একদিন।
একদিন, হয়তো অচিরেই
হলুদ ভিজে ঘাসের গন্ধ মেখে দূর আকাশ
থেকে ভেসে আসবে,
আমাদের বহুকালের সকল কথা।
যা হয়তো নদীর তলানিতে শ্যাওলার মতো পড়ে ছিল এতদিন।
কিংবা পাহাড়ের ঢালে অবহেলার নুড়ি হয়েই ছিলো।
ইথারে ভেসে তারা হাজির হবে গ্রামের উত্তরে নদীর ধারে,
যেখানে সারাবছর শুধু শুকনো কাশফুলের দুলুনি আর
ডাহুকের আকাশ চেরা ডাক শোনা যায়।
আমরা দলে দলে চলে যাবো সেখানে,
চোখে ধুলোর ঝিকিমিকি, গলায় পুরনো গান,
কারো হাতে পেতলের বাটি, কারো হাতে টিনের বাক্স,
যেন কুড়িয়ে আনবো সেসব কথা
যা একসময় বউঝি, ভাইপো, কাকা
বা খেয়াঘাটের দোকানী বলেছিল;
হাত নেড়ে, হাসি ছড়িয়ে, অভিমান গোপন রেখে
অথবা নিগুঢ় ভালোবাসায়।
তারপর হুল্লোড়, হৈ-হল্লা,
কেউ বলবে, দেখো দেখো, এটা আমার কথা!
কেউ আবার জেদ ধরবে—হায় হায়! আমার কথা নিচ্ছো কেন?
কথারা যেন চড়ুইদের মতো ছুটোছুটি করছে মাঠজুড়ে,
আমরা কথাদের কুড়িয়ে নিচ্ছি, যেন
কথাগুলো আমাদের কাছেই গোপন থাকে।
সেসময়; আচমকা, একজন থেমে গিয়ে বলবে, ধুর!
এসব পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে কী হবে?
যা গেছে, তার পিঠে ধুলো জমে গেছে,
তা এখন কেবলই অতীতের ঝিম ধরা দুপুর।
হলুদ রোদের ছায়ার আড়ালে পড়ে থাকা
এসব কথা নিয়ে কী করবো আমরা এখন?
তখন আমরা একে একে
সব কথাদের রেখে দেবো আবার মাঠের ঘাসে৷
থাক, পড়ে থাক সব।
হঠাৎ, তখন কোথা থেকে যেন
একটা অচেনা কণ্ঠ এসে বলে দিলো,
বলে দেয়া কথা আর কারো নিজস্ব কথা থাকে না।
সব কথাতো মনেও থাকে না,
কার কথা কুড়িয়ে নিচ্ছ তোমরা?
আমরা চারদিক তাকাবো,
মাঠে কেউ নেই,
শুধু বাতাস বয়ে যাবার শব্দ।
বাতাসে ভেসে আসা শব্দে আমরা সবাই
যেন সেই অচেনা কন্ঠে
আমাদের যার যার নাম শুনতে পেলাম।