মহালয়ার প্রতীক্ষা
আদিত্য ভৌমিক
তারিখ: ১/১০/২০২৬
শরতের আকাশে নীলের গভীরতা যেন প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ছে। সাদা কাশফুল বাতাসে দুলছে, শিউলির সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে ভোরের নির্মল বাতাসে। প্রকৃতির প্রতিটি রঙে, প্রতিটি গন্ধে, প্রতিটি নীরবতায় যেন অনুভূত হচ্ছে এক পবিত্র আগমনের বার্তা।
মহালয়া আসছে।
আর মাত্র কয়েকটি প্রহরের অপেক্ষা। তারপরই ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে চণ্ডীপাঠের সেই চিরচেনা পবিত্র ধ্বনি। আকাশের নীলিমা, কাশবনের শুভ্রতা আর শিউলির কোমল সুবাস মিশে যাবে এক অপার্থিব আবেশে।
মহালয়া মানেই দেবীপক্ষের সূচনা।
মহালয়া মানেই অন্ধকারের শেষে আলোর প্রতীক্ষা।
মহালয়া মানেই অশুভের অবসান আর শুভ শক্তির জাগরণের পবিত্র প্রত্যয়।
ভোরের আকাশ যখন ধীরে ধীরে আলোর রঙে রাঙিয়ে উঠবে, তখন চণ্ডীপাঠের প্রতিটি মন্ত্র যেন মহাশক্তির আগমনের সংবাদ বহন করবে। আগমনী সুরে মুখরিত হবে বাতাস। মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি আর শঙ্খের পবিত্র ধ্বনিতে শরতের সকাল হয়ে উঠবে আরও নির্মল, আরও পবিত্র।
মনে হবে, প্রকৃতিও যেন অপেক্ষায় আছে।
কাশফুল অপেক্ষায় আছে।
শিউলি অপেক্ষায় আছে।
শরতের নীল আকাশ অপেক্ষায় আছে।
সমস্ত পৃথিবী যেন অপেক্ষা করছে সেই মহাশক্তির আগমনের জন্য।
মহালয়ার প্রতীক্ষা তাই শুধু উৎসবের প্রতীক্ষা নয়। এটি আলো ফিরে পাওয়ার প্রতীক্ষা। এটি শান্তির প্রতীক্ষা। এটি শুভ শক্তির জাগরণের প্রতীক্ষা। এটি হৃদয়ের সমস্ত অন্ধকার মুছে নতুন আশায় ভরে ওঠার প্রতীক্ষা।
দূরের আকাশে যখন ভোরের প্রথম আলো ফুটবে, তখন মনে হবে এক চিরন্তন আহ্বান ধ্বনিত হচ্ছে,
মা আসছেন।
মহালয়া আসছে।
আলো আসছে।
শুভ শক্তির জাগরণ আসছে।
শরতের নির্মল আকাশের নিচে সেই প্রতীক্ষা আরও গভীর হোক। চণ্ডীপাঠের পবিত্র ধ্বনিতে ভরে উঠুক চারপাশ। মায়ের আগমনী সুরে পৃথিবীর প্রতিটি অন্ধকার দূরে সরে যাক।
মহালয়ার পবিত্র আলোয় জেগে উঠুক নতুন আশার সকাল।