Story

গল্পটা এমন হলেও পারতো।

September 29, 2026

SR

3 views

পর্ব :৪

কলেজে জীবন যেমন নতুন নতুন লাগে তেমনি নতুন নতুন আরো অনেক কিছু করা হয়। যেমন ফেসবুক একাউন্ট। এই একটি একাউন্ট খুলতে তাঁকে কলেজে উঠা অব্দি অপেক্ষা করতে হয়েছে।

না আগে রিয়ার কোনো একাউন্ট ছিলো এমনি ওর কোনো বান্ধবীদেরও ছিলোনা। তাই এখন সবাই সবসময় কানেক্টেড থাকার জন্য ফেসবুক আইডি খুলছে। তাদের কথা হলো এখন শুধু আগের মতো ফোনকল বা ফোনের ম্যাসেজে কথা বলবে না। এখন তারা ফেসবুকেও একে অপরের সাথে সময় অসময়ে যোগাযোগ করতে পারবে সাথে গল্পও করতে পারবে।

কিন্তু তারপরেও তাদের জীবনে আরো একটা সমস্যা থেকে যায় তা হলো তাদের কারোরই নিজস্ব ফোন নেই।

তাতে কি তাদের মায়েদের হাতে স্মার্ট ফোন থাকলে ও নেই ইন্টারনেট চালানোর মতো ধারনা আর সময়।

ফোন সারাদিন এককোণে পড়ে থাকে যতক্ষণ না রিয়া আর তার স্কুল-কলেজ থেকে বাসায় ফিরে। এইটা যেন প্রত্যেকটা পরিবারের কাহিনী এই সময়ের।

রিয়া কলেজ শেষ করে সবে বাসায় ফিরেছে। এখন বিকাল প্রায় ৪টা। সেই ফ্রেশ হয়েই ভাবলো একটু ঘুমাবে৷ কিন্তু তখনই মনটা বলো ফেসবুকে একবার ঘরে আসি। যেইভাবা সেই কাজ। আস্তে আস্তে সেই মায়ের ঘরে উঁকি দিলো দেখলো তার মা আর তার ছোট ভাই ঘুমিয়ে। ছোট বোন ও বাসায় নেই প্রাইভেটে। সে মনে মনে খুশিই হলো। যাক অনেকক্ষণ ফেসবুক ব্যবহার করা যাবে।

এইভেবেই সে এক পা দু পা করে ওয়ারড্রবের ওপর থেকে ফোনটা নিয়ে নিজের রুমে এলো। তারপর ফোনের ডাটা অন করে ফেসবুক এ্যাপে ডুকে নিজের আইডিটা লগ-ইন করে নিলো।

ফেসবুক ওপন করতেই দেখলো অনেক নোটিফিকেশন আর অনেক অনেক রিকুয়েষ্ট। বলা ভালো রিয়ার এই আইডিটা ছিলো ফেইক যেনো ওর কোনো চাচাতো বা মামাতো বড় ভাইদের চোখে না পড়ে। আর এসময়টাই ছিলো এমন সবাই সহজে ছবি দিতো না। বিশেষকরে রিয়াদের পরিবার ছিলো কিছুটা কনজার্ভেটিভ। এই ভয় থেকে শুধুমাত্র কলেজ বন্ধুদের সাথে এড থাকবে বলেই এই আইডিটা ওপেন করেছে সেই।

এতো এতো রিকুয়েষ্ট দেখে ওর একটু ভয় ও লাগছে আবার অনেক ভালোও লাগছে। তবে কার রিকুয়েষ্ট এক্সেপ্ট করবে আর কারটা না,, কে তার কলেজের বন্ধু -বান্ধুবী আর কে না সেইটা কিভাবে বুঝবে। এইসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ তার চোখে পড়লো একটা ছেলের আইডি। আর তার মিউচুয়াল ফ্রেন্ড রিয়ার স্কুলের বন্ধুর। যে নাকি এখন তার সাথেই এক কলেজে পড়ে। আইডির নাম Mr. Spider-Man.

রিয়া ভাবলো Spider Man,এইটা আবার কেমন নাম! নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো। আর ফেসবুক প্রোফাইলে ডুকে দেখলো খুব বেশি তথ্য নেই আর ছবি ছিলো স্পাইডার ম্যানের।

রিয়া যেমন অবাক হলো তেমন হাসলোও। হায় বেচারা মনে হয় স্পাইডার ম্যানের ফ্যান। থাক তোমার কাজ ঝুলে থাকা। তুমি ঝুলে থাকো আমার আইডিতে। মনে মনে এই বলে রিয়া তার আইডি লগ আউট করে ফেললো।

সন্ধ্যায় রিয়া তার বোন আর তাদের দুজন কাজিন তমা আর রূপা,যারা সম্পর্কে রিয়া চাচাতো বোন। তারা যখন একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো তখন রিয়া বললো জানিস আজকে আমাকে স্পাউডার ম্যান রিকুয়েষ্ট দিসে,,হা,,হা,,হা,,,।

বাকিরা একটু অবার হলো। ওর তমা বললো আজাইরা। ফেসবুকে এইসব ভুয়া। সবাই ফেইক নাম ব্যবহার করে।

আমি জানি এইটা ভুয়া। তবে ঐ আইডির নামই স্পাইডার ম্যান।

কই দেখা তো, রিয়ার বোন বললো।

তাহলে এক্সেপ্ট করলি না কেনো,,দেখ কে হয় তমা আবার বললো। এর মধ্যে থেকে রূপা বললো হুম পরে যদি বড় ভাই হয় এইটা তখন।

সবাই চিন্তায় পড়লো। রিয়া বললো না না বাবা আর যাইহোক বড় ভাইকে এড করলে খবরই আছে।

তাদের কথার মধ্যেই তাদের মা আর চাচিদের ডাক পড়লো। পড়তে বসবি না নাকি তোরা,, আড্ডা যে দিতেসোস তোদের বাপ চাচা আইসা দেখলে তো আমাদের বকবে। যা পড়তে বস এই বলে রিয়ার চাচি রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ালো।

রিয়া আর তার বোন তাদের ঘরে চলে আসলো আর তার বোনেরা তাদের ঘরে পড়তে বসলো।

রিয়া তার পড়ার টেবিলে মায়ের ফোনটা দেখে ফোনটা হাতে নিলো,, ফেসবুকে লগ-ইন করতেই দেখলো রিকুয়েষ্ট ম্যাসেজ From Mr. Spider-man.

রিয়া বেশ অবাক হলো। রিয়া তার বোনকে ডেকে দেখালো দেখ দেখ রিকুয়েষ্ট ম্যাসেজ ও দিসে।

ওর বোন বললো ওপেন কর দেখ কি লিখছে। রিয়া বললো ওপেন করলে বুঝে ফেলে যদি, তখন। আরে নাহ গাধী,,তুই আনসার না দিলে কিছু বুঝবে না উত্তরে ওর বোন বললো।

রিয়া আরো বেশি অবাক হলো ওর বোনের কথায়। আসলে বাসা থেকে শুধু রিয়াকে ফেসবুক ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলো ওর মা, কিন্তু তার দেখাদেখি তার ছোট বোন আর ওদের চাচাতো বোনেরাও আইডি খুলে ফেলছে।

তোরা দুদিন হলো আমার সাথেই ফেসবুক ওপেন করছিস আম্মা জানে না। আম্মা জানে আমার আইডি লাগবে কলেজের জন্য তাই অনুমুতি দিসে আইডি খুলতে আর এর মধ্যে বাসায় থাইক্কা তুই এতো কিছু কেমনে জানলি বল??

এমনেই ওর বোনের খুব স্বাভাবিক উত্তর দিলো।যা দেখ কি লিখছে তোর স্পাইডারম্যান।

আমার স্পাইডার ম্যান? আমার তো পছন্দ আয়রন ম্যান। তুই জানোস না রিয়া ও জিজ্ঞেস করলো।

হুম জানি।আমার মনে হয় এইটা তোর কলেজের কোনো ছেলে। তোর আইডি পাইছে তাই তকে রিকুয়েষ্ট দিসে। রিয়ার বোন তার বই খুলতে খুলতে বললো কথাটা।

কথাটা রিয়াকেও বেশ ভাবালো। তবে এতো পাত্তা না দিয়ে বললো যা এতো কথা না বলে পড়তে বস। আর যে মনে চাই হোক আমি না দেখলেই হলো।

তাই ওর বোনও আর কিছু বললো না।সেই পড়তে বসলো।

তবে রিয়া বোনের অগোচরে ম্যাসেজ ওপেন করলো।

তাতে তাঁকে জিজ্ঞেস করা ছিলো

কি আমাকে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে বুঝি???

সমস্যা নাই আমার ও ঝুলে থাকতে বেশ ভালোই লাগে।তবে সেইটা গাছের ডালে।ছোটবেলা থেকেই স্পাইডার ম্যানের ভক্ত আমি। বুঝেছো। তবে হ্যাঁ,তোমার ফেসবুক ফ্রেন্ড হতে আমাকে এইখানে কতদিন ঝুলে থাকতে হবে বলো তো??এইখানে ঝুলে থাকতে আমার মোটেও ভালো লাগছে না। ওকে তাও ব্যাপার না।

যাইহোক কালকে কি কলেজ যাবা ???

রিয়া মনে মনে এ্যা! বলে কি ছেলে?

সে কি তাহলে আমাদের কলেজেরই কেউ নাকি??

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+20 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login