Poetry

ক্ষুধার্তের আদালত | ইকরামুল শামীম

September 30, 2026

38 views

শুনুন মহামান্য বিচারপতি,

এই কাচঘেরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত খাসকামরায়

আপনার আইনি বইয়ের পাতায় যে ধারাগুলো লেখা আছে,

সেগুলো দিয়ে ভাত ফোটে না।

​আজ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে আঠারোটি শীর্ণ হাড়ের হাত,

যাদের অপরাধ- তারা মাঝরাতে

এক টুকরো রুটির জন্য

এক ভিআইপি হোটেলের শাঁসান দেওয়াল টপকেছিল।

তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করেনি,

তারা শুধু তাদের পেটের ভেতর জ্বলতে থাকা

জ্বালামুখীটাকে নেভাতে চেয়েছিল।

​আপনার চোখে তারা অপরাধী,

কারণ তারা আইন ভেঙেছে।

কিন্তু আমাদের চোখে এই সমাজটাই আসল আসামি,

যে সমাজ দশ শতাংশের উদরপূর্তির জন্য

নব্বই শতাংশের থালা থেকে শেষ দানাটুকু কাড়তে শেখায়।

​আপনার এই সুবিশাল আদালত,

ওই পুলিশ, ওই সোনালি ফিতে জড়ানো নথি-

সব দাঁড়িয়ে আছে শোষকের পাহারাদার হয়ে।

কিন্তু আপনি কি জানেন?

ক্ষুধার কোনো শ্রেণি হয় না,

ক্ষুধার কোনো পাসপোর্টের সিল লাগে না,

আর পেট যখন শূন্য হয়ে যায়,

তখন বিপ্লব কোনো অনুমতিপত্রের অপেক্ষায় থাকে না!

​আজকের এই রায় আপনি যাকে খুশি দিন,

কিন্তু জেনে রাখুন-

যেদিন মেহনতি মানুষের খিদে একসাথে গর্জে উঠবে,

যেদিন প্রতিটি শূন্য থালা ঢাল হয়ে দাঁড়াবে রাজপথে,

সেদিন আপনাদের এই কাচের প্রাসাদ,

আর কাগজের আইনের ধারাগুলো

বালির বাঁধের মতো ভেসে যাবে প্রলয়ঙ্করি মিছিলে।

​সেদিন বিচারক হবেন একজন মেথর, একজন দিনমজুর,

আর আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াবে

আপনাদের এই বৈষম্যের ব্যবস্থা।

সেই লাল ভোরের আদালতে

সবাই সমান পাবে ভাত,

সবাই পাবে আলো।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login