পর্ব:২
সাল ২০১৩। জুলাই মাসের ১তারিখ। এটি হচ্ছে জিলা কলেজ আর ভবিষ্যতে সরকারি হতে পারে এই আশায় এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতারা এটিকে সকল শ্রেণির ছেলেমেয়েরা যেনো পড়ালেখার সু্যোগ পায় সে লক্ষেই তৈরি করেছে। যেহেতু কলেজের নতুন বছর শুরু হয় জুলাই মাস থেকে। আজকের দিনটিও জুলাই মাসের একটা সুন্দর সকাল । হালকাবাতাস সাথে রোদ উজ্জল একটা সকাল। দেখেই মন ফুরফুরা হয়ে যাওয়ার মতো।
সকাল ১০টায় ওয়ারেন্টিশন ক্লাস শুরু হবে আর আছে নতুন সকল শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য একটা করে উপহার।উপহারে দেওয়া হবে একটা করে কলম সাথে একটা রজনী গন্ধা ফুলের স্টিক।
কলেজ গেইটে এসে রিয়াদের রিকসা থামল। যদিও তাদের বাড়ি থেকে হেঁটে আসা যাওয়া করা যায় তারপরেও রিয়া আর হেমা আজ প্রথমদিন বলে, সেইসাথে একটু তাড়াতাড়ি আসলে সবার সাথে মোটামুটি দেখাসাক্ষাৎ হবে, কলেজটাও ঘুরে দেখা হবে এভেবেই রিকাসা করে জলদি চলে এলো। রিয়া ভাড়াটা দিয়েই হেমার সাথে নেমে এলো।
কলেজে ডুকতেই দেখা গেলো চেনা অচেনা কত শত মুখ। কিন্তু রিয়া আর হেমা খুঁজছে তাদের পরিচিত মুখগুলো।
হেমা বললো চল আগে নাস্তা করে আসি। আমি বাসা থেকে খেয়ে আসিনি। কি! তুই নাস্তা করিস নাই। আর এটা এখন বলতেছিস,, আর আমিও কেমন তোকে জিজ্ঞেস ও করলাম না তাড়াহুড়ায় এই বলে রিয়া নিজের ওপরই নিজে রাগ হচ্ছিলো।
আরে তোর বলার কি আছে, আমার খুদা লাগলে কবে তোকে বলছি বল।আমি তো সোজা আন্টিকে বলি বা খেতে বসে যায় তাই না এই বলে যে আন্টি আজ কি আছে নাস্তায়।তাহলে এতো ফরমালিটির কি আছে,, বাদ দে তো হেমা এই বলে রিয়া হাত ধরে টানতে টানতে ক্যান্টিনের দিকে এগিয়ে গেলো।
মামা ২টা চিপস দিবেন,২টা মজো দিবেন, সাথে একটা পানির বোতল হাফ লিটার আর ১টা কেক দিবেন মাঝারি সাইজেরটা। আর কিছু নিবো রিয়া? হেমা এইটা বলে রিয়ার দিকে তাকাল। রিয়া একটু রাগী হয়ে বললো তুই এক কাজ কর পুরো দোকান টা কিনে নে। এগুলো খাবি তুই??
আরে আমি আর তুই খাবো, আর ওরা আসলে ও তো আমাদের টা নিয়ে টানাটানি শুরু করবে এইবলে হেমা হাসতে লাগল।
দেন মামা, একটু তাড়াতাড়ি আমার জিনিসগুলো দেন। হেমা আর রিয়া যখন ক্যান্টিনের দিকে কেনাকাটায় ব্যস্ত তখন পেছন ডাক পড়লো তাদের আরেক বান্ধবী সোনিয়ার।
ওই তরা কি করছিস, কখন থেকে তদের খুঁজতেছি চল তাড়াতাড়ি হলরুমে নয়ত জায়গা পাবি না বসার।
রিয়া জিজ্ঞেস করলো বাকিরা কই?? উত্তরে সোনিয়া বললো ওরা হল রুমে,, ম্যামরাও চলে আসবে।চল চল তাড়াতাড়ি।
হলরুমে ডুকতেই ওরা অবাক। একপাশে ছেলেরা বসেছে আর অন্য পাশে মেয়েরা। বিশাল বড় হল রুম। রুমের চারদিকে স্পিকার বসানো।
সামনে বড় স্টেজের মতো এলাহি কান্ড।
সোনিয়া ওদের রাস্তা দেখিয়ে একদম মাঝখানের বেঞ্চের সামনে এসে দাড়ালো। ওরা সবাই একসাথে বসবে বলে আগে থেকে দুই বেঞ্চ ফিলাপ করে রেখেছিলো।
সময়ের সাথে সাথে সকাল প্রায় ১০টা ১০ বাজতেছে তখন সকল স্যার ম্যাম প্রেন্সিপাল সবাই চলে আসলো। এগিয়ে এসে সকল শিক্ষার্থীদেরকে উপহার দিয়ে বরণ করলো সিনিয়ার স্টুডেন্টরা। প্রথমে বক্তৃতা দিলেন ফাউন্ডার,তারপর অধ্যক্ষ তারপর স্যারম্যামদের একজনের বিশাল সব বক্তৃতা চললো। বক্তৃতা শেষে সবাইকে হালকা নাস্তা দেওয়া হলো তারপর বলা হলো যার যার গ্রুপ অনুযায়ী তাদের ক্লাসে গ্রুপের বিল্ডিংএর হলরুমে যাওয়ার জন্য। এতে সিনিয়ররা তোমাদের হেল্প করবে।
তখনই বুঝা যায় কলেজ জীবন মানে জীবনের আরেকটা অধ্যায়ের শুরু কেবল। যেখানে অনেকের রাস্তায় পরিবর্তন হবে। যেমনটা রিয়া, হেমা আর সোনিয়ার মধ্যে।
সোনিয়া গ্রুপ চেঞ্জ করে ফেলছে তার কারন সেই ব্যবসায় শিক্ষার অংক খুব ভালো বুঝেনা। যার ফলস্বরূপ রেজাল্ট ও খারাপ হয়েছে। তাই সে মানবিক শাখায় ভর্তি হয়েছে।
এমুহূর্তে ওদের মনটা অনেক খারাপ।
তুই চেষ্টা করলে পারতি, কিন্তু তোর তো আর পড়াতে মন নাই। কবে বিয়ে করবি সে ধান্দায় আছিস-এই বললে হেমা সোনিয়াকে হালকা করে তার পিঠে থাপ্পর দিলো। এখন একা একা মানবিকের ক্লাস করিস। দেখিস কেমন লাগে এইটা বলেই রিয়ার মনটাও খারাপ হয়েগেলো।
সোনিয়া উত্তরে বললো আরে ব্যাপার না শামিমা আছে না। ও থাকলেই আমার হবে।
সোনিয়ার কথা শুনে রিয়া আর হেমা দুজনেই অবাক হলো আর রিয়া বললো ওহ আচ্ছা শামিমা। ঠিকআছে তাহলে, আপনে ওনাদের সাথেই থাকেন।
সোনিয়া বললো আরে ভুলবুঝিস না ওর তো আমার বান্ধবীই অনেকদিনের।
হেমা সাথে সাথেই বললো তাহলে আমরা কি ছিলাম।
রিয়া তখন বললো আচ্ছা বাদ দে, এখন কথা দে আমরা প্রতিদিন কলেজে এসেই আগে দেখা করবো,টিফিন টাইমে বা ওফ ক্লাসে একসাথে আড্ডা দিবো ক্যান্টিনে খাবোদাবো। ব্যস।
সোনিয়া আর রিয়া একসাথে উত্তর দিলো আর প্রমিস করলো অবশ্যই।
এই কথা বলে রিয়া আর হেমা তাদের গ্রুপের বিল্ডিংএর দিকে চলে যেতে লাগলো আর সোনিয়া গেলো ওর গ্রুপের বিল্ডিংএর দিকে।
এইটা ছিলো তাদের গভীর বন্ধুত্বের আর স্কুল জীবনের একসাথে চলার ৪বছরের ইতি। তারপর,,,,,তা না হয় পরেই বলা যাবে।
ব্যবসায় শিখা শাখার ভবনটি ছিলল ৪তলা।যাতে অনার্সের ক্লাস ও ছিলো।নিচতলায় তাদের হলরুম, সেমিনার রুম সহ লাইব্রেরি ও ছিলো আর তার অন্য পাশে ছিলো একটা কমন রুম।
ভবনের পাশেই ছিলো সারিসারি সেগুন গাছ ৭/৮টা।আর তার পেছনে ছিলো একটা দোলনা, কয়েকটা বসার বেঞ্চ।
উলেক্ষ্য এইখানেই রিয়াদের গ্রুপের আড্ডাটা জমবে।
তো রিয়া আর হেমা যখন গিয়ে একটা বেঞ্চে বসলো তারপাশে এসে বসলো আরো ৩জন, যারা ওদের স্কুলেরই ক্লাসমেট ছিলো তবে এতো ক্লোজ ছিলা না। হালকা কথাবার্তা মধ্যে দিয়ে তারা একেঅন্যের সাথে কুশলবিনিময় করে নিলো।
রুমের অপরপাশে ছিলো ছেলেরা যাদের মধ্যে অনেকই রিয়া আর হেমা চিনে যেহেতু তারা একই স্কুলে একই ক্লাসে লেখাপড়া করে এসেছে।
তো এই গ্রুপের হলরুমে তাদের গ্রুপের সকল স্যার ম্যামরা কে কোন ক্লাস নিবেন, পড়ালেখার সকল ধরন বুঝিয়ে বলা হচ্ছে।
তারপর এইখানে গ্রুপের প্রধান জনাব আসাদ স্যার বললেন আগের বছরগুলোর তুলনায় এইবার আলাদা একটা নিয়ম করা হয়েছে। তা হলো প্রথম ৩মাস তোমাদের সবার একসাথে ক্লাস হবে। তারপর একটাপরিক্ষা নিয়ে সবাইকে আবার দুটো আলাদা ক এবং খ ক্লাস করা হবে। ঐ পরিক্ষায় যারা ভালো করবে তাদের জন্য ক শাখা আর যারা খারাপ করবে তাদের জন্য খ শাখা হবে।
যেনো সবাইকে তাদের অবস্থা অনুযায়ী পড়ানো যায়।
এইটা শুনার পর সকল ছাত্র ছাত্রী একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলো। রিয়া আর হেমা বেশ চিন্তায় পড়লো।
ভাবলাম স্কুলেও একসাথে ছিলাম এখন কলেজেও থাকবো। সোনিয়া তো গ্রুপ চেঞ্জ করলো এখন যদি আমরা ও আবার আলাদা আলাদা ক্লাসরুমে ক্লাস করি তাহলে কি ভালো লাগবে বল।ধূর ছাই-এই বলে রিয়া তাকাল হেমা দিকে। হেমা ও বললো ঠিকই বলেছিস৷ কলেজের শুরুতেই কে পড়ালেখা করে। রিয়া হালকা রাগান্বিত হয়ে বললো দেখ তুই একটু মন দিস পড়ালেখায়।
এতেই বুঝাযায় রিয়া পড়ালেখা নিয়ে হেমার তুলনায় একটু বেশি সিরিয়াস।
যাইহোক অবশেষে স্যার ম্যামরা এই কথা বলে নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বইয়ের লিস্ট এবং সিলেবাস দিতে লাগলেন।
প্রথমদিনের মতো কলেজের প্রথম দিন শেষ হলো।যদিও দিনটির শুরুটা ছিলো সুন্দর কিন্তু শেষ হলো চিন্তার,, রিয়া নিজেই মনে মনে নিজের সাথে এইকথাগুলো ভাবছিলো।