১
আর দু একদিনের মধ্যেই মনে হয় পূর্ণিমা। আকাশে চাঁদ। সে চাঁদের আলোতে অনেকদূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। সেলিম রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছে। তার সাথে জাফর, কাশেম আর ময়নাল। তারা সবাই এই মজিরখিল গ্রামের। জেলা সদরে আজ শান্তি কমিটির মিটিং ছিলো। এলাকার বখাটে, বেকার কিছু লোক রাজাকারে নাম লিখিয়েছে। তাদের মধ্যে লিডারগোছের লোকগুলো পাকিস্তানিদের ইনফর্মার হিসাবে কাজ করছে। এলাকায় কারা কারা মুক্তিযুদ্ধে গেছে, তাদের নাম ধাম পাকিস্তানিদের কাছে দিয়ে এরা ইতোমধ্যেই বিশেষ বিশ্বস্ততা অর্জন করে ফেলেছে। তাদের ইউনিয়ন পরিষদের গত দুইবারের চেয়ারম্যান শফিউদিন চৌধুরী আজ জেলা সদরে গিয়েছেন। তিনি এ এলাকার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।
এখন সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমে এসেছে। হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই শফিউদ্দিন জেলা সদর হতে ফিরবে। বাড়ি ফিরতে হলে শফিউদ্দিন চৌধুরী এ পথেই ফিরবে। সেলিমরা তার জন্যেই অপেক্ষা করছে। আজ শফিউদ্দিনকে কিছু একটা করতে হবে। সপ্তাহ দুয়েক আগে পাকিস্তানি আর্মিরা এ গ্রামে এসেছিলো। এসে সমানে বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়েছে, ঘর দুয়ারে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে আর চারজনকে গুলি করে মেরেছে। লুটপাটের জন্য পাকিস্তানিদের চেয়ে গ্রামের রাজাকারদের ভূমিকা বেশী ছিলো। তারাই বাড়িগুলো চিনিয়ে দিয়েছিলো পকিস্তানিদের। যে চারজনকে পাকিস্তানিরা এখানে গত সপ্তাহে মেরেছে, তাদের মধ্যে সেলিমের বাবাও ছিলেন। খবরটা শোনার পর হতে এর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তক্কে তক্কে আছে সেলিম। সেলিমের সবচেয়ে বেশী খারাপ লেগেছে এজন্যে যে, বাবাই তাকে যুদ্ধে যেতে বলেছিলেন। সেলিমের এখনো মনে আছে তিন মাস আগে বাবার সাথে তার কথাবার্তা।
বাবার কাছে মুক্তিযুদ্ধে যাবে বলতেই বাবা সেলিমকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, আমার বয়স হয়েছে। এজন্য আমি যেতে পারছি না। তুই যা, বাবা।
কথাটা শুনে সেলিম চুপ করেছিলো। বাবাই তাকে আবার বললেন, তুই গিয়ে জিজ্ঞেস করবি, আমার মতো বুড়োদের ওরা নেবে কিনা। যদি নেয়, তাহলে খবর পাঠাবি। আমিও যাবো।
সেলিম শুধু বলল, আপনি যুদ্ধে গেলে এখানে মা’কে কে দেখবে? তাছাড়া ছোট ভাই রফিকও খুব ছোট। এদেরকে এখানে একা রেখে আপনি যুদ্ধে না যাওয়াই ভালো হবে। সেলিমের বাবা আর তেমন কিছু বলেননি। যেদিন কথা হয়েছিলো, সেদিন রাতেই গ্রামের আরো ছয়জন যুবকসহ সেলিমরা বর্ডার পেরিয়ে ইন্ডিয়া চলে গিয়েছিলো।
ট্রেনিং শেষ করে কুমিল্লার লাকসামে একটা অপারেশন করেছে সেলিমরা। তারপর তাদের পুরো দলটা সোনাইমুড়িতে এসে বিভিন্ন বাড়িতে লুকিয়ে আছে। সেখানে সেলিম গ্রামের ঘটনাটা শুনেছে। তারপর হতে সে ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে গিয়েছিলো বাড়ি আসার জন্য। কান্নাকাটিও করেছে। কমান্ডারকে বাড়ি আসার কথা বলতেই তিনি অনুমতি দেননি। তিনি বলেছিলেন,
এখন তোর মনের যে অবস্থা, এ অবস্থায় তোকে একা বাড়ি যেতে দেবো না। তোর একটা ভুলের জন্য আমাদের পুরো দলটা বিপদে পড়তে পারে।
কথাটায় যুক্তি ছিলো বিধায় সেলিম আর কিছুই বলতে পারেনি। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন কমান্ডার তাকে তার গ্রামের রাজাকারদের এবং শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান সম্পর্কে বলেছে। কমান্ডার তাকে বলেছিলো, গ্রামে তুই সেই গ্রামের ছেলে হয়ে যাবি না। তুই যাবি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে। সেখানে তোকে আমি একটা ছোট অপারেশনে পাঠাবো। গোপনে গ্রামে যাবি আর অপারেশন শেষে সোজা সোনাইমুড়ি চলে আসবি। ভুলেও বাড়ির দিকে যাবি না। তুই বাড়ি গেলে তোর মা, ছোট ভাই এরা বিপদে পড়বে।
সেলিমও তাতেই রাজী হয়ে গিয়েছিলো। তার রেশ ধরেই আজ সেলিমরা এই ছোট দলটাকে নিয়ে গ্রামে এসেছে। আজকের টার্গেট শফিউদ্দিন। শুধু শফিউদ্দিন। শফিউদ্দিনকে কিছু করা গেলে স্থানীয় রাজাকাররা ভয় পাওয়া শুরু করবে। এতে যদি তাদের দৌরাত্ম কিছুটা কমে, সেটাই মংগল।
২
মাইজদি শহরে মিটিংটা আজ ভালোই হয়েছে। শফিউদ্দিন এখানে কয়েকজন পাকিস্তানি আর্মি অফিসারের সাথে দেখা করলো। শফিউদ্দিনদের এলাকার ইন চার্জ যিনি, সে অফিসারের সাথেও দেখা করলো সে । ক্যাপ্টেন ইলিয়াস। শফিউদ্দিন এর ছেলেও তার চেয়ে বয়সে বড়। তবু শফিউদ্দিন আহমেদ গদ গদ হয়ে সে ছেলেকে স্যার স্যার বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেললো। শফিউদ্দিনের চোস্ত উর্দু শুনেই ক্যাপ্টেন ইলিয়াস খুব খুশী।
কথাবার্তা শেষে ক্যাপ্টেন ইলিয়াস বলল, পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় শফিউদ্দিন এবং তার লোকদের অবদান তারা মনে রাখবে।
এ কথা শুনেই শফিউদ্দিনের মনে আনন্দ আর ধরে না। কথাবার্তা শেষে ক্যাপ্টেন ইলিয়াস শফিউদ্দিনের সাথে হাত মিলালো। আর্মি অফিসার তার সাথে হাত মিলিয়েছে, এজন্যে গর্বে শফিউদ্দিনের বুকের ছাতি আরো ফুলে উঠলো। শফিউদ্দিন সাহস করে ক্যাপ্টেন সাহেবকে তার এলাকায় একবার ঘুরে আসার আমন্ত্রণ জানালো।
মিটিং শেষে শফিউদ্দিন মাইজদি বাজারে কিছু কেনা কাটা করলো। তারপর সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানরা একটা মিটিং এ বসলো। এ ধরণের মিটিং এ রাজাকারদের বিভিন্ন বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়। এলাকার রাজাকারদের বিভিন্ন সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে আলাপ হয়। শফিউদ্দিনের এলাকায় রাজাকারগুলো সব এলাকার বখাটে বেকারেরা। এদের যদি পেটের চিন্তা না থাকে, তবে এদেরকে দিয়ে যে কোন কাজ করিয়ে নেয়া যাবে। এ ভাবনা থেকে শফিউদ্দিন মিটিং এর সময় তার এলাকার জন্য কিছু চাল, আটা এবং নগদ টাকা অনুদানের জন্য অনুরোধ করলো। জেলা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান তাকে আশ্বস্ত করলো, দুই সপ্তাহের মধ্যে এগুলো তার এলাকায় পৌছে যাবে। শফিউদ্দিন নিজের উপর খুব খুশী হলো। এ কাজটা হয়ে গেলে এলাকার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে তার গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে। এলাকায় যারা রাজাকারে নাম লিখিয়েছে, তাদেরকে এসব দিতে পারলে খারাপ হবে না। তাদের যদি ভাতের চিন্তা না থাকে, তাহলে তাদেরকে দিয়ে যে কোন কাজ করিয়ে নেয়া সম্ভব। তবে তার গ্রামে রাজাকারেরা ভালো আছে। এলাকায় বিভিন্ন বাড়িঘরে যে সব লুটপাট হয়েছে, সবই রাজাকারেরা করেছে। বিভিন্ন ঘরবাড়ি হতে স্বর্নালংকার থেকে শুরু করে যা যা নিতে পারা যায়, সবই তারা নিয়েছে। তবে এখন তাদের নগদ টাকা আর খাদ্য সাহায্য দরকার। শফিউদ্দিন ভেবে দেখলো, পাকিস্তানের জন্য প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দেয়া যায়। দেশে এভাবে যুদ্ধ চালিয়ে কি লাভ? নিজের দেশের মিলিটারিরা এখন নিজের দেশের লোকদের মারছে, এটা খুব একটা ভালো লাগছে না তার। কিন্তু এটা ছাড়া বিকল্পও নাই। ভাবতে ভাবতে শফিউদ্দিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান হিসাবে তার একটা নাম ডাক আছে। পাকিস্তানিরা তার এলাকায় শুধু একবার গিয়েছিলো। যে সব বাড়ি থেকে ছেলেপুলেরা মুক্তিযুদ্ধে গেছে, কেবল তাদের বাড়িতেই লুট হয়েছে, আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। হ্যাঁ, কিছু লোককে আর্মিরা মেরে ফেলেছে। সেটারও দরকার ছিলো। ঢালাওভাবে সবাই মুক্তিযুদ্ধে গেলে আর্মির অত্যাচার আরো বাড়বে। এলাকায় শান্তি বলে আর কিছুই থাকবে না। ইয়াহিয়া সরকার যদি ইলেকশনের রেজাল্টটা মেনে নিতো তাহলে এতো কিছু হতোনা দেশে। শফিউদ্দিন রাজনীতির মারপ্যাচ ততোটা বুঝে না, কিন্তু দেশে এই অস্থিরতাটা তারও ভালো লাগছে না। মুক্তিযোদ্ধারা যে ভাবে নেমেছে, সেটাও তার কাছে বেশী বেশী হয়ে যাচ্ছে। এটা পরিপূর্ণভাবে ইন্ডিয়ার একটা খেলা। পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন ইলিয়াস তাকে সুন্দরভাবে সেটা বুঝিয়ে বলেছে। তারপর হতে তার মাথায় আরেকটা চিন্তা এসে হাজির হয়েছে। দেশটাকে কি টুকরো টুকরো করে ফেলবে ইন্ডিয়া? দুশ্চিন্তায় তার নিজেকে পাগল পাগল লাগছে এখন। মন থেকে এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে চাইলো শফিউদ্দিন। বাড়ির পথে রওনা হতে হবে। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।
৩
সেলিম মুখ তুলে আকাশের দিকে তাকালো। রাত গভীর হচ্ছে। তার হিসাবে সন্ধ্যার আগে আগে শফিউদ্দিনের মাইজদি থেকে রওনা হবার কথা। সে হিসাবে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই শফিউদ্দিন এদিক দিয়ে যাবে। আসার সময় শফিউদ্দিন বাজারে নামবে। সেখান হতে বাড়ির দিকে রিকশায় যাবে। আর ভাগ্য আরো ভালো হলে শফিউদ্দিন এ পথে হেঁটে যাবে। রিকশা থাকলে রিকশাওয়ালা জেনে যাবে। আর শফিউদ্দিন হেঁটে গেলে সেক্ষেত্রে অপারেশনটার গোপনীয়তা থাকবে। তাকে একা পাওয়া যাবে।
এখন ওরা চারজনেই রাস্তার লাগোয়া একটা বড় ঝোপের পেছনে বসে আছে।
সেলিমদের দলে শুধু ময়নালের হাতে একটা ঘড়ি আছে। সেলিম ময়নালকে জিজ্ঞেস করলো, কটা বাজে?
রাত সাড়ে নটা বাজে। ময়নাল জবাব দিলো।
আমার হিসাবে তাহলে আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই শফিউদ্দিন এ পথে যাবে। সেলিম বলল।
কাশেম আর জাফর কিছু বলছে না। সেলিম এবার কাশেমকে জিজ্ঞেস করলো,
তোরা ঘুমিয়ে পড়লি নাকি?
নাহ, জেগে আছি। কাশেম ছোট করে জবাব দিলো।
আমরা যদি দেখি, শফিউদ্দিন রিকশায় আসছে, তাহলে রিকশাটা থামিয়ে রাখবো। শফিউদ্দিনকে রিকশা হতে নামিয়ে যা করার করবো। অপারেশনের সময়টায় রিকশাওয়ালাকে কোথাও যেতে দেবো না। কথা বুঝতে পেরেছিস সবাই? সেলিম সবার উদ্যেশ্যে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো।
হুম। ময়নাল সায় দিলো। বাকী দুজনও মাথা নাড়লো।
সেলিম আবার বলা শুরু করলো, আর যদি শফিউদ্দিন একা আসে, তাহলে কোন চিন্তা নাই। যা করার তা সহজ কাজ হবে। কিন্তু আমার একটা কথা আছে। শফিউদ্দিনের মতো হারামি একটা লোককে মারার জন্য গুলি খরচ করতে ইচ্ছে হচ্ছে না।
তাহলে কি করবি? কাশেম জিজ্ঞেস করলো।
তোর কাছে চাকু আছে না? সেটা দিয়েই যা করার করবো। বাকী তিনজন তাকে শক্ত করে ধরে রাখলেই হবে। গুলি করলেই এলাকায় শব্দ হবে। এলাকার মানুষ আবার আতংকে পড়ে যাবে। সেলিম বলল।
একটু থেমে আবার বলল, যা করার তা নিঃশব্দে করবো।
সেলিমের এ কথার পর চারজনেই কেন যেন চুপচাপ হয়ে গেলো। কেউ কোন কথা বলছে না এমনকি যেখানে বসে আছে, সেখানে কোন নড়াচড়াও করছে না। মাঝে মাঝে শুধু সেলিমই কথা বলছিলো। অবশ্য এ অপারেশনের কমান্ডার করা হয়েছে সেলিমকেই, সেজন্য সে’ই বেশী কথা বলছে।
অপারেশন শেষে যতো দ্রুত সোনাইমুড়ি পৌছা যায়, সেটাই এখন আরেক চিন্তা। যে কোন অপারেশন শেষে ফেরত যাওয়াটা রণকৌশলগত কারণে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
সেলিম, সেলিম। ময়নালের কন্ঠে ভাবনা হতে বাস্তবে ফিরে এলো সেলিম। ফিসফিস করে ময়নাল বলল,
দেখ, শফিউদ্দিন রাস্তা দিয়ে একা একা হেঁটে আসছে।
ময়নালের কথা শুনে সেলিম বলল, শফিউদ্দিন কাছাকাছি আসলেই ঝোপ হতে বেরিয়ে আমি, জাফর আর ময়নাল ওকে জাপটে ধরবো। জাফর, তোর গামছা দিয়ে শক্ত করে মুখ বাঁধবি যাতে কোন শব্দ করতে না পারে। কাশেম, তোর চাকুটা বের কর। সবাই যার যার রাইফেল এখানে ঝোপের পেছনে রেখে দে। রাইফেলের দরকার নাই। যা করার, চাকু দিয়েই করা হবে। ওকে শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ সময় দুই মিনিট। লাশটা রাস্তার উপরেই ফেলে যাবো। যাতে এলাকার অন্যান্য রাজাকারদের একটা শিক্ষা হয়। সেলিম দ্রুতলয়ে কথাগুলো বলল।
সবাই টান টান উত্তেজনায় বসে থাকতে পারছে না। স্থির বসে থাকতে কষ্ট হচ্ছে সবার। শফিউদ্দিন আর মাত্র পঞ্চাশ গজ দূরে। কাছে আসতেই ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো ওরা চারজন একসাথে। শুধু কাশেম একটু দূরত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখের পলকে জাফর শফিউদ্দিনের মুখ বেঁধে ফেলল। গোঁ গোঁ শব্দ করছে শফিউদ্দিন। দুদিক হতে দুজন তাকে জাপটে ধরেছে। কাশেম কোমর হতে চাকুটা বের করল। শফিউদ্দিন স্পষ্ট দেখতে পেলো, চাঁদের আলোয় চকচক করছে ধারালো চাকুটা।
(গল্পটি আমার লেখা প্রতিশোধ নামক গল্পগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। বইটি শিখা প্রকাশনী থেকে ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে)