Story

পথের ধাঁরের ছেলেটি

October 4, 2026

8 views

শ্রাবণের আকাশটা সকাল থেকেই ঘন কালো মেঘে ঢেকে ছিল। দুপুরের পর থেকেই শুরু হলো অবিশ্রান্ত ধারাপাত। পিচঢালা রাজপথ ভিজে চকচক করছে, আর চাকার ঘর্ষণে ছিটকে উঠছে কর্দমাক্ত জল। ঢাকার রাজপথে এমন দিনে ট্রাফিক সিগন্যাল যেন আরও নির্দয় রূপ ধারণ করে। লাল বাতি জ্বলতেই সারি সারি গাড়ির দীর্ঘ জটলা থমকে দাঁড়াল জিয়া উদ্যানের মোড়ে। গাড়ির পেছনের সিটে হেলান দিয়ে বসে ছিল মেহেদি। একটি বেসরকারি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সে। দিনভর কাজের চাপ, ফাইলপত্রের ভিড় আর মানসিক ক্লান্তি নিয়ে সে ফিরছিল। এসির মৃদু বাতাসে গাড়ির ভেতরটা শান্ত হলেও কাঁচের ওপারে ঢাকা শহর তখন ভিজে জবুথবু। মেহেদি আনমনে জানালার কাঁচের দিকে তাকিয়ে ছিল। কাঁচের ওপর বৃষ্টির ফোঁটাগুলো আছড়ে পড়ে অদ্ভুত সব জলরেখা তৈরি করে নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ছে।

ঠিক তখনই জানালার কাঁচে টোকা পড়ার হালকা শব্দ হলো। মেহেদি মুখ ফেরাল। কাঁচের ওপারে দাঁড়িয়ে আছে সাত-আট বছরের এক ফুটফুটে বালক। বৃষ্টির তোড়ে তার পাতলা সুতির জামা আর ছেঁড়া হাফপ্যান্ট গায়ের সাথে লেপটে গেছে। ছোট ছোট পা দুটো শীতে বা আতঙ্কে থরথর করে কাঁপছে। এক হাতে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি রজনীগন্ধার তোড়া, অন্য হাত দিয়ে সে কাঁচের ওপর আলতো করে আঙুল ছুঁইয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টিতে ভেজা তার অবিন্যস্ত চুলগুলো কপাল জুড়ে লেপ্টে আছে, কিন্তু সেই ভেজা চোখের মণিদুটো ছিল অসম্ভব স্বচ্ছ ও মায়াবী।

মেহেদির বুকের ভেতর কেমন যেন এক মোচড় দিয়ে উঠল। এতটুকু একটা বাচ্চা, এই মুষলধারে কেন রাস্তায়? গাড়ি থেকে বের না হয়েও ছেলেটির কাঁপুনি সে পরিষ্কার অনুভব করতে পারছিল। দ্বিধা না করে মেহেদি জানালার কাঁচের সুইচ টিপে কাঁচটা অর্ধেক নামিয়ে দিল। ভেজা বাতাসের ঠান্ডা ঝাপটা ঢুকে পড়ল গাড়ির ভেতর। মেহেদি পকেট থেকে দ্রুত একটি একশ টাকার নোট বের করে ছেলেটির দিকে বাড়িয়ে দিল। বলল, "এই নাও, তাড়াতাড়ি কোথাও গিয়ে আশ্রয় নাও, ভিজে অসুখ বাঁধাবে তো।" কিন্তু ছেলেটি টাকাটা ধরল না। সে হাত ফিরিয়ে নিয়ে তার বুকের কাছে চেপে রাখা রজনীগন্ধার গুচ্ছ এগিয়ে দিল। ভেজা গলায়, অথচ খুব স্পষ্ট ও শুদ্ধ উচ্চারণে বলল, "স্যার, ফুল না নিলে টাকা নিমু না।"

মেহেদি চমকে উঠল। শহরের মোড়ে মোড়ে ভিক্ষুক আর পথশিশুদের করুণ আবদার শুনতে শুনতে তার কান অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। সাধারণত কোনো কিছু বাড়িয়ে দিলে তারা লুফে নেয়, অনেকে বাড়তি চায়। কিন্তু এই ছেলেটির কণ্ঠে না ছিল ভিক্ষাবৃত্তির কাতরতা, না ছিল কোনো ধৃষ্টতা; বরং সেখানে জড়িয়ে ছিল অদ্ভুত এক আত্মমর্যাদাবোধ। আর সবচেয়ে বড় কথা,তার উচ্চারণ। পথশিশুদের চিরচেনা টান বা অপভ্রংশের বদলে তার কণ্ঠে এক অদ্ভুত পরিচ্ছন্নতা ছিল, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরের আদুরে সন্তানদের মতোই শোনায়। মেহেদির বুকের গভীর কোনো এক তারে যেন টান পড়ল। সে হাত বাড়িয়ে ফুলগুলো নিজের হাতে তুলে নিল। বৃষ্টির জলের শীতল স্পর্শ রজনীগন্ধার ডাল বেয়ে মেহেদির তালুতে এসে ঠেকল। এরপর সে টাকাটা ছেলেটির ঠান্ডা বরফ হয়ে যাওয়া নরম হাতের মুঠোয় গুঁজে দিল। ছেলেটির মুখে এক চিলতে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। সে বিনয়ের সঙ্গে বলল, "ধন্যবাদ, স্যার।"

ততক্ষণে ট্রাফিক সিগন্যালের লাল আলো নিভে সবুজ বাতি জ্বলে উঠেছে। পেছনে গাড়ির তীব্র হর্ন। মেহেদির ড্রাইভার অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিল। গাড়িটা ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। মেহেদি গাড়ির ব্যাকভিউ মিররে তাকাল। দেখল, ছেলেটি দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে চলে যাওয়া গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে, তার ভেজা মুখে তখনও সেই অমলিন শিশুর হাসি। সেদিন বাড়ি ফিরেও মেহেদির মন থেকে সেই দৃশ্যটি মুছে গেল না। ড্রয়িংরুমের ফুলদানিতে রজনীগন্ধাগুলো রাখার সময় সে লক্ষ্য করল, প্রতিটি ডাল পরম যত্নে সাজানো, একটি পাতাও দোমড়ানো নয়। ছেলেটির আত্মসম্মান আর মায়াবী চোখ দুটো রাতের ঘুমের মধ্যেও মেহেদির চেতনায় উঁকি দিয়ে গেল। এরপর থেকে জিয়া উদ্যানের মোড়ে গাড়ি এসে থামলেই মেহেদির চোখদুটো অবচেতনভাবেই জানালার বাইরে ঘুরে বেড়াত। সপ্তাহখানেক পর আবার দেখা হলো। সেদিন আকাশ পরিষ্কার ছিল, কিন্তু বিকেলের চড়া রোদে ছেলেটি ঘামে ভিজে একাকার হয়ে বেলি ফুলের মালা বিক্রি করছিল।

গাড়ির কাঁচ নামিয়ে মেহেদি ডাকল, "এই যে ফুলওয়ালা, এদিকে এসো।"

ছেলেটি ঘুরে তাকাল। মেহেদিকে চিনতে পেরেই তার ডাগর চোখ দুটো আনন্দে চিকচিক করে উঠল। এক ছুটে সে গাড়ির পাশে এসে দাঁড়াল।

"স্যার, কেমন আছেন?"

মেহেদি হাসল। "আমি ভালো আছি। তোমার নাম কী?"

"আমার নাম রাজ।"

"বাহ, খুব সুন্দর নাম। তোমার পরিবারে কে কে আছে রাজ? তুমি রাস্তায় ফুল বিক্রি করো কেন?"

রাজ একটু মলিন হাসল। তার চোখের গভীরে বয়ে গেল অকালপক্কতার ছায়া। সে বলল, "আমার বাবা ছিলেন স্কুলের কেরানি। খুব ভালো মানুষ ছিলেন। দুই বছর আগে বাবা স্ট্রোক করে মারা যান। তারপর আমাদের আর কিছুই রইল না। মা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্না করে। মায়ের একার কামাইয়ে ঘরভাড়া আর সংসার চলে না। তাই আমি ফুল বিক্রি করি। ফুল বেঁচে যা পাই, মায়ের হাতে দিই।"

মেহেদি স্তব্ধ হয়ে শুনল। তার অনুমান মিথ্যে ছিল না। এই ছেলেটি পথের ধুলোয় জন্ম নেওয়া কোনো অবহেলিত প্রাণ নয়; ভাগ্যের নিষ্ঠুর কষাঘাতে সে আজ রাজপথের ধুলোয় এসে আছড়ে পড়েছে। যে বয়সে কাঁধে স্কুলের রঙিন ব্যাগ ঝুলিয়ে বন্ধুদের সাথে দুষ্টুমি করার কথা, সেই বয়সে সংসারের ভার রাজের কাঁধকে ন্যুব্জ করে দিয়েছে। মেহেদি এক ডজন বেলি ফুলের মালা কিনে নিয়ে তাকে কিছু বাড়তি টাকা দিতে চাইল। রাজ অত্যন্ত নরমভাবে কিন্তু দৃঢ়তার সাথে তা ফিরিয়ে দিয়ে বলল, "না স্যার, যত টাকার মালা দিছি, তত টাকাই দেন। মা বলেছে, কারও দয়া নিলে নিজের মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যায়। কষ্ট করে রোজগার করলে ডালভাত খেয়েও ঘুমানো যায়।"

একটি সাত-আট বছরের শিশুর মুখ থেকে এমন কথা শুনে মেহেদির চোখ ভিজে আসার উপক্রম হলো। এই রুক্ষ, স্বার্থপর ঢাকা শহরে এমন একটি হীরকখণ্ড এভাবে ধুলোবালির মধ্যে বেঁচে আছে! মেহেদি আর জোর করল না, কিন্তু মনে মনে এক গভীর মমত্ববোধ অনুভব করল। এরপর থেকে জিয়া উদ্যানের মোড় মেহেদির কাছে কেবল একটি সিগন্যাল ছিল না; তা ছিল এক অদ্ভুত প্রতীক্ষার জায়গা। অফিস থেকে ফেরার পথে সপ্তাহে অন্তত দুই-তিন দিন তার সাথে রাজের দেখা হতো। মেহেদি তার কাছ থেকে ফুল কিনত। কখনো কখনো সে রাজের জন্য গাড়িতে চকলেট, বিস্কুট বা ফলের জুস রেখে দিত। সেগুলো রাজ সানন্দে গ্রহণ করত, কারণ সে বুঝত এগুলো বিক্রির বিনিময়ে নয়, স্নেহের উপহার।

একদিন মেহেদি তাকে একটি খাতা আর রঙের বাক্স কিনে দিল। উপহারটা পেয়ে রাজের চোখের যে বাঁধভাঙা আনন্দ মেহেদি দেখেছিল, তা কোনো কোটি টাকার চুক্তি সই করার পর তার নিজের চোখেও কখনো ফোটেনি। রাজ বলেছিল, "জানেন স্যার, বাবার কাছে আমি ক-খ শিখেছিলাম। ছবি আঁকতে আমার খুব ভালো লাগে। মা বলে, টাকা জমিয়ে আমাকে আবার স্কুলে দেবে।" মেহেদি ভেবেছিল, আর কিছুদিন যাক, সে রাজের মায়ের ঠিকানায় যাবে। তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সে নিজে নেবে। রাজকে এই বিপজ্জনক রাজপথ থেকে সরিয়ে এনে ক্লাসরুমের বেঞ্চিতে বসাবে,এই সিদ্ধান্ত সে মনে মনে পাকাপোক্ত করে নিয়েছিল।

কিন্তু জীবন কখনো কখনো মানুষের ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি নির্মম ও অপ্রত্যাশিত চিত্রনাট্য লিখে রাখে। অফিসের এক জরুরি কাজে মেহেদিকে প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে যেতে হয়েছিল। ব্যাংকক থেকে ফিরে এসেই তার মনটা কেমন যেন আনচান করতে লাগল। সেই ছোট্ট রাজের মিষ্টি মুখটা তার স্মৃতিতে ভেসে উঠল। রাজের জন্য সে ব্যাংকক থেকে সুন্দর একটি ছোট স্কুলের ব্যাগ আর অনেকগুলো রঙিন পেন্সিল কিনে নিয়ে এসেছিল। দেশে ফেরার পরদিন বিকেলেই মেহেদি ড্রাইভারকে বলল জিয়া উদ্যানের মোড় হয়ে গুলশানের দিকে যেতে। গাড়ি যখন সিগন্যালে এসে দাঁড়াল, মেহেদি দ্রুত জানালার কাঁচ নামিয়ে বাইরে তাকাল।

চারিদিকে চিরচেনা কোলাহল। বাদামওয়ালা ডাকছে, হকাররা পত্রিকা ও পানির বোতল নিয়ে ছোটাছুটি করছে। কিন্তু সেই ছোট্ট রাজকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। মেহেদি উদগ্রীব হয়ে চারপাশে চোখ বোলাল। না, রজনীগন্ধা হাতে সেই মায়াবী চোখের বালকটি কোথাও নেই। সিগন্যালে গাড়ি থেমে থাকার সময় মেহেদি দেখতে পেল একটু দূরে অন্য আরেকটি ১২-১৩ বছরের ছেলে প্লাস্টিকের ফুল বিক্রি করছে। মেহেদি তাকে হাত নেড়ে কাছে ডাকল।

ছেলেটি কাছে এলে মেহেদি জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা, এখানে একটা ছোট ছেলে ফুল বিক্রি করত না? নাম রাজ? খুব মিষ্টি দেখতে, বয়স সাত-আট বছর হবে। ও কোথায়? আজ আসেনি?"

ছেলেটি এক মুহূর্ত মেহেদির মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। তারপর তার মুখে এক অদ্ভুত উদাসীন ও বিষণ্ণ ছায়া নেমে এলো। সে হাতের ফুলগুলো ঠিক করতে করতে নির্লিপ্ত গলায় বলল, "রাজ? রাজ তো আর আইবো না স্যার।"

মেহেদির বুকের ভেতরটা আচমকা কেঁপে উঠল। এক অজানা আশঙ্কায় তার গলা শুকিয়ে গেল। সে রুদ্ধশ্বাসে প্রশ্ন করল, "আসবে না মানে? ও কি অন্য কোথাও গেছে? ওর কি কোনো অসুখ করেছে?"

ছেলেটি আকাশের দিকে তাকিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "না স্যার, ও তো আর নাই। আইজ থাইকা প্রায় পনেরো দিন আগে, এক বৃষ্টির দিনে একখান বড় কালো গাড়ি সিগন্যাল ভাইঙ্গা দ্রুত যাইতেছিল। রাজ ফুল লইয়া দৌড় দিয়া রাস্তার ওপারে যাইতেছিল। গাড়িটা ওরে সোজাসুজি ধাক্কা দিয়া উইড়া ফালায়া দিয়া ভাইগা যায়। রক্তে ভাইসা গেছিল রাস্তা। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই পোলাডা শ্যাষ হইয়া গেছে।"

কথাগুলো শেষ হতেই মেহেদির মস্তিষ্কের ভেতর যেন এক প্রলয়ংকরী বজ্রপাত হলো। মুহূর্তের মধ্যে তার চোখের সামনের পৃথিবীটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। চারপাশের গাড়ির বিকট হর্ন, মানুষের কোলাহল, ট্রাফিকের বাঁশির তীব্র শব্দ,সবকিছু যেন এক লহমায় স্তব্ধ হয়ে বহু দূরে মিলিয়ে গেল।

"হাসপাতালে নেওয়ার আগেই... পোলাডা শ্যাষ হইয়া গেছে...",বাক্যটি মেহেদির কানের পর্দায় বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। মেহেদির হাত থেকে গাড়ির দরজার হ্যান্ডেলটা আলগা হয়ে গেল। সে স্তব্ধ, নিথর হয়ে সিটে বসে রইল। তার হাত-পা অবশ হয়ে এলো। পেছনের সিটে রাখা ব্যাংকক থেকে আনা সেই রঙিন স্কুলব্যাগ আর পেন্সিলগুলোর দিকে চোখ পড়তেই তার চোখ ফেটে নোনা জল নেমে এলো।

সাত-আট বছরের একটি নিষ্পাপ শিশু, যে প্রতিদিন এক টুকরো আত্মমর্যাদা আর জীবনের স্বপ্ন বুকে চেপে রাস্তায় নামত; যার মুখে ছিল অমলিন হাসি আর চোখে ছিল স্কুলে ফেরার স্বপ্ন,সে একটি বেপরোয়া গাড়ির চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে ধুলোয় মিশে গেল? এই শহরের নিয়ন আলো আর বিলাসবহুল রাজপথের কাছে এক ফোঁটা রক্ত ছাড়া তার কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট রইল না? ট্রাফিকের সবুজ বাতি জ্বলে উঠল। পেছনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন তীব্র শব্দে হর্ন বাজিয়ে তাদের তাড়া দিতে লাগল। ড্রাইভার মৃদু স্বরে বলল, "স্যার, গাড়ি কি টানব?"

মেহেদি কোনো উত্তর দিতে পারল না। সে কেবল আনমনে কাঁচের বাইরে জিয়া উদ্যানের সেই পিচঢালা সড়কটির দিকে তাকিয়ে রইল। পনেরো দিন আগের রক্ত হয়তো শ্রাবণের বৃষ্টি ধুয়ে নিয়ে গেছে, কিন্তু রাস্তার এক কোণে মেহেদি যেন স্পষ্ট দেখতে পেল,বৃষ্টির জলে ভিজে থরথর করে কাঁপতে থাকা এক দেবদূতের মতো বালক একগুচ্ছ তাজা রজনীগন্ধা মেলে ধরে এখনও বলছে,"স্যার, ফুল না নিলে টাকা নিমু না।"

যে শিশুটি কারও করুণা নেয়নি, জীবনের নিষ্ঠুর অসম যুদ্ধে সে আজ নিজেই পরাজিত হয়ে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল। ঢাকার ব্যস্ত রাজপথ তার আপন গতিতে চলতে লাগল, কেবল মেহেদির বুকের ভেতর এক অনন্ত শূন্যতা আর হাহাকার ডানা ঝাপটাতে থাকল।

 

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login

  • Borhan mahmud 16 hours ago

    ভালো লিখেছেন। শুভেচ্ছা রইলো।

    • Kabir Al Mamun 16 hours ago

      ভাই, অনেক ধন্যবাদ।

  • Kabir Al Mamun 16 hours ago

    আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাকে অনুপ্রানিত করবে।