একটা চিঠি লিখেছিলাম খুব যত্নে ,
কাঠগোলাপের শুকিয়ে যাওয়া পাপড়ি গুঁজে দিয়েছিলাম ভাঁজে ভাঁজে।
আমি জানি, সেটি কোনোদিন গন্তব্যে পৌঁছাবে না,
কোনো ডাকপিয়নের ব্যাগে তার ঠাঁই হবে না কোনোদিন।
যে ঠিকানায় শহর বদলায় না, কিন্তু মন বদলে যায়,
সেই ঠিকানার সব রাস্তা তো কবেই মরে গেছে।
তবুও কলমের ডগায় শব্দ জমলে হাত থেমে থাকে না,
কাগজে ফুটে ওঠে না বলা সমস্ত অভিমানের বিষাদ।
ঘরের কোণে আধো অন্ধকারে জমা হয় এমন কত অদেখা চিঠি,
যার ওপর প্রতিদিন জমতে থাকে অচেনা ধুলোর আস্তরণ।
তুমি হয়তো এখন অন্য কোনো কোথাও বেসামাল ব্যস্ত,
আর আমি সেই পুরোনো স্মৃতির কাঁচের বয়ামে বন্দি।
অসম্পূর্ণ সেই চিঠির পাতায় বেঁচে থাকে আমাদের কিছু ভুল রাত,
আর জমে থাকা কিছু নিভে যাওয়া নিঝুম দীর্ঘশ্বাস।
পৌঁছানোর কোনো তাগিদ নেই বলেই হয়তো
লেখাগুলো আজও এতখানি নিখাদ এবং খাঁটি।
একদিন এই ধূলিধূসর চিঠিগুলো বাতাসে উড়িয়ে দেব নিশ্চিন্তে,
তারা ডাকপিয়নকে ছাড়াই পৌঁছে যাবে কেবলই অসীম শূন্যতায়।