এমন করিয়া আশ্বিন আসে ছড়িয়ে রূপের বান
প্রকৃতি জুড়ে আমন ধানের ছড়ায় সুখের ঘ্রাণ।
নীল আকাশে সীমানা ছাড়ায়ে শুভ্র মেঘের মেলা
নরম রোদে মেঠোপথ ধরে কাটে যে সারা বেলা।
নদীর কূলে কাশফুল হাসে বাতাসে দোলা পেয়ে
উদাসী সুরে মাঝিমাল্লারা যায় যে তরণী বেয়ে।
ভোরের ঘাসেতে শিশিরবিন্দু মুক্তোর মতো জ্বলে
শিউলি ফুলের সুবাস ভাসে বনের নিবিড় তলে।
সবুজ খেতে বুক চিরে দোলে সোনালী ধানের শিষ
কৃষকের মুখে ফোটে যে হাসি ভুলে সকল বিষ।
আলপথ ধরে মেঠো হাওয়া এসে জুড়ায় তপ্ত বুক
পল্লীর বুকে নেমে আসে এক অনাবিল এক সুখ।
গাছের ডালেতে ডাহুক ও দোয়েল মিষ্টি সুরে গায়
গোধূলির রঙে আকাশখানা যে লাজেতে রাঙা বায়।
সাঁঝের বেলা আযান ধ্বনিতে শান্ত গাঁখানি জাগে
আশ্বিন যেন সাজে রূপবতী মায়াবী অনুরাগে।
ঝিলের জলেতে ফুটন্ত পদ্ম মেলেছে রূপের ডানা
এমন শোভায় মুগ্ধ হৃদয় মানে না কোনো মানা।
ধূপের ধোঁয়াতে গোধূলি বেলায় ছড়ায় পূজার সুর
আশ্বিনের এই মিষ্টি ছোঁয়ায় বিষাদ যায় যে দূর।
বিলের জলে মাছরাঙা পাখি ফেলে যে রূপের ছায়া
পল্লী মায়ের আঁচল বিছায়ে ছড়ায় মধুর মায়া।
উঠোন জুড়ে যে আলপনা আঁকা নবান্নেরই ডাকে
স্মৃতির সুবাস জড়িয়ে রয় গাঁয়ের বাঁকে বাঁকে।
রাতের বেলাতে জোছনার ঢল ভাসিয়ে নিয়ে যায়
চাঁদের আলোয় জোনাকির দল কোথা যেন হারায়।
শান্ত বাতাসে ভেসে আসে গান বাউলের একতারা
আশ্বিনের এই রূপের খেলায় মন যে দিশেহারা।
ঋতুর রানী আশ্বিন তুমি প্রাণের আপনজন
তোমার রূপের জাদুতে মাতাল সারাটি ভুবন-মন।
সোনালী ফসলে ভরে উঠুক যে বাংলার এই প্রাণ
চিরকাল ধরে বাতাসে বাজুক আশ্বিনের এই গান।