লস্ট লাভ
প্রিয়তমা সুনয়না,
কেমন আছো তুমি? যদিও অবান্তর তবুও জিজ্ঞাসি। তুমি ভালো আছো, সবসময়ই ভালো থেকো। যেমন ভালো থাকে জোছনা ভরা রাতে আকাশের সব তারারা ঠিক তেমনই। আমি জানি, আমি জানি- তোমার হৃদয় এমনই। সুনয়না, তুমি ভালো থেকো ভর পূ্র্ণিমায় হৃদয় মেলে জোছনায়। তুমি ভালো থেকো ফাগুনের বাগানে গোলাপের হাওয়ায়। তুমি ভালো থেকো কৃষ্ণচূড়ার ডালে লালে লালে। সুনয়না, তুমি ভালো থেকো গোধূলির ধূলায় আর আমার না-পাওয়ায়!
সুনয়না, তুমি কি জানো?
তোমার জন্যে, তোমার ভালোবাসা পাবার জন্যে-
হাজারো বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি অপেক্ষায়,
তুমি ভালোবাসবে কাছে আসবে তারপর হাতে হাত-
ফাগুনের বাগান তছনছ করে উড়বো বাতাসে,
হাঁটবো অনন্তকাল পাশাপাশি তারায় তারায়!
সুনয়না তুমি কি জানো?
তোমার চোখে চোখ রেখে পাড়ি দিতে পারি
সাত সমুদ্র আর তেরো নদী
তোমার চোখে চোখ রেখে কাটিয়ে দিতে পারি
বসন্তহীন বাগানে দীর্ঘ অমানিশা-রাত্রি আজীবন নিরবধি!
তোমার চোখে চোখ রেখে
আমি নির্ঘুম জীবন দিতে পারি পাড়ি
তোমার অপেক্ষায় আমি হ্যালির ধূমকেতু হতে পারি-
প্রতি বসন্তে জোছনার আলো না মেখে
গোধূলি বেলার নীড়ে ফেরা পাখিদের সুখ অবহেলায় রেখে
প্রতিটি ভোরে শিউলি ফুলের না-ফোটা দেখে
জীবনকে জীবনের হাতে রেখে ভীষণ একাকী
তবুও যদি তোমার হতে পারি!
প্রিয়তমা সুনয়না,
তবুও বলি- তুমি কেমন আছো?
তোমার এলোমেলো চুলে এখনও ফাগুন ওড়ে?
তুমি কি চোখে চোখে ফাগুন আঁকো?
তোমার কথায় কথায় কি এখনো জোছনা ছড়ায়?
তোমার হাসিতে কি এখনো গোলাপী মুক্তা ঝরে?
প্রিয়তমা সুনয়না,
তুমি কি এখনও চুপচাপ আকাশ দেখো?
তুমি কি এখনও কারো নিদ্রা হরণ করো?
তুমি কি বসন্তের বাগানে হাজারো গোলাপ ফোটাও?
নাকি চুপচাপ চঞ্চলা হরিণীর মতো বন মাতিয়ে চলো?
নাকি একলা চলো নীল জোছনায় কষ্ট বিলিয়ে!
এখনও কি আমাকে হেলাল হাফিজের মত কষ্টে রাখো?
ঠিক আছে, তুমি তোমার মত করে কষ্ট গোটাও!
আমি বসন্তের বাগানে আজীবন উথাল হাওয়া হবো
গোলাপের সুবাসে তোমাকে খুঁজে নেবো
খুঁজে নেবো তোমাকে হাজারো গোলাপের ভিড়ে
না হোক ফেরা, তবুও উড়বো আজীবন অনন্তকাল
গোধূলির ডানায় পাখা মেলে সন্ধ্যার নীড়ে
তুমিই আমার প্রথম প্রেম তুমিই আমার প্রিয়ে!
প্রিয়তমা সুনয়না-
আমি তোমাকে এখনও দেখি স্বপ্নের ঘোরে
তোমাকে ভালোবাসি, ভালোবাসি তোমার চোখ
তোমাকে না দেখে কাটিয়েছে সাঁইত্রিশ বসন্ত
শুধু আমিই জানি কাটিয়েছি কেমন করে?
তবুও তোমায় ভালোবাসি, দেখা হোক বা না-হোক!
তোমার নামে এই হৃদয়ে বেঁধেছি এক আকাশ
তুমি ছিলে প্রথম প্রেম প্রথম ভালোবাসা
এই জীবনে আর কোন কথা হোক বা না-হোক!
প্রিয়তমা আমার- তোমাকে ভালোবেসেছি
ভালোবেসে ভেবেছি নানান সুখের কথা;
ভ্রমরের কানে কানে বলে দিয়েছি-
বসন্ত বাগান মাতাল করে দিও
মাতাল করে দিও বিরহের সকল সন্ধ্যা
উত্তুরে হাওয়ায় ভালোবাসার একটু ওম দিও
ফাগুন বনে আগুন লাগিয়ে উড়ে এসো আমার কাছে
প্রিয়াকে কানে কানে বলে দিও আমার কথা
বলে দিও আমার রাত জাগা পাখিদের কষ্টের কথা
আমি কেমন করে বিরহে সুখ খুঁজি
বলে দিও, আমি ভালো আছি তবুও ভালো আছি।
প্রিয়তমা আমার-
আমি এক জীবনে হাজারো জীবনের অপেক্ষায় আছি
যদি তোমার দেখা পাই হবো একটু কাছাকাছি
তুমি নাইবা জিজ্ঞাসিলে আমাকে
আমার কথা, বিমুর্ত মুহূর্তের কথা অথবা
কেমন ছিলাম তোমায় ভালোবেসে শূন্যের আলোকে!
প্রিয়তম সুনয়না-
তবুও তোমায় ডাকি হৃদয়ে আঁখি তোমার কথা
তবুও অপেক্ষায় থাকি হৃদয়ে ঢাকি কতশত ব্যথা?
প্রিয়তমা আমার-
তোমায় ভেবে ভেবে সন্ধ্যা আরতি করি
তোমায় ভেবে ভেবে আকুল হই হৃদয়ে ভগ্ন-হৃদয় ভরি
হোক বা না-হোক এই জীবনে তোমার আমার দেখা
আমি লক্ষ জীবন সঁপেছি তোমার নামে
তোমার নামে সঁপেছি আমার এই জীবন,
যদি নামে সন্ধ্যা নামুক এই অবেলার ভরদুপুরে
তবুও তোমাকে ভালোবাসি প্রিয়তমা সুনয়না
না আসুক ফাগুন, না ফুটুক গোলাপ
তবুও মনের উঠান আমার সর্বৈব ফাগুন।
প্রিয়তমা সুনয়না-
তোমার নামে সব ফাগুনে একটি গোলাপ রাখি
তোমার নামে ভালোবাসার খামে ভালোবাসা আঁকি
প্রিয়তমা সুনয়না-
তুমি আমার ভালোবাসা তুমিই আমার প্রেম
তুমি আমার লক্ষ গোলাপ ভালোবাসার হেম।
তুমি আমার ফাগুন বনে উতাল হাওয়া
দক্ষিণা হাওয়া মনে
তুমি আমার একটি গোলাপ ফাগুন-জ্বলা বনে!
প্রিয়তমা সুনয়না, আমার ভালোবাসার নাম
তুমি আমার ছিলে, আছো, থাকবে চিরকাল
তুমি আমার অনন্ত ভালোবাসা অন্তরে বহমান
তুমি আমার ঘুম কাতরে দুপুর আর শান্ত বিকাল!
তোমার নামে পত্র দিলাম শোকে শোকে গান
গানে গানে হোক মিতালী ভালোবাসার প্রাণ
তোমার নামে গাঁথি মালা লিখি কবিতা
তুমি এসো ভালোবাসার শূন্য রাগে
তবুও তো পুর্ণ হবে শূন্য একটি বাগান
তবুও তো বুঝবো আমি আজও বেঁচে আছি
রেখে দিলাম পত্র লেখা টানছি এবার ইতি
ইতি- পার্থসারথি।
০৯-০২-২০২৫