নদীর ওই রূপ
আমি আগে কখনো দেখিনি—
আজ তার জলে
আকাশের কোনো তাড়া নেই,
শুধু নীলের ভেতর
ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে বিকেল।
দূরের নৌকাটি
কত সহজে কেটে যাচ্ছে জল,
মনে হয়—
কেউ যেন নিঃশব্দে
আমার পুরোনো দিনগুলোর ভেতর দিয়ে চলে যাচ্ছে।
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে
শুনি আমি জলের শব্দ,
সে শব্দে কোনো ভাষা নেই,
তবু কত কথা!
কোথাও ভাঙনের দাগ,
কোথাও কাশফুলের সাদা হাসি,
কোথাও জেলের জালে আটকে থাকা
একটি ছোট্ট সন্ধ্যা।
নদী জানে—
কত মানুষ তার তীরে এসে
নিজের দুঃখ রেখে গেছে।
কেউ ফিরে গেছে ঘরে,
কেউ চলে গেছে দূর শহরে,
কেউ আর কোনোদিন
ফিরে আসেনি।
তবু নদী বয়ে গেছে।
বর্ষায় তার শরীর ফুলে ওঠে,
সে ছুঁয়ে যায় ঘরের উঠোন,
ভাসিয়ে নেয় চেনা পথ,
তারপর একদিন
আবার শান্ত হয়ে যায়।
মানুষও কি নদীর মতো?
ভাঙে,
গড়ে,
হারায়,
তারপরও বয়ে চলে।
আজ নদীর দিকে তাকিয়ে
মনে হলো—
জীবন আসলে কোনো স্থির জল নয়।
তার বুকেও ঢেউ আছে,
তারও গোপন স্রোত আছে,
তারও কিছু অদৃশ্য তীর
যেখানে গিয়ে
আমরা কখনো পৌঁছাতে পারি না।
সূর্য ডুবে যাচ্ছে।
নদীর জল
ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে আসছে।
শেষ আলোটুকু
তার বুকে এমনভাবে পড়ে আছে,
যেন বিদায়ের আগে
কেউ একবার
পেছন ফিরে তাকিয়েছে।
নদী বয়ে যায়।
আর সেই বয়ে যাওয়ার মধ্যে
হঠাৎ বুঝতে পারি—
যা চলে যায়,
সবকিছু হারিয়ে যায় না।
কিছু কিছু জিনিস
জলের মতোই
আমাদের ভেতর দিয়ে বয়ে যায়
সারাজীবন।
সন্ধ্যা নামে।
নদীর ওই রূপ
আর দেখা যায় না।
শুধু শব্দ থাকে—
জলের,
হাওয়ার,
দূরের নৌকার—
আর আমার মনে
একটি নদী
চুপচাপ বয়ে যেতে থাকে।