Story

দুই মাসের সংসার (পর্ব ২)

September 30, 2026

9 views

রাত তখন ২টা ৩৭।

থানার জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে বনলতা যখন করিডোরে দাঁড়াল, তখনও তার কানে একটা কথাই বাজছিল,এমন হলো কেন!

আরমানের মুখটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠল।কয়েক মাস আগেও যার সঙ্গে তার বিয়ের কথা চলছিল, আজ সেই মানুষটাই তার ফ্ল্যাটের মেঝেতে মৃত পড়ে ছিল।কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়।

আরমানকে কে মেরেছে?আর কেন?

ভোরের একটু আগে বনলতাকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হলো।লিফটের দরজা খুলতেই তার বুকটা কেঁপে উঠল।তৃতীয় তলার করিডোর টা অস্বাভাবিক নীরব।পুলিশ চলে গেছে অনেক আগেই। ফ্ল্যাটের দরজায় সিল লাগানো হয়েছে।

সে কয়েক সেকেন্ড দরজার দিকে তাকিয়ে থাকল।তারপর বনলতার চোখ পড়লো,

দরজার নিচ দিয়ে একটা সাদা খাম বেরিয়ে আছে সেদিকে। বনলতা ধীরে ধীরে সেটা তুলে নিল।

খামের ভেতরে একটা ছবি রয়েছে।ছবিটা দেখে বনলতা নিঃশ্বাস আটকে গেল।দুজন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে।একজন রাশেদ।আর অন্যজন..........

ছবিটা তার হাত থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।মোস্তাকিম।

ছবির পেছনে মাত্র দুটি লাইন..

“মৃত মানুষ ছবি তোলে না।”

“তুমি এখনও ভুল মানুষকে খুঁজছ।”

বনলতা চারপাশে তাকাল।কেউ কোথাও নেই।কিন্তু হঠাৎ তার পেছন থেকে খুব নিচু একটা শব্দ এল।

“ছবিটা দেখে এত অবাক হচ্ছ কেন?”

বনলতা জমে গেল।সে ধীরে ধীরে ঘুরল।করিডোর ফাঁকা।একদম ফাঁকা।তার বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন যেন শব্দ করে উঠল।

“কে?”

কোনো উত্তর নেই।

তারপর ফোনটা বেজে উঠল।

অচেনা নম্বর।

বনলতা কল ধরল না।ফোন আবার বাজল।

তারপর এলো একটা মেসেজ,

“দরজার দিকে তাকিয়ে থেকো না। তোমার পেছনে দেখো।”

বনলতার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।সে সঙ্গে সঙ্গে পেছনে তাকাল।কেউ নেই।শুধু সিঁড়ির মুখে অন্ধকার।কেউ যেন সিঁড়ির রেলিংয়ে হাত রাখল।

বনলতা এক পা পিছিয়ে গেল।ধীরে ধীরে কেউ সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছে।

এক ধাপ।

দুই ধাপ।

তিন ধাপ।

কিন্তু মানুষটাকে দেখা যাচ্ছে না।শুধু জুতোর শব্দ।

ঠক… ঠক… ঠক…

বনলতা দরজার পাশে সরে দাঁড়াল।

শব্দটা থেমে গেল।

নীরবতা।

তারপর...তার ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে একটা শব্দ শোনা গেল।

ক্রিং।

তার নিজের ফোন নয়।ভেতরে আরেকটা ফোন বাজছে।বনলতার চোখ বড় হয়ে গেল।পুলিশ তো সবকিছু তল্লাশি করে গিয়েছিল।সে ধীরে ধীরে দরজার সিলের দিকে তাকাল।সিল অক্ষত।তাহলে ফোনটা বাজছে কোথায়?

হঠাৎ ভেতর থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এল।খুব পরিচিত।খুব কাছের।কিন্তু অসম্ভব।

“বনলতা…”

তার হাত-পা অবশ হয়ে গেল।সে ফিসফিস করে বলল,

“না…”

কণ্ঠটা আবার এল।

“তুমি কি সত্যিই ভেবেছিলে আমি মারা গেছি?”

বনলতার চোখে পানি চলে এল।সে দেয়ালে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইল।

“মোস্তাকিম?”

কোনো উত্তর নেই।শুধু কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর,

“আমার নামটা এত সহজে ভুলে গেলে?”

বনলতা দরজা থেকে পিছিয়ে এল।ঠিক তখনই তার ফোনে একটা ভিডিও এল।ভিডিও চালু করতেই দেখা গেল,

একটা অন্ধকার ঘর।চেয়ারে বসে আছে একজন পুরুষ।মুখ দেখা যাচ্ছে না।শুধু হাত।কালো শার্টের হাতা।আর ডান কবজিতে একটা ঘড়ি।বনলতা ঘড়িটা চিনতে পারল।মোস্তাকিম এর ঘড়ি।ভিডিওতে লোকটা ধীরে ধীরে মাথা তুলল।ক্যামেরার দিকে তাকাল না।শুধু বলল,

“তুমি আমাকে খুঁজবে না।”

একটু থেমে,

“কারণ তুমি যখন আমাকে খুঁজে পাবে, তখন তোমার নিজের অতীতে তোমাকে খুঁজে পাবে।”

ভিডিও বন্ধ।বনলতা কাঁপা হাতে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।ঠিক তখনই তার ফোনে আরেকটা মেসেজ এল,

“এখনও কি মনে হয় মোস্তাকিম মারা গেছে?”

বনলতা কোনো উত্তর দিল না।কয়েক সেকেন্ড পর নতুন মেসেজ,

“ভালো করে দেখো।”

সঙ্গে একটি ছবি।ছবিতে সেই অন্ধকার ঘরের দরজা।দরজার পাশে দেয়ালে ঝোলানো একটি ঘড়ি।

সময় ২টা ১৭ মিনিট।

আর ছবির নিচে লেখা,

“সেদিনও সময়টা ছিল ২টা ১৭।”

বনলতার মুখ শুকিয়ে গেল।

কারণ সে জানত,

সেদিনের রাতের কথা সে নিজেই ভুলে থাকতে চেয়েছিল।আর সেই রাতের সবচেয়ে বড় রহস্য ছিল,

মোস্তাকিম তখন কোথায় ছিল?

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+30 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login