Story

মায়াভ্রম (পর্ব ০১) রুদ্র সিয়াম

September 21, 2026

16
View

কাঁদামাটিতে পা ফেলে জঙ্গলের গাছগুলো হাতে থাকা বড় চাকু দিয়ে কাটতে কাটছে এগিয়ে চললো নিলয়। সামনেই দেখলো বিশাল এক পাহাড়। সেখানে আলো জ্বলছে মিটমিট করে। চারিদিকে লাল বর্ণ ধারন করেছে প্রকৃতি যেন সন্ধার শেষ দিকে পৌছেছে। আলো দেখে নিজ মনে নিলয় বলে উঠলো এটা কি হারিকেনের আলো? এই জঙ্গলে ঘর? হারিকেন আসবে কোথাথেকে?

তবুও মনের আশায় আলো অনুসরন করে পাহাড়ের রাস্তায় চলতে থাকে নিলয়। শরীর ক্লান্ত তবে অন্তরে তীব্র কৌতুহল পেটময় ক্ষুদা তাকে শক্তি জোগাড় দেয়।

এই জঙ্গলে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে এসেছিল নিলয়। তবে তার কিছুই মনে পড়ছে না। এক বন্ধু ঝর্ণার কাছে আসতেই তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিল। তারপর আর কিছু মনে নাই। কেন এমনটি করেছিল সেই বন্ধু? তার নাম ই বা কী? কিছু মনে পড়ছে না নিলয়ের।

আলো অনুসরন করে নিলয় পাহাড়ের ওপর একটা কাঠের বাড়ির সামনে দাড়ালো। দরজায় টোকা দিয়ে বলল, কেউ কি আছেন?

ভেতরে থাকা টিয়াপাখি বলে উঠলো, কেউ কি আছেন? কেউ কি আছেন?

কোন সারা শব্দ না পেয়ে নিলয় বাড়ির পেছনটার দিকে পৌছায়। এখানে কয়েকটা কবর দেখা গেল। তার মানে এখানে কেউ হয়তো বসবাস করে। গুণে দেখলো নিলয় মোট ৯টা কবর রয়েছে সেখানে।

এরকম সময় মাটির কলসি হাতে তার পেছনে দাড়ালো অপর্ণা। অপর্ণা শাড়ি দিয়ে মুখ ঢেকে বলল, আপনি কে?

পেছন ফিরে তাকালো নিলয়। যুবতী একটা মেয়ে শাড়ি পড়া পেট দেখে খানিকক্ষণ চেয়ে আবার চোখ সরিয়ে নিল।

নিলয় বলল, আসলে আমি জঙ্গলে দিক হারিয়ে ফেলেছি। আপনি হয়তো এই ঘরে থাকেন।

অপর্ণা বলল, হ্যা। এই ঘরে আমি ই থাকি।

নিলয় বলল, আচ্ছা। আপনার স্বামী নাই? একা থাকেন?

অপর্ণা বলল, স্বামী মারা গেছে। তাই একাই থাকি।

কৌতুহলবশত নিলয় বলল, তাহলে এই কবরের ১টায় আপনার স্বামী? বাকিরা কারা?

অপর্ণা উত্তর দিল না। কথা ঘুরিয়ে বলল, আপনার কাধে রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে। সম্ভবত মাথার পেছনে আঘাত পেয়েছেন। ঘরে চলুন।।আমি দেখছি।

নিলয় ও অপর্ণা ঘরে ঢুকলো। নিলয় কাঠের ঘরটা দেখলো একটা টিয়াপাখি খাচায় বন্দি করা। বাশের খাটের ওপর খড় দিয়ে বিছানো। মাটির চুলোও দেখলো। কিছু হাড়িপাতিল এই আসবাবপত্র। বাশ দিয়ে একটা চেয়ার ও টেবিলের কাজ তাকে মুগ্ধ করলো।

নিলয় হাতে থাকা বড় চাকুটা টেবিলের ওপর রাখলো। তারপর চেয়ারে আরাম করে বসলো। অপর্ণা মাটির কলসিটা রাখলো ঘরের কোনায়।

অপর্ণা বলল, দেখি আপনার কোথাথেকে রক্ত বের হচ্ছে?

অপর্ণা এগিয়ে এলো নিলয়ের একদম কাছে। দুহাত দিয়ে মাথাটা ধরে দেখতে লাগলো এদিক সেদিক। নিলয় অসস্তি পেতে লাগলো অপর্ণার বুক তার একদম মুখের কাছে।

অপর্ণা দেখলো মাথার পেছনে একটা ক্ষত সেখান থেকে রক্ত জমাট বেধে আছে। অপর্ণা বাইরে গেল সেখান থেকে কিছু পাতা ছিড়ে জাতে ঢলতে লাগলো। একপ্রকার ঔষধ বানিয়ে লাগিয়ে দিল নিলয়ের সেই ক্ষত স্থানে।

অপর্ণা বলল, এখন কেমন লাগছে?

নিলয় বলল, ঠান্ডা বরফ। অনেক শান্তি লাগছে।

অপর্ণা বলল, আপনি হয়তো না খেয়ে আছেন।

কথাটা বলেই অপর্ণা দুপুরের কিছু খাবার দিল প্লেটে তারপর প্লেট এগিয়ে দিল নিলয়ের টেবিলে।

নিলয় দেখলো শাকপাতা ও মাংসের টুকরো কাচা কাচা। হয়তো সিদ্ধ করা হয়েছে। নিলয় ভাবলো পাহাড়ি মানুষেরা হয়তো এসবই খায়। আর তার ক্ষুদা লেগেছিল তাই কোন প্রশ্ন না করে খাওয়া শুরু করলো। মাংসের টুকরো না কিসের? একটা খটকা লাগলো তার। এটা তো মাছ, বা গরু, মুরগির নয়। তাহলে কিসের? স্বাদটাও কেমন যেন অন্যরকম।

দুচোখ ভরে অপর্ণা নিলয়ের খাওয়া দেখছে।

অপর্ণা বলল, খাবার পছন্দ হয়েছে আপনার?

নিলয় বলল, হ্যা। তবে এটা কিসের মাংস?

অপর্ণা উত্তর দিতে যাবে তখনই দেখা ঘরে জানালা দিয়ে একটা কালো সাপ ঘরে ঢুকেছে। সাপটা ফুসফুস করছে আর জিহ্বা বের করছে।

অপর্ণা টেবিলে থাকা বড় চাকু দিয়ে এক কোপে সাপের মাথায় ঢুকিয়ে দিল।।সাপটা মরে গেল।

নিলয়ের সন্দেহ হলো। প্রথমবারেই কিভাবে সফল হলো সে? তবে নিলয় ভাবলো হয়তো পাহাড়ি মেয়েরা এমনই হয়। সে শহরের সে কি জানবে?

রাতে ঘুমানোর জন্য নিলয়কে সেই বাশের তৈরি খাটে শুতে দেওয়া হলো। নিলয়ও ঘুমাচ্ছিল তবে রাতে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। তখন নিলয় হিসু করার জন্য বাইরে বের হয়ে দেখে অপর্ণা সাপের শরীরের ত্বক কাটছে।

নিলয় অবাক হয়ে বলল, আপনি এতো রাতে কি করছেন?

অপর্ণা বলল, আপনার এতো রাতে ঘুম থেকে উঠা উচিত হয়নি। এখন আমার রান্নার সময়। এটাকে রান্না করতে হবে।

নিলয় বুঝলো সন্ধ্যায় কি খেয়েছিল। বুঝতেই বমি করতে লাগলো সে।

#মায়াভ্রম

#পর্ব_০১

#রুদ্র_সিয়াম

Comments

    Please login to post comment. Login