Written By Asadullah Galib Al Sadi
একসময় যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র ছিল বন্দুক ও কামান। এখন তথ্যও একটি শক্তিশালী অস্ত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদ, ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের ফলে মানুষের চিন্তা ও মতামত প্রভাবিত করার সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
একটি মিথ্যা তথ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। পরে সেটি সত্য নয় প্রমাণ হলেও মানুষের মনে তৈরি হওয়া ধারণা সহজে পরিবর্তন হয় না।
আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় তথ্যযুদ্ধ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বর্ণনা দুই পক্ষ থেকে সামনে আসতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য কোনটি সত্য এবং কোনটি প্রচারণা, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। তথ্য যাচাই, উৎস যাচাই এবং প্রেক্ষাপট বোঝা ছাড়া কোনো তথ্য দ্রুত প্রকাশ করা শুধু ভুল তথ্য ছড়াতে পারে না, বরং মানুষের সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করতে পারে।
সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। কোনো উত্তেজনাপূর্ণ খবর দেখলেই শেয়ার না করে উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। একটি ছবির পুরোনো হওয়া, একটি ভিডিও অন্য ঘটনার হওয়া কিংবা একটি বক্তব্যের অংশবিশেষ তুলে ধরা খুব সহজেই ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।
ডিজিটাল যুগে তথ্যের অভাব নেই। বরং সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত তথ্যের মধ্যে সত্যকে খুঁজে বের করা।
ভবিষ্যতের তথ্যযুদ্ধ তাই শুধু প্রযুক্তির লড়াই হবে না। এটি হবে মানুষের মনোযোগ, বিশ্বাস এবং সত্য যাচাই করার সক্ষমতার লড়াই।