করোনা ভাইরাসের পর এসেছে পড়েনা ভাইরাস। এই ভাইরাসে হাবিব সাহেবের ছোট ছেলে আক্রান্ত। যতই বলা হোক সে কিছুতেই পড়েনা।
হাবিব সাহেব আপাতত সেসব নিয়ে ভাবছেন না। ভাবার জন্য তাঁর দশভূজা স্ত্রী আছেন। তিনি ভাবছেন আরও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে।
হাবিব সাহেব এবং তাঁর মতো যারা আছেন তাঁদের চিন্তার অভাবে মানবজাতির সমস্যাগুলো মানুষের রাডারে ধরা পড়ছে না। এটা অবশ্য তাঁর স্ত্রী সুমনার বক্তব্য। যদিও বক্রোক্তি; তবু তিনি একে সত্য বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।
আপাতত তিনি ‘যোগাযোগ’ বিষয়ে গূঢ় ভাবনা করছেন।
সবাই বলবে মানুষের যোগাযোগ দিন দিন ভালো হচ্ছে।
হাবিব সাহেবের ধারণা এর ঠিক বিপরীত।
যোগাযোগ বিষয়ে চিন্তা’র খাতায় তিনি যা লিখবেন বলে ঠিক করলেন
তা এরকম।
‘মানুষের যোগাযোগের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আগে আমরা সবাই সামনাসামনি কথা বলতাম। তারপর ফোনে, তারপর পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে ফেইসবুকে। অদূর ভবিষ্যতে এমন দিন আসবে যখন এ আই বলবে, ফেইসবুকে তোমাদের নিয়মিত পোস্ট করতে কষ্ট হয়, আমরা তোমাদের হয়ে পোস্ট করবো যাতে তোমাদের অরগানিক রিচ ব্যাহত না হয়।
তখন আমাদের হয়ে এ আই কথা বলবে, পোস্ট করবে আমাদের বন্ধুদের জন্য।
ভবিষ্যতে কি শুধু এ আই-রা আমাদের পক্ষ হয়ে একে অপরের সাথে কথা বলবে?
আমরা বলবো না?
এমনও হতে পারে তারাই সিদ্ধান্ত নেবে আমরা কিছু বলবো কি না।’
পুনশ্চ: যারা হাবিব সাহেবকে চেনেন না, তাদের জন্য বলছি। হাবিব সাহেব আমার একটি অপ্রকাশিত অণুগল্প সিরিজের চরিত্র। রিটায়ার্ড ভদ্রলোক দিনের একটা বড় সময় বারান্দায় ইজি চেয়ারে শুয়ে চিন্তা-ভাবনা করে কাটান। কখনো সেই চিন্তাগুলো গুরুগম্ভীর হয়, কখনো খুব হালকা।