মিথুন বলে💭:- "রব, তুমি অপার মহান ও পরম সম্মানিত।"
এই নশ্বর ধরার বুকে মানুষের জীবনযাত্রায় তুমি এক গভীর ও বিস্ময়কর বিধান রচনা করেছ। একজন মানবের ওপর দিয়ে সংসারের সর্বপ্রকার মানসিক, আত্মিক ও বাহ্যিক চরম কষ্টের ঝাপটা বয়ে যাওয়াকে তুমি যেন অবধারিত ও হালাল করে দিয়েছ; অথচ সেই যন্ত্রণার তীব্র সাগরে হাবুডুবু খেয়ে নিজের প্রাণ নিজে বিসর্জন দেওয়া কিংবা আত্মাহুতি দেওয়াকে তুমি কঠোরভাবে হারাম করে দিয়েছ!
এ কী অপরূপ অথচ ভারী এক পরীক্ষা! কষ্ট মানুষকে পুড়িয়ে নিখাদ সোনা করে, সহ্যশক্তির শেষ সীমানায় নিয়ে দাঁড় করায়। কিন্তু যন্ত্রণায় ছটফট করার মুহূর্তেও আত্মাহুতির পথ বন্ধ করে দিয়ে তুমি বিশ্ববাসীকে বুঝিয়ে দাও—এই মানবদেহের ওপর মানুষের নিজের কোনো একচ্ছত্র মালিকানা নেই। এই প্রাণ কেবলই তোমার গচ্ছিত এক পবিত্র আমানত।
পার্থিব জীবনে যত তীব্রই হোক যন্ত্রণার দহন, নিঃশ্বাস নিজ হাতে থামিয়ে দেওয়ার অধিকার তোমার কোনো বান্দাকে দাওনি। বরং কষ্টের দাবানলে পুড়ে বেঁচে থেকেই সেই দহন সহ্য করা এবং কষ্টের মাঝেই তোমাকে চেনার ও খুঁজে নেওয়ার নামই প্রকৃত জীবন।
যন্ত্রণার পরম গভীর মুহূর্তে যখন চারপাশ ঘুটঘুট অন্ধকারে ঢেকে যায়, যখন মনে হয় ধৈর্যের বাঁধ বুঝি ভেঙে গেল—ঠিক তখনই বান্দাকে থমকে দাঁড়িয়ে তোমার অপার মহত্ত্ব অনুধাবন করতে হয়। বেঁচে থাকার লড়াইটা ক্ষতে ভরা ও যন্ত্রণাদায়ক, কিন্তু সেই গভীর কষ্টই বান্দার অহংকার চূর্ণ করে তাকে তোমার চরণের আরও কাছাকাছি টেনে নেয়। কষ্টের প্রতিটি ফোঁটা রক্ত ও চোখের জল আসলে মানুষের বিশ্বাসের গভীরতা পরীক্ষা করার এক মহান ঐশ্বরিক মাধ্যম।