Story

নারীর দহন

September 27, 2026

10 views

শারমিন যখন বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলছিল, তখন ঘড়ির কাঁটা ঠিক সাড়ে সাতটা ছুঁইছুঁই। জানালার কাচ পেরিয়ে আসা শেষ বিকেলের ধুলোমাখা আলোয় ঢাকার রাজপথ যেন একটা ধোঁয়াটে ক্যানভাস। অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাচের ঘর থেকে বেরোতেই গরম বাতাসটা মুখে এসে আছড়ে পড়েছিল, সেই সঙ্গে ক্লান্তির এক অচেনা ভার। পঁচিশ বছর বয়সের শরীরটাতে এখন আর সেই উচ্ছল রক্তস্রোত নেই, কেমন যেন একটা পাথরচাপা ক্লান্তি বাসা বেঁধেছে। বাস থেকে যখন শারমিন নামল, তখন পায়ের গোড়ালি দুটো ছিঁড়ে পড়ার মতো ব্যথা করছে। প্রতিদিনের চেনা পথ ধরে হাঁটা। এই গলির মোড়ের চায়ের দোকান, উল্টোদিকের মুদি দোকান, সব চেনা। শুধু এই পথ পেরিয়ে যে চার দেয়ালের ফ্ল্যাটটা অপেক্ষা করছে, সেই ঘরের ভেতরে থাকা মানুষগুলো কেন যেন দিন দিন ভীষণ অচেনা হয়ে উঠছে।

অথচ এই বাড়িটা তো এমন থাকার কথা ছিল না। এই ঘরের প্রতিটি কোণ তো সাজানোর কথা ছিল একরাশ ভালোবাসায়। চাবি দিয়ে দরজার লক খুলতেই ভেতর থেকে একটা চাপা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে এল। ড্রয়িংরুমের সোফায় গা এলিয়ে বসে সিরিয়াল দেখছিলেন শাশুড়ি রাবেয়া বেগম। টিভির সাউন্ড বেশ চড়া। দরজার মৃদু আওয়াজ হতেই তিনি মুখ না ফিরিয়েই বলে উঠলেন, “কত বাজল ঘড়িতে? চাকরি করার এত শখ থাকলে ঘরের কাজগুলো কি ভূতে এসে করে দিয়ে যাবে?”

শারমিনের হাত থেকে চাবির রিংটা নিশব্দে টেবিলে রাখা হলো। সে কোনো জবাব দিল না। জবাব দিলে কথা বাড়বে, আর কথা বাড়লে সেই কথার তপ্ত আঁচ রাতের ঘুম পর্যন্ত পুড়িয়ে মারবে।

-“আমি একটু ফ্রেশ হয়ে চা বানাচ্ছি মা,” খুব নিচু গলায় বলল শারমিন।

-“চা তো বানিয়ে রাখবেই, ফ্রিজে মাছ নামানো আছে। মাহিন তো আবার বাসি মাছ মুখে তুলতে পারে না। কালকের তরকারি ফেলে দিতে হয়েছে তোমার অবহেলায়। এত পড়াশোনা শিখে এসে একটা ডাল রান্ধার হিসেব শেখো নাই!” রিমোটের বোতাম চেপে চ্যানেলের ভলিউম আরও বাড়িয়ে দিলেন রাবেয়া বেগম। শারমিনের ভেতরের কোথাও একটা সুক্ষ্ম সুতো যেন আবার কেটে গেল। এই তো কয়েক মাস আগের কথা। যখন মাস্টার্সের ফলাফল বের হলো, মাহিন তাকে জড়িয়ে ধরে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে বসে বলেছিল, “শারমিন, তুমি ঘরে বসে থাকার মেয়ে নও। তোমার মেধা আছে, স্বপ্ন আছে। তুমি চাকরি করবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে। আমি তো আছিই তোমার পাশে, সব সময়।”

সেই মাহিন, যাকে শারমিন চিনেছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বকুলতলায়। প্রেম যখন গভীর হয়েছিল, তখন মাহিন তার ছোটখাটো জ্বর-সর্দিতেও পাগল হয়ে যেত। হাত ধরে বলত, “তোমার চোখের কোণে সামান্য ক্লান্তিও আমি সইতে পারি না শারমিন।”

সেই মানুষটি আজ কোথায় হারিয়ে গেল? বেডরুমে ঢুকে শাড়ির আঁচলটা আলনায় রাখতে রাখতে আয়নার সামনে দাঁড়াল শারমিন। হালকা নীল রঙের সুতির শাড়িটা ঘামে ভিজে পিঠের সাথে লেপটে আছে। চোখের নিচে কালি, মুখের ত্বক কেমন যেন রুক্ষ আর মলিন হয়ে এসেছে। এই মুখে একসময় কত লাবণ্য ছিল। মাহিন তো চোখের পলক না ফেলে তাকিয়ে থাকত, বলত, “তোমার হাসিতে অদ্ভুত একটা স্নিগ্ধতা আছে।” আজ সেই মুখে হাসি ফোটানোর মতো কোনো উপলক্ষ অবশিষ্ট নেই। হাত-মুখ ধুয়ে রান্নাঘরে ঢুকল শারমিন। সিঙ্কে সকালের নাস্তার কিছু এঁটো বাসন পড়ে আছে। ছুটা বুয়া সকালে এসে ঘর ঝাড়ু দিয়ে আর দুপুরের ভাত বসিয়ে চলে যায়, বাকি সব সামলাতে হয় তাকেই। রান্নাঘরের স্যাঁতসেঁতে মেঝের ওপর দাঁড়িয়ে শারমিন বাসনগুলো ধুতে শুরু করল। পানির ঠান্ডা ধারা হাতের আঙুলগুলোকে অবশ করে দেয়, কিন্তু বুকের ভেতরের জ্বলুনি তাতে একটুও কমে না।

রাত সাড়ে আটটায় দরজার বেল বাজল। মাহিন ফিরেছে। দরজা খুলে দিতেই শারমিন এক চিলতে হাসার চেষ্টা করল, “অনেক জ্যাম ছিল রাস্তায়?” মাহিন তার দিকে তাকালও না। কাঁধের ল্যাপটপ ব্যাগটা শারমিনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে জুতো খুলতে খুলতে বলল, “জ্যাম তো থাকবেই, ঢাকা শহরে কি আর নতুন কিছু? এক কাপ লেবু চা দাও তো, মাথাটা ধরে গেছে।”

“আমি খাবারটা রেডি করছিলাম, চা-ও বসাচ্ছি।”

“দেরি কোরো না, ভীষণ টায়ার্ড,” বলেই মাহিন ড্রয়িংরুম পেরিয়ে সোজা নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। মায়ের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মিষ্টি স্বর ভেসে এল রান্নাঘর পর্যন্ত, “আম্মা, শরীর কেমন আজ? ওষুধ খেয়েছিলে ঠিকমতো?”

রান্নাঘরের চুলার নীল শিখার দিকে তাকিয়ে শারমিনের চোখ দুটো ভিজে উঠল। কত স্বাভাবিক একখানা জিজ্ঞাসা “শরীর কেমন আজ?” মাহিন তার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারে, অফিসের কলিগকে জিজ্ঞেস করতে পারে, কিন্তু যে মেয়েটি সারা দিন বাইরে খেটেখুটে এসে ঘামে ভেজা শরীরে তার জন্য রাতের খাবার রাঁধছে, তাকে একটিবারের জন্য জিজ্ঞেস করার ফুরসত মাহিনের হয় না। ভালোবাসা কি বিয়ের পর এমন আত্মকেন্দ্রিক রূপ নেয়? প্রেম কি তবে কেবল পাওয়ার নাম, পরিচর্যার নয়? চা বানিয়ে মাহিনের টেবিলে দিয়ে এল শারমিন। মাহিন তখন খাটে শুয়ে মোবাইল স্ক্রল করছে।

“চা রাখলাম মাহিন।”

“হুম।” মাহিন চোখ না তুলেই জবাব দিল।

শারমিন খাটের একপাশে একটু বসল। হাত বাড়িয়ে মাহিনের কপালে আঙুল ছোঁয়াল। “আজকের দিনটা অফিসে খুব খারাপ গেল জানো? বসের অদ্ভুত একটা ডেডলাইন ছিল, সারাদিন লাঞ্চ করারও সময় পাইনি।” মাহিন এবার বিরক্ত চোখে তাকাল। ফোনটা বুকের ওপর নামিয়ে রেখে বলল, “দেখো শারমিন, দিনশেষে বাড়ি ফিরে অফিসের ঘ্যানঘ্যানানি শুনতে ভালো লাগে না। সবারই কাজ থাকে, সবারই প্রেশার থাকে। তুমি চাকরি করতে চেয়েছ, আমি তো তোমাকে না করিনি। এখন যদি প্রেশার না নিতে পারো, চাকরি ছেড়ে দাও। ঘরে বসে সংসার করো।”

শারমিনের মুখের কথাগুলো গলার কাছে দলা পাকিয়ে গেল। সে কি কোনো সমবেদনা ভিক্ষা চেয়েছিল? না তো। সে শুধু চেয়েছিল একটুখানি ভাগাভাগি। মানুষ তো পাথরের কাছে কথা বলে না, নিজের মানুষের কাছেই এক ফোঁটা শান্তির আশায় মনের ভার নামিয়ে রাখতে চায়। অথচ সেই মানুষটি যখন এমন শীতল হিসেবি যুক্তি দেয়, তখন বুকটা চিরে যায়।

“আমি কি তোমাকে প্রেশার নেওয়ার কথা বলেছি মাহিন? আমি তো শুধু একটু কথা বলতে চেয়েছিলাম...” শারমিনের গলা কেঁপে উঠল।

“আহা, নাটক শুরু কোরো না তো প্লিজ! এমনিতেই মাথা ব্যাথা করছে। খাবারটা টেবিলে দাও, খেয়ে ঘুমাব।” মাহিন পাশ ফিরে শুলো।

শারমিন ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। চোখের জলটা গাল বেয়ে নামতে চাইল, কিন্তু সে শক্ত হাতে আঁচল দিয়ে তা মুছে ফেলল। কান্নার অধিকারও যেন এ বাড়িতে তার নেই। একটু চোখের পানি ফেললেই তাকে দাগিয়ে দেওয়া হবে ‘নাটকবাজ’ কিংবা ‘অশান্তিকামী’ হিসেবে। ডাইনিং টেবিলে ভাত বেড়ে দিল শারমিন। মাছের ঝোল বাটিতে ঢেলে সামনে দিতেই শাশুড়ি এক লোকমা মুখে তুলে মুখ বাঁকালেন। “লবণ কি আজকাল দোকানে মাগনা দেয় বউমা? তরকারিতে নুন যে মুখে দেওয়া যাচ্ছে না! আর মাছটা ঠিকমতো কষানো হয়নি, কাঁচা গন্ধ বেরোচ্ছে।”

মাহিন নিজের থালার দিকে তাকিয়ে এক চামচ তরকারি মুখে দিয়ে হালকা স্বরে বলল, “লবণটা সত্যিই একটু বেশি হয়ে গেছে শারমিন। একটু দেখে রান্না করতে পারো না?” শারমিন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। সে জানে, লবণ বেশি হয়নি। দুপুরে অফিসের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে শাশুড়ির পছন্দের সন্দেশ কিনে এনেছিল সে, ফ্রিজে রাখা আছে। কিন্তু সেটা দেওয়ার আর কোনো সাহস বা ইচ্ছে শারমিনের রইল না।

“কাল থেকে তুমি রাঁধতে যেও না, কাজের বুয়াকে বলে দিয়েছি ও যেন রাতেরটাও রেঁধে দিয়ে যায়। অযথা ঘরের খাবার নষ্ট করার কোনো মানে হয় না,” রাবেয়া বেগম ভাতের থালা ঠেলে উঠে পড়লেন। মাহিন কিছু বলল না। নিবিষ্ট মনে নিজের খাওয়া শেষ করে সে বেসিনে হাত ধুয়ে ঘরে চলে গেল। পুরো ডাইনিং স্পেসে তখন অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। ফ্যানের একটানা ঘড়ঘড় আওয়াজ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। টেবিল পরিষ্কার করে, এটো বাসন ধুয়ে, রান্নাঘরের আলো নিভিয়ে যখন শারমিন নিজের ঘরে ঢুকল, তখন দেয়ালঘড়িতে রাত এগারোটা।

মাহিন ঘুমিয়ে পড়েছে। এসি থেকে শীতল বাতাস বইছে ঘরজুড়ে। শারমিন ধীরে ধীরে গিয়ে বিছানার অপর প্রান্তে বসল। খুব সাবধানে, যেন বিছানার তোশক নড়ে উঠে মাহিনের ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটে। বালিশে মাথা রাখতেই সারা শরীরের পেশিগুলো তীব্র যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠল। কিন্তু শরীরের চেয়েও বেশি দহন হচ্ছিল বুকের ভেতরে। এক তীব্র নিঃসঙ্গতা চারপাশ থেকে তাকে গ্রাস করতে লাগল। পঁচিশ বছর বয়স এমন কোনো বড় বয়স নয়। এই তো কদিন আগেও তার চুলে প্রজাপতি উড়ত, বৃষ্টি নামলে সে ছাদে গিয়ে ভিজত। বাবার বাড়িতে সে যখন ফিরত, মা বলত, “খুকি, মুখটা এমন শুকনো দেখাচ্ছে কেন রে? একটু দুধভাত মেখে দেব?” বাবা হাত মাথায় রেখে বলতেন, “আমার মা মনিটার এত খাটাখাটুনি করার দরকার কি?”

সেই আদরের মেয়েটি আজ কার সংসারে এসে দাঁড়িয়েছে? যেখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিজেকে নিঃশেষ করে বিলিয়ে দেওয়ার পরেও এক ফোঁটা মমতা মেলে না। কাজের কোনো ভুল হলে শত সহস্র বাক্যবাণ ছুটে আসে, কিন্তু একশটি কাজ নিখুঁতভাবে করে ফেললে তার কোনো স্বীকৃতি থাকে না।

শারমিনের মনে পড়ল বিয়ের প্রথম মাসের কথা। মাহিন অফিস থেকে ফেরার সময় বেলি ফুলের মালা নিয়ে আসত। শারমিনের খোঁপা ছুঁয়ে বলত, “তোমার এই সুবাস আমাকে পাগল করে দেয়।” সেই ফুলগুলো কবে শুকিয়ে ঝরে গেল? মানুষ কীভাবে এত দ্রুত বদলে যায়? বিয়ের চুক্তিপত্র কি তবে ভালোবাসার স্বাভাবিক উষ্ণতাটুকু কেড়ে নেয়? স্বামী মানে কি শুধুই একজন উপার্জনকারী পুরুষ, যে রাতে খাবার খাবে আর পাশ ফিরে ঘুমোবে? তার কি কোনো দায় নেই স্ত্রীর মনের খোঁজ নেওয়ার?

শারমিন জানালার দিকে তাকাল। ভারী পর্দার ফাঁক দিয়ে বাইরের ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলো এসে পড়েছে মেঝেতে। সবাই বলে, নারীর শক্তি অনেক। নারী সহনশীল, নারী ত্যাগী। কিন্তু এই ত্যাগের মহিমা তো সমাজেরই চাপিয়ে দেওয়া একটা নিষ্ঠুর চাদর। নারীকে ‘দেবী’ বানিয়ে তাকে রক্ত-মাংসের অনুভূতির বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়। সে ক্লান্ত হতে পারবে না, সে ভেঙে পড়তে পারবে না, তার কোনো মনখারাপের অধিকার থাকবে না। শারমিন নিঃশব্দে কাঁদতে লাগল। তার কান্না যেন বালিশের তুলোর ভেতরেই শোষিত হয়ে যায়, কোনো শব্দ যেন বাইরে না বেরোয়। আজ যদি সে চিৎকার করে বলে, “আমি ভালো নেই, আমি একটু আদর চাই, একটু নরম স্পর্শ চাই, একটু ভালোবাসার কথা শুনতে চাই” কে শুনবে তার কথা? সমাজ বলবে, “তোমার স্বামী তো গায়ে হাত তোলে না, খেতে-পরতে দেয়, পরকীয়া করে না, তবে তোমার কিসের অভাব?” অভাব তো অন্নের নয়, অভাব যে এক ফোঁটা মমতার। একটা স্পর্শের, যা দিনের সব গ্লানি মুছে দিতে পারত। একটা সহজ বাক্যের, “তুমি খুব কষ্ট করছ শারমিন, আমি বুঝতে পারি।” এই সামান্য কয়েকটা শব্দ কি খুব দামি? কোনো দোকানে কি এগুলো কিনতে পাওয়া যায়? পাশের মানুষটি ঘুমে নিঃশ্বাস ফেলছে। শারমিন নিজের হাতখানা বুকের ওপর রাখল। হৃদস্পন্দন অনুভূত হচ্ছে। সে বেঁচে আছে। কিন্তু এই বেঁচে থাকা কি কেবল একটা অভ্যাসের দাসত্ব? প্রতিদিন সকালে ওঠা, ঘড়ি ধরে ছোটা, তিরস্কার শোনা, রান্না করা, আর রাতে একলা বালিশে অশ্রু লুকানো এটাই কি জীবন?

রাত বাড়ে। শহরের কোলাহল একসময় স্তব্ধ হয়ে যায়। শারমিনের চোখের জল একসময় শুকিয়ে দাগ হয়ে যায় গালে। সে জানে, কাল ভোরে আবার তাকে উঠতে হবে। অ্যালার্ম বাজার আগেই চুলা জ্বালাতে হবে, চায়ের কেতলি বসাতে হবে, শাশুড়ির মন মেজাজ মেপে কাজ করতে হবে, আর অফিসের ভিড় বাসে নিজেকে ঠেলে দিতে হবে। নারী কি তবে কেবলই এক অনন্ত দহনের নাম? যে দহন বাইরে থেকে দেখা যায় না, যা শুধু তুষের আগুনের মতো ভেতরটাকে তিলে তিলে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

শারমিন চোখ বন্ধ করল। অন্ধকারের গভীরে তলিয়ে যেতে যেতে সে ভাবল, কোনো এক ভোরে কি এই দহন জুড়োবে? নাকি জন্ম থেকে জন্মান্তরে নারীর নিয়তি কেবলই এই নিঃশব্দ আত্মাহুতি? প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই, কেবল ঘড়ির টিকটিক শব্দ ঘরে এক অদ্ভুত শূন্যতার সুর বাজিয়ে যায়।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+30 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login

  • Jabir Raiyan 1 day ago

    শুভকামনা রইলো