Written By Asadullah Galib Al Sadi
পৃথিবীর সব মানুষ একই গ্রহে জন্মায়, একই বাতাসে শ্বাস নেয় এবং একই সূর্যের আলো দেখে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার সময় তাদের সুযোগ সমান থাকে না। একজন মানুষের পাসপোর্ট তার ভ্রমণ, শিক্ষা, কাজ কিংবা অন্য দেশে বসবাসের সুযোগকে অনেকাংশে প্রভাবিত করতে পারে।
একটি শক্তিশালী পাসপোর্টের নাগরিক অনেক দেশে তুলনামূলক সহজে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে অনেক দেশের নাগরিককে ভিসা, অতিরিক্ত কাগজপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং নানা ধরনের যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
এর পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক আস্থার মতো বিভিন্ন বিষয়।
পাসপোর্ট তাই শুধু পরিচয়ের দলিল নয়। আধুনিক বিশ্বে এটি মানুষের আন্তর্জাতিক চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তবে এখানেই একটি বৈপরীত্য রয়েছে। একজন মানুষের জন্মস্থান তার নিজের পছন্দ নয়। কিন্তু সেই জন্মস্থানই অনেক সময় তার আন্তর্জাতিক সুযোগের একটি বড় অংশ নির্ধারণ করে দেয়।
বিশ্বায়ন মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সীমান্ত এখনো মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে পৃথিবী একই সঙ্গে একটি বৈশ্বিক গ্রাম এবং বহু রাষ্ট্রের পৃথক ব্যবস্থার সমষ্টি।
ভবিষ্যতে বিশ্ব আরও সংযুক্ত হলেও পাসপোর্টের গুরুত্ব হয়তো পুরোপুরি শেষ হবে না। কারণ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অভিবাসন নীতি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মৌলিক অংশ হয়ে থাকবে।
একটি পাসপোর্ট তাই শুধু একটি বই বা পরিচয়পত্র নয়। এটি অনেক সময় একজন মানুষের পৃথিবী দেখার সুযোগ কতটা বিস্তৃত হবে, তারও একটি প্রতীক।