পর্ব:৩
কলেজের ২য় দিন। আজকার মতো হেমা আর রিয়া একসাথে এসে কলেজে উপস্থিত হলো। কলেজের ডুকেই রিয়া আর হেমা সোনিয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলো। তারপর সোনিয়া এলো,,আসার পর তাদের মধ্যে কিছুক্ষণ কথাবার্তা হলো। ঘন্টা পড়ার সাথে তারা যার যার ক্লাসে চলে গেলো।
Good Morning Students.
Good Morning Sir.
আজকে তোমাদের কলেজের প্রথম ক্লাস। তাই তো??সবারদিকে লক্ষ্য করে আসাদ স্যার বললেন।
উত্তরে সকল শিক্ষার্থী বললো জ্বি স্যার।
তাই আজ আমরা প্রথমে পরিচয় পর্বটা সারবো। সবাই সবার নাম জানবো। কেমন?? প্রথমে মেয়েদের থেকেই শুরু করি। After All ladies first. এই বলে স্যার হালকা হেসে মেয়েদের সাইডের দিকে তাকালেন।
স্যারের কথার সাথে সকলেই হালকা হাসল।
পরিচয় পর্ব চললো অনেক্ক্ষণ। পুরো ক্লাস সবাই সবাইকে মোটামুটি চিনে নিলো।
আচ্ছা এখন তোমরা বলো আমি তোমাদের কি ক্লাস করাবো? এই বলে আসাদ স্যার সকলের দিকে একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন।
তখন সামনে থেকে একজন মেয়ে বললো স্যার আপনি হিসাববিজ্ঞান করাবেন।
স্যার আবার প্রশ্ন করলো কেনো বলো??
মেয়েটি উত্তরে বললো স্যার আপনি হলেন আমাদের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার প্রধান। আর তাই এই বিষয়টা আপনি পড়াবেন সেটাই স্বাভাবিক।
আসাদ স্যার উত্তর শুনে বললেন এক্সিলেন্ট। তবে আমি একা নয়,,প্রথম ৩মাস আমি পড়াবো তোমাদের সবাইকে তারপর আমার সাথে তোমাদের একজন ম্যাম আছেন ওনিও করাবেন। তখন সপ্তাহ ভিত্তিক ক্লাস হবে। আর এখন তোমাদের ক্লাস রুটিন দিচ্ছি তোমরা সবাই এইটা খাতায় তুলে নিবে এবং বাসার টেবিলের ওপরে লাগাবে। যদি কোনদিন কোন ক্লাস ভুলে যাও আর বই না আনো তবে এর জন্য শাস্তি পেতে হবে। ওকে??
সবাই উত্তর দিলো জ্বি স্যার।
কিন্তু হেমা রিয়া কে কানে কানে বললো কলেজে কে বই আনে?? রিয়া চোখ টেরা করে হেমার দিকে তাকাল।
আর এইদিকে আসাদ স্যার সামনে থেকে একজন ছেলেকে ডেকে নিলেন। ওনি আগে থেকেই একটা কাগজে করে ক্লাস রুটিন টা লিখে এনেছেন সেইটা ছেলেটার হাতে দিলেন এবং তাকে দিয়ে ক্লাস রুটিনটা বোর্ডে লিখাতে লাগলেন।
আর পুরো ক্লাস ও তখন মনোযোগ সহকারে সবাই ক্লাস রুটিনটা খাতায় তুলে নিচ্ছে।
১প্রথম ক্লাস, ২য় ক্লাস, ৩য়ক্লাস এমন করে ৪টা ক্লাস শেষ হয়ে টিফিন পিরিয়ড শুরু হলো।
তখন রিয়া হেমা নিচে নেমে এলো টিফিনের জন্য । সাথে তাদের পরিচয় হলো আরো একজনের। নাম তার প্রতিভা।
প্রতিভা আবার এই কলেজে একা একদম।সেই গ্রামের স্কুল থেকে এস.এস.এসি পাশ করে এসেছে বলে ওর সাথের বান্ধবীরা বেশির ভাগই গ্রামের কলেজে ভর্তি হয়েছে। তাই সেই সম্পুর্ণ একা হওয়ায় রিয়া, হেমা ভাবলো তারসাথে বন্ধুত্ব করা যেতে পারে। এইদিকে রিয়া, হেমা আর প্রতিভা টিফিনে জন্য ক্যান্টিনে যাচ্ছি একসাথে।
পিছন থেকে ডাক দিলো লিজা, তার সাথে ছিলো উষা আর মারিয়া। এরা আবার সবাই রিয়া, হেমার সাথে একই স্কুলে একই স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ত একটা সময় তবে তখন তেমন ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব ছিলো না। যাকে বলা হয় শুধুমাত্র ক্লাসমেট।
তবে লিজা আর হেমা একটু মিশুকে ছিলো আগেই সেই সুবাদেই ডাক দিলো।
কিরে হেমা কেমন আছিস তোরা??আমি তো ভাবিই নাই তুই এই কলেজে ভর্তি হবি।
আসলেই আমি এটাতে ভর্তি হতাম না। শুধুমাত্র রিয়ার জন্য আসছি। আলাদা কলেজে ভর্তি হলে আমরা দু'জনে আলাদা হয়ে যেতাম। আর ঐ কলেজে আমার এক ভাই আছে না ওই
কখনোই দিবে না ভর্তি হতে। এই বলে হেমা থামল।
তা হেমা এই কে??ওকে তো চিনলাম না।লিজা আবার জিজ্ঞেস করলো।
উত্তরে হেমা বললো ওহ আচ্ছা , ওর নাম হচ্ছে প্রতিভা।
আর তখনই রিয়া হাতে সমোচা নিয়ে ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে বললো চল কোথাও বসি। মারিয়া,উষা তরা ও আয়। একসাথে টিফিন করি আমরা।
মারিয়া তখন বললো তোরা যা। আমি আর উষা আরো কিছু কিনে নিয়ে আসি।
আচ্ছা আসো আমিও কিছু কিনবো,,তোমরা কোল্ডডিংকস এ কি নিবা?? কোক নাকি লেমন টাইপ। প্রতিভা জিজ্ঞেস করলো সবাইকে।
উষা তখন১ সাথে সাথে বললো না না তোমার কিচ্ছু কিনতে হবে না।তুমি ওদের সাথে যাও। আমরাই কিনবো।
তা কি করে হয়।তোমরা সবাই কিছু না কিছু নিচ্ছো।আর আমি আমার নতুন বান্ধুবিদের কিছু খাওয়াবো না।
উষাও আবার বললো আজ আমরা খাওয়াবো। তুমি না হয় অন্য একদিন খাওয়াই ও। কেমন।
সবাই একসাথে বললো হুম ঠিক। প্রতিভাও তখন বললো তাহলে ঠিক আছে।তবে বান্ধবী যখন বানালে আমাকে তুমি নয় সবাই তুই করেই বলবি। ওকে?
সবাই তার কথাতে সাই দিলো।
উষা আর মারিয়া ডুকলো ক্যান্টিনের দিকে আর বাকি সবাই গেছে তাদের বিভাগের বিল্ডিং এর কাছ সেই গাছের ওই খানে। তারা কেউ দোলনা বলসো কেউ কেউ মাটিতে জুতার ওপর বসেছে আবার কেউ দাড়িয়ে গল্প করছিলো।
তবে রিয়া আর হেমা অপেক্ষা করছিলো এইখানে সোনিয়ার আসা কথা সে এখনো আসে নাই। তাই তারা দুজন ঠিক করলো সোনিয়ার ক্লাসে যাবে হয়ত সেই আগেই চলে আসছিলো ওদের না পেয়ে মনে হয় আবার ওর ক্লাসে চলে গেলো।
রিয়া বললো তরা বস আমি আর হেমা একটু মানবিকের ক্লাস থেকে আসছি।এখনই চলে আসবো।
লিজা বললো।ওকে দেরি করিস না।আর আসতে লেট হলে কিংবা ঘন্টা বেজে গেলে সোজা ক্লাসে চলে আসসি।
ওকে। এই বলে রিয়া আর হেমা সেইখান থেকে মানবিকের ক্লাসে আসলো।
কিরে সোনি, তুই মাঠে এলি না কেনো? রিয়া জিজ্ঞেস করলো।
সোনিয়া উত্তরে বললো না রে সবাই এইখানে বসেই টিফিন খাবে বলে তাই আর মাঠে যাওয়া হয় নাই।
হেমা কিছু একটা বলতো, কিন্তু রিয়ার এই বিষয়তে রাগ উঠে যায় বিধায় সেই হেমার হাত টা শক্ত করে ধরলো আর মাথা নেড়ে কিছু বলতে মানা করলো।
ওকে তাহলে আমরা যায়। সোনিয়া ও বললো আচ্ছা ঠিক আছে ফোন দিস।
আসলে রিয়া আর হেমার জীবনে যেমন নতুন বন্ধুরা আসলো তেমনি সোনিয়ার জীবনেও। কিন্তু সোনিয়া খুব সহজে আলাদা হয়ে যাওয়ার বিষয়টা মেনে নিয়েছে যা কিনা রিয়া আর হেমা তখনো ভাবতেছে তারা আগের মতোই থাকবে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পরিবেশ বদলালে মানুষও বদলায়। সেই মানুষের চারপাশে থাকা মানুষগুলোকেও বদলায়। সেইটা বুঝতে তখনও তাদের একটু দেরি ছিলো।