সোমার বিয়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। বিয়েটা এরেন্জ ম্যারেজ হলেও প্রথম দিকে ভালোই ছিল তারা। বছর দেড়েক হলো ধৈর্য্যের খুব অভাব দুজনের। ফয়সালের ব্যবহারে কষ্ট পায় সে। দিনকে দিন অচেনা মানুষে পরিণত হচ্ছে তার স্বামী। আর ব্যবহার রূঢ় থেকে রূঢ়তর।
তবে সোমা এখন আর এসবে অবাক হয় না। মেলা থেকে কেনা ছোট্ট চিনামাটির ফুলদানিতে ফয়সালের দেয়া কষ্টগুলো জমিয়ে রাখছে সে। কেউ যাতে বুঝতে না পারে তাই ইকেবানার মতো ফুল দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে। ফুলদানি যখন আর নতুন কষ্ট নিতে পারছে না, ঠিক সেই সময় একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে যায়।
সে শাঁখারি বাজার গিয়েছিল গতমাসে। সবসময় গলায় পরে থাকা চেইনটা ছুটে গেছে। চেনা দোকানে তাই ঠিক করতে দিয়ে এসেছে। সাথে নতুন কিছু এসেছে কিনা তাও দেখে আসে। ফেরার পথে এক বিস্ময়কর দোকানের সন্ধান পায় সে।
পুরোনো যত রাগ, অভিমান ইত্যাদির সমন্বয়ে দারুণ কিছু বানাতে পারেন এই কারিগর। ওর বিশ্বাস হতে চাচ্ছিল না। এমন কিছুও কি পৃথিবীতে থাকা সম্ভব! লোকটা কয়েকটা স্যাম্পল দেখিয়েছিল। সোমা মুগ্ধ।
পরের সপ্তাহে সে ফুলদানিটা দিয়ে আসে। আজ ডেলিভারি ডেট।
উত্তেজিত সোমা ঘরের কাজ গুলো তাড়াতাড়ি শেষ করার চেষ্টা করে। এর মধ্যে আবার কাজের মেয়েটা আসেনি। ফয়সালের সাথে ব্রেকফাস্ট সারে রুটি, ভাজি, ডিম পোচ আর চা দিয়ে। লাঞ্চ বক্স রেডি করে স্বামীকে বিদায় দিয়ে দুপুরের রান্নাটা বসায়। টুকটাক ফার্নিচার মোছামুছি করে। ঘর মোছে না। এসব করতে করতেই সাড়ে বারোটা বেজে যায়।
এবার বাসায় তালা দিয়ে সে শাঁখারি বাজার রওনা হয়। যাওয়ার পথে ভাবে , আজব লোকটা! এমন একটা কাজ জানে অথচ মজুরি সেই তুলনায় কিছুই না; মাত্র ২০০ টাকা। কেউ বিশ্বাস করবে!
যানজট ঠেলে দুপুর দুইটার দিকে দোকানে পৌঁছায় সে।
কিন্তু এই মুহুর্তের অনুভূতিটাকে সে কি নাম দেবে তা নিয়ে একটু দ্বিধান্বিত। কারিগর ২০০ টাকা নিয়ে তার হাতে বিশাল ঝাঁ চকচকে এক ওজনদার চাপাতি ধরিয়ে দিয়েছে। যার এককোপে জীবন্ত মানুষ দুটুকরো করা যাবে।