অনুভূতি প্রকাশ করছি আমি:হাফিজ আল মিথুন 💭✍️
পঞ্চাশের বেশি বিভিন্ন শিল্পীদের সঙ্গে বসে কথা বলেছি। তাঁদের হাসির আড়ালে, গল্পের ফাঁকে ফাঁকে একটা জিনিস বারবার চোখে পড়েছে। কথা বলতে বলতে হঠাৎ তাঁরা থেমে যান,তাকিয়ে থাকেন দূরে কোথাও। সেই থেমে যাওয়ার মধ্যেই প্রকাশ করেন শিল্পী মাত্রই সীমাহীন একাকীত্বের পথের যাত্রী।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসায় তিনি ঘেরা। মঞ্চে আলো, হাতে ফুল, চারপাশে করতালি কিন্তু এই ভিড়ের মধ্যে তাঁকে, শুধু তাঁকেই, কোনো স্বার্থ ছাড়া ভালোবাসে এমন মানুষ হাতে গোনা।স্বার্থের একটি মিষ্ট আছে যে গন্ধ পেলে মানুষ জড়ো হয়, প্রয়োজন ফুরালে একে একে সরে যায়। শিল্পী এটা বোঝেন, সবটাই বোঝেন। তবু কিছু বলেন না। কারণ তিনি জানেন, কাউকে আঁকড়ে ধরে রাখার চেয়ে নিজের কষ্টটা একা সয়ে নেওয়া সহজ। এভাবেই তিনি নিজের সৃষ্টির নীরব সাক্ষী হয়ে থাকেন।
তবু আশ্চর্য, এই মানুষগুলির মনে কোনো তিক্ততা জমে না। সত্যিকারের শিল্পীর আসল সৌন্দর্য তাঁর উদারতায়। তাঁর হাতে হয়তো টাকা নেই, কিন্তু যা আছে তা-ই তিনি উজাড় করে দেন যেমন নিজের মেধা, নিজের অভিজ্ঞতা, পথ চেনানোর একটুখানি আলো। একা আলো হয়ে জ্বলতে তাঁর ভালো লাগে না। অন্য কারও প্রতিভা চোখে পড়লে তিনি সেটা স্বীকার করেন, সবার সামনে তুলে ধরেন। অন্যের সাফল্যে তিনি এমনভাবে খুশি হন, যেন সেটা তাঁরই জয়। যিনি নিজে এত নিঃসঙ্গ, তিনিই অন্যকে একা পড়তে দিতে চান না।
তারপর একসময় অনুষ্ঠান শেষ হয়। আলো নিভে যায়, কোলাহল থেমে যায় মানুষ ফিরে যায় যার যার ঘরে। শিল্পীও ফেরেন, সেই চিরচেনা নিঃসঙ্গতার কাছে যে কখনো তাঁকে ছেড়ে যায়নি। সেই নীরবতাতেই হয়তো জন্ম নেয় তাঁর পরের বিপ্লবী সৃষ্টি।
তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, এই বিশাল পৃথিবীতে একজন সত্যিকারের শিল্পীর চেয়ে বেশি একা আর কেউ নয়।