মানুষ পৃথিবীতে আসার আগে থেকেই যার সঙ্গে তার সবচেয়ে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়, তিনি মা। জন্মের পর একজন মানুষ ধীরে ধীরে পৃথিবীকে চিনতে শেখে, কিন্তু মায়ের কাছে সে কোনোদিন অপরিচিত হয়ে যায় না। বয়স বাড়ে, দায়িত্ব বাড়ে, নিজের সংসার হয়, তবু মায়ের চোখে সন্তান সেই আগের মানুষটিই থেকে যায়।
শৈশবে মায়ের শাসন অনেক সময় কঠিন মনে হয়। কেন সময়মতো খেতে বলছে, কেন বাইরে যেতে দিচ্ছে না, কেন এত প্রশ্ন করছে, তখন এসবের উত্তর বুঝতে পারি না। বয়স বাড়ার পর বোঝা যায়, সেই প্রশ্নগুলোর পেছনে ছিল ভয়, শাসনের পেছনে ছিল ভালোবাসা আর অপেক্ষার পেছনে ছিল সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে অস্থিরতা।
মায়ের ভালোবাসার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সেখানে হিসাব কম। সন্তান সফল হলে মা গর্বিত হন, ব্যর্থ হলে আরও কাছে টেনে নেন। পৃথিবী যখন একজন মানুষের সাফল্যের হিসাব করে, মা তখন তার কষ্টের হিসাব করেন।
মানুষ জীবনে অনেক মানুষের ভালোবাসা পায়, কিন্তু মায়ের ভালোবাসার জায়গাটি আলাদা। কারণ এটি অর্জন করতে হয় না। এটি কোনো শর্তের বিনিময়ে আসে না। মানুষ যত দূরেই যাক, মায়ের কাছে তার ফেরার একটি জায়গা সবসময় থাকে।
তাই মায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য কোনো বিশেষ দিনের প্রয়োজন নেই। মায়ের খবর নেওয়ার জন্য কোনো উপলক্ষ দরকার নেই। কারণ পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে যাদের হারানোর পর আফসোস করার সুযোগও থাকে না।
জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যস্ততার মধ্যেও মায়ের জন্য কিছুটা সময় রাখা উচিত। কারণ একদিন হয়তো সময় থাকবে, কিন্তু মানুষটি থাকবে না। আর তখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আফসোস হতে পারে একটি সাধারণ ফোনকল না করা।