Post

•|| নারী ||• মাতৃরূপেণ সংস্থিতা!

September 26, 2026

27 views

অভাবের তাড়না নাকি স্বভাবের দায় -কোনটা ওকে টেনে এনেছে অন্ধকারের মোড়ে, সমাজ তা জানতে চায়নি। তার গায়ে এখন 'চোর' আর 'অপরাধী'র নির্মম সিলমোহর। কিন্তু আইনের কঠিন পাতা কিংবা সমাজের হিংস্র দৃষ্টি যা-ই বলুক না কেন, কোনো সন্তানের কাছে তার বাবা কখনোই অপরাধী হয় না।

​বরিশালের বামরাইল বন্দর বাজারের ভোরের কুয়াশা আজ এক নিঃশব্দ করুণ রূপকথার সাক্ষী হয়ে রইল। রাতে সিঁধ কেটে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়া লোকটিকে ক্ষিপ্ত জনতা নির্মমভাবে পি'টিয়ে বেঁধে রেখেছে একটি কঠিন থামের সাথে। পুলিশ আসবে, বিচার হবে, আইন তার নিজের পথেই হাঁটবে। কিন্তু আইন আর বিচারবুদ্ধির ঊর্ধ্বে যে আরেকটি জগৎ থাকে, সেখানে কেবলই রক্তের টান আর অপার মমতা।

​ভোরের আলো ফোটার আগেই খবরের ডানা ধরে সেখানে ছুটে এসেছিল একটি আট-নয় বছরের পুতুলের মতো শিশুকন্যা। লোকালয়ের ভিড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে যখন দেখল -তার জন্মদাতা বাবা ধুলোয় মিশে আ'ধমরা হয়ে পড়ে আছে, আঘাতের সুতীব্র কষ্টে নিশ্বাস নিচ্ছে ধুঁকে ধুঁকে, তখন সে হয়তো পৃথিবীর কোনো বিচার বোঝেনি। সে শুধু চিনেছিল তার আব্বুকে।

​কিছুক্ষণ হু হু করে কেঁদেছে মেয়েটি। পরম মমতায় ছোট্ট আঁচল দিয়ে মুছে দিয়েছে বাবার শরীর থেকে গড়িয়ে পড়া রক্তের দাগ ও ঘাম। তারপর সেই ছোট্ট মাথায় একটিই চিন্তা খেলে গেল -বাবার নিশ্চয়ই ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছে!

​পাশের দোকান থেকে এক টুকরো পাউরুটি, একটু পানি আর এক কাপ গরম চা কিনে নিয়ে এল অবুঝ মেয়েটি। কোনো গালিগালাজ, কোনো উৎসুক চোখের হিংস্রতা তাকে থামাতে পারেনি। সে বাবার মুখোমুখি ধুলোয় হাঁটু গেড়ে বসল। চায়ের কাপে পরম যত্নে রুটির টুকরো ভিজিয়ে পরম ভালোবাসায় তুলে দিল বাবার ঠোঁটে।

​যে বাবা লজ্জায়, অপরাধবোধে ও ব্যথায় মুখ তুলে তাকাতে পারছিল না, তার সেই নত মস্তকের সামনে থমকে গেল গোটা প্রাঙ্গণ। এতক্ষণ ধরে জমা হওয়া হাজারো মানুষের ক্রোধ, হিংস্রতা আর গর্জন এক মুহূর্তেই যেন ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল।

​উপস্থিত উৎসুক মানুষের চোখ থেকে তখন হয়তো ঝরে পড়ছিল আক্ষেপের জল। শক্ত কণ্ঠগুলো নরম হয়ে এল এক নিমেষে -'খা রে, তোর পুতুল মেয়েটা দিচ্ছে, খা! আর তোকে কেউ মারতে আসবে না...'

​আইনের খাতায় শাস্তি হয়তো নিশ্চিত, সমাজের বিচারে সে অপরাধীই থাকবে। কিন্তু এক অবুঝ কন্যার এই মায়াবী স্পর্শ প্রমাণের অপেক্ষা না রেখে বলে দিল -পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো আইন এই পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত লেখা হয়নি।

প্রতিটি কন্যা শিশুর ভিতরই বাস করে পরম নির্ভরতা ও ভালোবাসা আশ্রয় একেকজন মা। প্রতিটি নারীই মাতৃরূপেণ সংস্থিতা।

এই সমাজ খুব সহজেই বিচারক সাজতে বসে যেতে পারে। কিন্তু একজন মানুষ কেন চোর হয়, অপরাধী হয়ে উঠে -সেই ব্যাপারটি খতিয়ে দেখে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। আফসোস।🌿

▪️

লেখক: সাংবাদিক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login