রায়হান বুঝতে পারল, যে রহস্যের পেছনে সে ছুটছে সেটি আগের রহস্যের চেয়েও বড়।
সে আবার নীলার ডায়েরি খুলল। শেষ পাতার ভাঁজের মধ্যে একটি ছোট কাগজ পাওয়া গেল। সেখানে লেখা ছিল—
“মায়ার নামে যে চিঠি আসবে, সেটি বিশ্বাস করো না। সত্যিকারের চিঠি থাকবে সেই বাড়িতে, যেখানে আমরা প্রথম লুকিয়েছিলাম।”
রায়হান বুঝল—পুরোনো বাড়ি।
সে রাতে বাড়িতে ফিরে মায়ের সঙ্গে নিয়ে সেই ঘরে গেল।
দেয়ালের একটি অংশ সরাতেই একটি লোহার বাক্স পাওয়া গেল।
ভেতরে ছিল একটি চিঠি।
এবার সত্যিই মায়ার হাতের লেখা।
“রায়হান, যদি তুমি এই চিঠি পড়ো, তাহলে বুঝব সময় এসেছে। তোমার বাবাকে যারা ভয় দেখিয়েছিল, তাদের একজন এখনও বেঁচে আছে। সে তোমার কাছেই আছে। তুমি তাকে চেনো।”
রায়হানের বুক কেঁপে উঠল।
চিঠির শেষ লাইনে লেখা—
“সে তোমার বন্ধু।”
রায়হান হঠাৎ থেমে গেল।
তার মাথায় একজনের মুখ ভেসে উঠল।
ঢাকায় তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু—
সুমন।
কিন্তু সুমন কেন?
সে তো তার জীবনের সবচেয়ে বিশ্বাসের মানুষ।
রায়হান ফোন বের করল।
সুমনের নম্বরে কল করল।
ফোন বন্ধ।
আবার করল।
বন্ধ।
তারপর একটি মেসেজ এল—
“বন্ধুকে খুঁজতে যেও না। সত্যকে খুঁজো।”
রায়হান জানালার বাইরে তাকাল।
বাইরে তখন গভীর রাত।
আর দূরে অন্ধকার রাস্তায় একটি গাড়ি ধীরে ধীরে তার বাড়ির সামনে এসে থামল।