজীবন অভিযাত্রীর জীবন
James A. Michener (1907–1997)
কিছু লেখক একটি শহরকে নিয়ে লেখেন, কেউ একটি পরিবারকে, কেউ একটি যুগকে, কেউ সব কিছুর মাঝে থ্রিল নিয়ে আসেন। আর জেমস এ. মিচেনার এমন একজন কথাশিল্পী, যিনি যেন পুরো একটি ভূখণ্ডকে নিজের উপন্যাসের চরিত্র বানিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁর কাছে ইতিহাস শুধু তারিখ ও যুদ্ধের তালিকা ছিল না; ইতিহাস ছিল মানুষের জীবন, পরিবার, প্রেম, সংঘর্ষ, বিশ্বাস, লোভ, ক্ষোভ, পরিশ্রম এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা স্মৃতি। তাঁর বিশাল আকারের উপন্যাসগুলোতে একটি জায়গার ভূতত্ত্ব থেকে শুরু করে মানুষের অভিবাসন, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও পারিবারিক কাহিনি একসঙ্গে প্রবাহিত হয়েছে। তিনি চল্লিশের কাছাকাছি বয়সে কথাসাহিত্যে প্রবেশ করেন এবং প্রথম প্রকাশিত বই দিয়েই Pulitzer Prize জিতে নেন। পরবর্তী পাঁচ দশকে তিনি চল্লিশেরও বেশি বই লিখে বিশ শতকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পরিশ্রমী আমেরিকান লেখকদের একজন হয়ে ওঠেন।
জেমস অ্যালবার্ট মিচেনারের জন্ম ১৯০৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। তাঁর শৈশব Pennsylvania-র Doylestown-এ কেটেছে এবং সেখানকার মানুষ হিসেবেই তিনি পরবর্তীতে পরিচিত হন। ছোটবেলাতেই তিনি দত্তক পরিবারে বড় হন। তাঁর পালক মা Mabel Michener ছিলেন ধর্মপ্রাণ ও মিতব্যয়ী নারী। ছোটবেলার এই সংযমী পরিবেশ তাঁর চরিত্রে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। বই, শিক্ষা এবং নিজের কৌতূহলই ধীরে ধীরে তাঁর পৃথিবীকে বড় করে দেয়। কিশোর বয়সেই তিনি আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভ্রমণ শুরু করেন। ভ্রমণ তাঁর কাছে পরে শুধু আনন্দ নয়, জ্ঞান অর্জনের এক পদ্ধতিতে পরিণত হয়।
তিনি Swarthmore College-এ পড়াশোনা করেন এবং ১৯২৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে University of St Andrews-এও পড়াশোনা করেন এবং শিক্ষকতা শুরু করেন। Pennsylvania-র George School, Colorado State Teachers College এবং Harvard University-তে তিনি শিক্ষকতা ও শিক্ষাবিষয়ক কাজ করেন। এই সময় তিনি ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি এবং মানুষের সমাজজীবনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর উপন্যাসের বিশাল পরিসরের পেছনে এই শিক্ষকের চোখটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
লেখক হওয়ার আগে মিচেনারের জীবন ছিল নানা পেশা ও অভিজ্ঞতায় ভরা। তিনি পাঠ্যবই সম্পাদনার কাজ করছিলেন, তখনও উপন্যাসিক হিসেবে পরিচিত নন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। তিনি United States Navy-তে যোগ দেন এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেন। একজন naval historian হিসেবে তিনি বহু দ্বীপ, ঘাঁটি ও যুদ্ধক্ষেত্রের মানুষের জীবন কাছ থেকে দেখেন। এই অভিজ্ঞতাই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় হয়ে দাঁড়ায়।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থানকালে তিনি যে মানুষগুলোকে দেখেছিলেন, যে গল্পগুলো শুনেছিলেন এবং যুদ্ধের যে বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, সেগুলো তাঁর মনে জমতে থাকে। তিনি যুদ্ধকে শুধু সৈনিকের চোখে দেখেননি। সেখানে ছিলেন অফিসার, সাধারণ নাবিক, নার্স, স্থানীয় মানুষ, বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মানুষ এবং যুদ্ধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবার। Espiritu Santo-তে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি সেই গল্পগুলোকে কাগজে রূপ দিতে শুরু করেন।
এভাবেই জন্ম নেয় Tales of the South Pacific। ১৯৪৬ সালে লেখা এই বইটি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। মিচেনারের বয়স তখন ৪০। তাঁর প্রথম প্রকাশিত বইই ছিল অসাধারণ সাফল্যের সূচনা। বইটি পরস্পর-সম্পর্কিত গল্পের সমষ্টি, যেখানে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জীবন, প্রেম, ভয়, বর্ণবৈষম্য এবং যুদ্ধের অদ্ভুত স্বাভাবিকতার ছবি উঠে আসে। মজার বিষয় হলো, তিনি বইটি নিজের আগের কর্মস্থলের প্রকাশক Macmillan-এ ছদ্মনামে পাঠিয়েছিলেন, কারণ কর্মরত কর্মচারীর লেখা প্রকাশ করার প্রতিষ্ঠানের নীতি ছিল না। বইটি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয় এবং এক বছর পর, ১৯৪৮ সালে, Tales of the South Pacific তাঁকে Pulitzer Prize for Fiction এনে দেয়।
Tales of the South Pacific-এর সাফল্য শুধু একটি পুরস্কারে থেমে থাকেনি। Richard Rodgers ও Oscar Hammerstein II বইটির গল্পের ওপর ভিত্তি করে South Pacific নামের Broadway musical তৈরি করেন। ১৯৪৯ সালে মঞ্চে আসা এই musical ব্যাপক জনপ্রিয় হয় এবং পরে চলচ্চিত্রেও রূপ নেয়। ফলে মিচেনারের প্রথম বই আমেরিকান জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়। একজন চল্লিশ বছর বয়সী, এতদিন মূলত শিক্ষক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করা মানুষ হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত লেখক হয়ে উঠলেন। এরপর একে একে আসে The Fires of Spring, Return to Paradise, The Bridges at Toko-Ri এবং Sayonara। তিনি দ্রুত বুঝে ফেলেছিলেন, একটি গল্পকে বড় করতে হলে শুধু কল্পনা যথেষ্ট নয়; জায়গাটিকে জানতে হয়, তার ইতিহাস জানতে হয়, তার মানুষকে বুঝতে হয়। এই বিশ্বাসই পরবর্তী জীবনে তাঁর লেখার সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।
১৯৪৯ সালে তিনি Honolulu-তে চলে যান এবং Hawaii-কে নিজের সাহিত্যিক গবেষণার বড় ক্ষেত্র বানান। Hawaii উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। বইটি লেখার আগে তিনি দীর্ঘ সময় গবেষণা করেন। দ্বীপগুলোর ভূতত্ত্ব, প্রাচীন মানুষ, Polynesian সংস্কৃতি, missionary আগমন, অভিবাসন, চাষাবাদ, রাজনীতি এবং আধুনিক Hawaii গড়ে ওঠার ইতিহাস তিনি গভীরভাবে изучনা করেন। তাঁর উপন্যাসে একটি জায়গার গল্প শুরু হয় মানুষের আসারও আগে, যেন ভূমির নিজস্ব একটি স্মৃতি আছে।
এরপর একে একে আসে Caravans, The Source, The Drifters, Centennial, Chesapeake, The Covenant, Space, Poland, Texas, Alaska, Caribbean এবং Mexico। প্রতিটি বইয়ের পেছনে ছিল দীর্ঘ গবেষণা। The Source-এ প্রাচীন ও আধুনিক Israel-এর ইতিহাস; Centennial-এ আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলের বহু প্রজন্মের কাহিনি; Chesapeake-এ একটি ভূখণ্ড ও তার জলজীবনের ইতিহাস; Space-এ মহাকাশ অভিযান ও আমেরিকার বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা। তাঁর বইয়ের চরিত্র অনেক সময় একক নায়ক নয়; বরং একটি পরিবার, একটি জনগোষ্ঠী, অথবা একটি জায়গাই হয়ে ওঠে প্রধান চরিত্র।
মিচেনারের চরিত্রগুলো তাই অনেক লেখক-লেখিকাদের মতো প্রধানত মনস্তাত্ত্বিক গভীরতার একক চরিত্রকেন্দ্রিক সাহিত্যিক জগৎ তৈরি করে না। তাঁর শক্তি অন্য জায়গায়। তিনি দেখাতে চেয়েছেন একজন মানুষ কীভাবে ইতিহাসের বিশাল স্রোতের মধ্যে বাস করে। একটি পরিবারের কয়েক প্রজন্মকে পাশাপাশি রেখে তিনি দেখিয়েছেন, একটি সিদ্ধান্তের প্রভাব কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে যায়।
তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজগুলোর মধ্যে Centennial বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত এই বিশাল উপন্যাসে Colorado অঞ্চলের ইতিহাসকে বহু প্রজন্মের পরিবার, কৃষক, পশুপালক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, অভিবাসী এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। বইটি পরে জনপ্রিয় television miniseries-এ রূপ নেয়। The Source-ও তাঁর অন্যতম উচ্চাভিলাষী কাজ, যেখানে একটি নির্দিষ্ট স্থানকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার বছরের সভ্যতা, ধর্ম এবং মানুষের জীবনকে এক সুদীর্ঘ কাহিনির মধ্যে আনা হয়েছে।
মিচেনারের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল পরিবর্তনে ভরা। তিনি মোট তিনবার বিয়ে করেন। প্রথম বিবাহ ভেঙে যাওয়ার পর তিনি Vange Nord-কে বিয়ে করেন। সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৫৫ সালে তিনি Mari Yoriko Sabusawa-কে বিয়ে করেন। Mari ছিলেন জাপানি-আমেরিকান নারী এবং তাঁদের বিবাহ প্রায় চার দশক স্থায়ী হয়। তাঁদের নিজেদের কোনো সন্তান ছিল না। তবে তাঁরা বহু অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে আশ্রয় ও সহায়তা করেছিলেন।
তাঁর জীবনে ভ্রমণ ছিল প্রায় নেশার মতো। তিনি পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছেন এবং প্রতিটি ভ্রমণকে সম্ভাব্য গল্পের দরজা হিসেবে দেখেছেন। Spain ও Portugal-এর অভিজ্ঞতা থেকে Iberia, Afghanistan-এর অভিজ্ঞতা থেকে Caravans, Poland-এর ইতিহাস থেকে Poland, Mexico-এর প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ থেকে Mexico-এর মতো বই এসেছে। তিনি কোনো জায়গায় গিয়ে শুধু পর্যটকের মতো দেখতেন না। তিনি ইতিহাস পড়তেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন, জাদুঘর ঘুরতেন, পুরোনো দলিল দেখতেন এবং ভূগোল ও অর্থনীতিও বুঝতে চাইতেন।
এই জায়গাতেই মিচেনারের লেখার সঙ্গে থ্রিলার সাহিত্যের একটি আকর্ষণীয় সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনি মূলত গতানুগতিক ধারার thriller writer ছিলেন না। তাঁর উপন্যাসের লক্ষ্য ছিল suspense দিয়ে পাঠককে দ্রুত শেষ পাতায় পৌঁছে দেওয়া নয়। বরং তিনি দীর্ঘ সময় ধরে একটি পৃথিবী তৈরি করতেন এবং সেই পৃথিবীর মধ্যে সংঘর্ষ, যুদ্ধ, বিশ্বাসঘাতকতা, বিপদ, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, প্রেম ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে প্রবাহিত করতেন। তাঁর suspense ছিল ‘এরপর কী হবে’ এর পাশাপাশি ‘এই ঘটনা কীভাবে এতদূর এলো’ এই প্রশ্নে।
মিচেনার লেখকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রেখে গেছেন: গবেষণা কল্পনার শত্রু নয়, বরং কল্পনার শক্তি। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি জায়গা বা সময়কে যত ভালোভাবে জানা যায়, গল্প তত বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়। তাঁর লেখার প্রস্তুতি ছিল প্রায় সাংবাদিকের মতো। তিনি নোট নিতেন, ভ্রমণ করতেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলতেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ করতেন।
তাঁর নিজের লেখালেখির দর্শন নিয়ে The World Is My Home এবং James A. Michener’s Writer’s Handbook বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নবীন লেখকদের জন্য শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় এবং নিয়মিত কাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তাঁর নিজের জীবনই তার প্রমাণ। জীবনের প্রথম চার দশক প্রায় অন্য পেশায় কাটিয়ে তারপর কথাসাহিত্যে প্রবেশ করেন। প্রথম বই প্রকাশের আগেই তিনি শিক্ষক, সম্পাদক, নাবিক ও গবেষক হিসেবে জীবন দেখেছিলেন।
জীবনের শেষ দশকেও তাঁর লেখার গতি কমেনি। ১৯৯২ সালে প্রকাশ করেন স্মৃতিকথা The World Is My Home। সেখানে তিনি নিজের শৈশব, শিক্ষা, যুদ্ধ, ভ্রমণ, সাহিত্যিক জীবন এবং পৃথিবী দেখার অভিজ্ঞতা ফিরে দেখেন। ১৯৯৩ সালে Literary Reflections প্রকাশ করেন এবং জীবনের শেষ দিকেও প্রবন্ধ ও বই লিখে যান। তাঁর লেখকজীবনের বিস্তার ছিল প্রায় পাঁচ দশক।
জেমস এ. মিচেনার ১৯৯৭ সালের ১৬ অক্টোবর, ৯০ বছর বয়সে Austin, Texas-এ মৃত্যুবরণ করেন। জীবনের শেষ পর্যায়েও তিনি তাঁর সম্পদ, সময় ও প্রভাবের একটি বড় অংশ শিক্ষা, শিল্প ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেন। তিনি শুধু বই রেখে যাননি; রেখে গেছেন একটি ধারণা—একজন লেখক পৃথিবীকে যত বেশি জানবেন, তাঁর গল্পের পৃথিবী তত বড় হবে।
জেমস মিচেনারের সাহিত্যকে এক বাক্যে ধরতে গেলে বলা যায়, তিনি ছিলেন ভূগোল ও ইতিহাসের কথাশিল্পী। তিনি মানুষের গল্প লিখেছেন, কিন্তু সেই মানুষকে কখনও তার মাটি থেকে আলাদা করেননি। তাঁর কাছে একটি দ্বীপেরও শৈশব আছে, একটি শহরেরও স্মৃতি আছে, একটি নদীরও ইতিহাস আছে। চল্লিশ বছর বয়সে প্রথম বই প্রকাশ করে Pulitzer Prize জয় করা মিচেনারের জীবন তাই দেরিতে শুরু হওয়া সাফল্যের গল্পের চেয়েও বড় কিছু। এটি প্রমাণ করে, একজন মানুষ যতদিন কৌতূহলী থাকেন, ততদিন তাঁর জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না।
সম্পাদনা-নোট: Tales of the South Pacific তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই এবং ১৯৪৮ সালের Pulitzer Prize for Fiction বিজয়ী। বইটি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়, তখন মিচেনারের বয়স ৪০। তিনি পরে চল্লিশেরও বেশি বই লেখেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে তিনটি বিবাহ ছিল; তৃতীয় স্ত্রী Mari Yoriko Sabusawa-র সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দাম্পত্য ছিল।
একটা বিষয় উল্লেখ করা ভালো: সাহিত্য ইতিহাসে ঠিক ৪০ বছর বয়সে প্রথম বই প্রকাশ হওয়া লেখক খুব বেশি নেই। অনেকেই ৪০–৫০ এর মধ্যে শুরু করেছেন এবং তারপরেই বিশ্বখ্যাত হয়েছেন।
Note: Info collected from www-pulitzer-org/winners/james-michener, www-bsco-com. Pic collected from Britannica.