Story

শিবু স্যার ও দুষ্ট ছাত্ররা

September 27, 2026

200 views

আবির ও সাব্বির দুই জমজ ভাই। তারা একই স্কুলে, একই ক্লাসের অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে।

তাদের বেশভূষা মাঝে মাঝে এতো মিল হয় যে তাদের বন্ধুরাও ধরতে পারে না কে আবির আর কে সাব্বির। তাদের কণ্ঠ, পোশাক- আশাক এমনকি চুলের স্টাইলট ও একই।

আবির পড়াশোনায় ভালো হলেও সাব্বিরের পড়াশোনায় তেমন মন নেই। বেশ দুষ্টও বলা যায়। আবির ক্লাসের প্রথম সারিতে বসলেও সাব্বির বসে শেষ সারিতে।

তো সেদিন শিবু স্যার পড়া দিয়েছিলেন 'My aim in life' Paragraph শিখে আসার জন্য।

স্যার ক্লাসরুমে ঢুকেই হুংকার দিয়ে বললো, 'তোরা যারা পড়া শিখোস নাই, দাঁড়াই যা। বসে থাকি যদি পড়া না পারোস তখন ক্লাসের বাহিরে কান ধরাই রাখবো এক পা উঁচু করে।'

প্রথম দুই সারির বেঞ্চের ছাত্ররা বাদে ক্লাসের বাকি সবাই দাঁড়াই গেলো৷ ক্লাসে ৩৫ জনকে মারতে হবে, এই ভেবে স্যার বললেন, ' ঠিক আছর তোদেরকে ১৫ মিনিট সময় দিচ্ছি তোরা পড়া মুখস্ত করে বসে পড়।'

স্যার চেয়ারে বসে পড়লেন এবং কিছুক্ষণ পর চোখ বন্ধ করে ঝিমুতে লাগলেন৷

সব পোলাপান পড়ার গুণগুনানি এতোই বাড়িয়ে দিলো যে স্যার ঝিমুতে পারলেন না। উঠেই শুরু করলেন মাইর। স্যারের মারার স্টাইল হচ্ছে বেঞ্চের বাহিরে এনে যতোক্ষণ পর্যন্ত পিছনের পকেটের বোতাম না ভাঙবে ততক্ষণ মাইর চলবে।

কারো ভাগ্য এক মাইরেই আবার কারো ১০/১২ বার মাইরও লাগে বোতাম ভাঙতে। পোলাপান চালাকও, তারা পাতলা বোতল লাগায় যেন এক মাইরেই বোতাম ভেঙ্গে যায়।

বোতম ভাঙার পরেরদিন ছাত্রদের আবার বোতাম লাগিয়ে আনতে হয়, না হলে আবার মাইর কেনো বোতাম লাগায় নাই।এটা স্যার পিটির সময় মাঠে চেক করে নেন।

স্যার যখন মারতে মারতে পিছনে যান, তখন যারা পড়া শিখে আসে তারা শুরু করে জুতা দিয়ে ফ্লোর ঘষা৷ কয়েকজন একসাথে করলে শব্দটা জোরে হয়। স্যার বুঝতে পারেন না শব্দটা কোন দিক থেকে আসতেছে।

তখন মাইর থামিয়ে সামনে গিয়ে আবিরকে পড়া ধরে। স্যারের উদ্দেশ্যে পড়া কোথাও বেজে গেলে বেঞ্চ থেকে বের করে শুরু করবেন মাইর। কারণ স্যার ধরতে পারছেন না কারা পা দিয়ে আওয়াজ করে। অন্ততো কাউকে মেরে ঝালটা তো মিটাতে পারবে তখন!

কিন্তু আবির পড়া পেরে যায়৷ স্যার গজগজ করতে করতে প্রথমে টেবিলে যান মোবাইল রাখতে। ততক্ষণে সাব্বির আর আবির জায়গা পরিবর্তন করে ফেলে।

পরে স্যার পিছনে গিয়ে সাব্বিরকেই পড়া ধরে। কিন্তু স্যার কখনোই বুঝে উঠতে পারেন না এই সাব্বির পরীক্ষায় কম নাম্বার পেলেও কেমনে জানি ক্লাসে পড়া পেরে যায়! স্যার ভীষণ অবাক হয় আর জিজ্ঞেস করে, 'তুই এতো কম সময়ে পড়া মুখস্ত করে ফেলিস কেমনে?'তোর ভাই তো ঘর থেকে পড়া শিখে আসে, তুই তা দেখে শিখতে পারোস না?'

তখন হাসির রোল উঠে আবার সামনে থেকে। স্যার সামনে যেতে যেতেই হাসি বন্ধ। পোলাপান সব এমন ভান করে যেন কিছুই হয় নি। সবাই 'My Aim in Life' Paragraph এর দিকে তাকিয়ে থাকে।

স্যার এবার সিদ্ধান্ত নেয় সবাইকে স্কেল দিয়ে হাতে মারবে। ক্লাসে ঢুকেই স্যার কাঠের স্কেলগুলা সংগ্রহ করেন ছাত্রদের থেকে। এ দায়িত্ব দেন স্যার নোমানকে। নোমান একমাত্র স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ে৷ ক্লাসে কখনো মাইর খায় না। রোল নাম্বার শেষের দিকে হলেও ইংরেজি তেই সর্বোচ্চ নাম্বার সে পায়।

যেই না স্কেল দিয়ে মাইর শুরু করবে, তখনি ঘন্টার শব্দ শোনা যায়। স্যারের মুখ তখন মুখ দেখে মনে হয়, ছাত্রদের না মারতে পারার কি সীমাহীন কষ্ট তা স্যারের চোখে, মুখে ভেসে উঠে৷

আবারও My Aim Life পড়া দিয়ে ক্লাস থেকে বের হয়ে যান স্যার। আর তখনি পোলাপান সব একসাথে হো হো করে হেসে উঠে৷

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login