Post

জীবনটা হোক তৃপ্তিময়

September 28, 2026

16 views

একটা সময় ছিল যখন শুধু গল্পের বই নিয়ে পড়ে থাকা আর লেখালেখি করতে ইচ্ছে করতো। অনার্সে, মাস্টার্সে, জব প্রিপারেশন এর সময়, মূল কাজ বাদ দিয়ে শুধুই এসব করতে মন চাইতো। করেছিও; তাতে সময়কে বরবাদ করেছি কি না জানি না। তখন এসবই বেশি ভালো লাগতো। যখন যা ভালো লাগে তা করা থেকে আমি নিজেকে কখনও আটকাতে পারিনি। আত্ম-নিয়ন্ত্রণ ব্যাপারটা আমার মধ্যে কখনও হয়ত ছিল না।

ইদানিং, আমার কলেজে শিক্ষার্থীদের পড়াতে ভালো লাগছে। তাদের ক্লাসে ভালো ভাবে পড়ানোর জন্য আমি বাসায় বসে এতোই পড়াশোনা করি যে, যেটা আমার অনার্স, মাস্টার্স, জব প্রিপারেশনের সময় করা উচিত ছিল তা আমি এখন করছি! আমার এখন এটা করতে ভালো লাগছে, আমি ইনজয় করছি; এখন আমাকে অনেকেই বলছে কি দরকার তোমার এতো খাটুনি করার! কোনো কথা আমার গায়ে লাগছে না। আমি খেটে যাচ্ছি। আমার ভালো লাগছে খাটতে। আমি বিষয়টা ইনজয় করছি। এখনও আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আমার ভালো লাগছে তাই করে যাচ্ছি।

অথচ, এখন আমার গল্পের বই পড়ার কথা, বেশি বেশি লেখালেখি করার কথা; এইগুলো করবো বলেও সবকিছু ছেড়েছুড়ে কলেজে জয়েন করেছি। এখানে সময় বেশি, চিন্তা করার সুযোগ বেশি! আরও কত কি!!

মানুষ আসলে কখন কি চায়, সে জানে না। মানুষের জীবনের প্রায়োরিটি পরিবেশ, সময়, পরিস্থিতিতে প্রতিনিয়ত পালটায়। আমি জানি না আমার বর্তমানের এই ভালো লাগা কতদিন আমার মধ্যে থাকবে। তবে আমার ইচ্ছেগুলো কখনও কারো ক্ষতি করেনি। যদি ক্ষতি করে থাকে শুধু আমারই করেছে! তাতেও আমার কষ্ট নেই। কজন পারে নিজের ইচ্ছাগুলোকে মূল্য দিতে? আমি মূল্য দিতে পারিনি কিন্তু আমি আমার ইচ্ছেগুলোকে বেধে রাখিনি, মুক্ত রেখেছি। যখন যেদিকে খুশি মোড় নিতে পারে, ছুটতে পারে। এতেই আমার তৃপ্তি কাজ করে।

আমার এই ছোট্ট জীবনে অনেক মানুষ দেখেছি যারা শুধু সফল হবে বলে, জীবনের পুরোটাই একটা দড়ি গলায় ঝুলিয়ে রেখেছে। তারা সফল হলে গলা থেকে সেই দড়ি খুলে ফেলবে। অনেকেই সফল হয়েছেও, আই মিন সেভাবে সফল- তারা যা পেতে চেয়েছিল পেয়েছে কিন্তু গলা থেকে দড়িটা নামেনি। দড়ি যে গলায় ঝুলে তাকে এখনও বেধে রেখেছে সেটা সে বুঝতেও পারছে না। এখন তার জীবন নিয়ে অতৃপ্তি, এতোদিন ছিল ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশা, এখন সে জীবন ও পারিবারিক জটিলতা নিয়ে হতাশ! কি লাভ হলো সফল হয়ে?

জীবনটা হোক তৃপ্তিময়, ছোট বড় যাই করি, সততা থাকুক, পরিশ্রম থাকুক, দায়িত্ব বোধ থাকুক, কর্তব্যপরায়ণতা থাকুক, সুশীলতা থাকুক তৃপ্তি চলে আসবে। আপনি চাইলেও আর হতাশা তাড়া করতে পারবে না। আমাদের দেশের বর্তমান বেশির ভাগ মানুষের জীবন হতাশায় জর্জরিত। কারণ সে তার কাজকে পছন্দ করে না, সে যা করে তা সে করতে চায় না, যা সে করে তা তার করতে ভালো লাগে না। তাই হতাশা, সুইসাইড, সামাজিক অবক্ষয় ইত্যাদি বেড়েই চলেছে।

নিজেকে সৎভাবে ভালোবাসা জরুরি। তবেই হতাশা কমবে, শান্তি ও তৃপ্তিবোধের জায়গা তৈরি হবে। হতাশা কমলে মানুষের মধ্যে হিংস্রতা কমবে। ঘরের বাইরে এখন আমি বেশিরভাগই হিংস্র মুখ দেখতে পাই, যারা আমাকে লুট করার জন্য সদা প্রস্তুত। তবুও নিজেকে বোঝাই, এই হিংস্রতার সমাজেই আমি থাকতে চেয়েছিলাম, আমি এখানকারই মানুষ, এই আমার ঠিকানা, এখানেই আমি হবো চির নিদ্রায়িত; এসো তুমি তোমার সকল ক্রোধ-অভিশাপ-অভিযোগ নিয়ে আমি সর্বদা শুভাকাঙ্ক্ষীই রবো।

#মনের_বাক্যমালা #Thoughts

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+20 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login