ডায়েরিটি ছিল নীলার।
রায়হান রাতে বাড়িতে ফিরে প্রতিটি পৃষ্ঠা পড়তে শুরু করল। প্রথমদিকে ছিল সাধারণ কিছু কথা—পরিবার, পড়াশোনা, গ্রামের মানুষ, মায়ার সঙ্গে সম্পর্ক। কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পর গল্পটি বদলে গেল।
নীলা লিখেছিল, “আমি যে মানুষগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, তারা শুধু জমি দখল করতে চায় না। তারা গ্রামের মানুষের ভয়কে ব্যবহার করে নিজেদের শক্তি তৈরি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ আমার কাছে আছে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—আমাদের খুব কাছের একজন মানুষ তাদের সাহায্য করছে।”
রায়হান থেমে গেল।
“কাছের একজন মানুষ”—কে?
পরের পৃষ্ঠায় লেখা ছিল—
“মায়া জানে না। মজিদও জানে না। আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না।”
রায়হানের চোখ স্থির হয়ে গেল।
মজিদ—তার বাবা।
তাহলে নীলা বাবাকেও সন্দেহ করেছিল?
আরও কয়েক পৃষ্ঠা পরে একটি নাম বারবার এসেছে।
সালেহ।
রায়হান এই নাম কখনো শোনেনি।
শেষের দিকে নীলা লিখেছিল—
“সালেহকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম। এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল।”
তারপরের পৃষ্ঠাগুলো ছেঁড়া।
রায়হান ডায়েরিটি বন্ধ করল।
ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।
অপরিচিত নম্বর।
সে ফোন ধরতেই একজন পুরুষের কণ্ঠ বলল—
“তুমি নীলার ডায়েরি পড়েছ?”
রায়হান চুপ করে রইল।
“তাহলে তুমি এখন সালেহকে খুঁজবে।”
রায়হান বলল, “আপনি কে?”
লোকটি উত্তর দিল—
“সালেহের ছেলে।”
লাইন কেটে গেল।