হরিৎ আর শ্যাওলা মাখা মেঠো পথ ধরে
যখন আবার ঝরে পড়বে শিমুলের উগ্র লাল আগুন,
শহরের ইট-পাথরের খাঁচা ছেড়ে
ফের বসন্ত এলে, আমি আবার পাহাড়ে যাব।
কংক্রিটের এই বন্দিশালাকে বিদায় জানিয়ে
ছুটে যাব মেঘের কাছাকাছি জমানো পুরোনো ঋণে।
যেখানে বাঁশঝাড়ের পাতার ফাঁক দিয়ে হাওয়া বয়ে যায়,
আর গহিন উপত্যকায় সুবাস ছড়ায় পাহাড়ি জারুল ও বনকরবী।
শহরের কৃত্রিম আলো আর শব্দের মিথ্যে তাড়া ছেড়ে
দাঁড়াব কোনো উঁচু টিলার নির্জন শেষ প্রান্তে।
উপত্যকার গভীরে ধসে পড়া মেঘের চাদর সরালেই
চোখে পড়বে সেগুন আর কড়ই গাছের গম্ভীর রূপান্তর।
পাহাড়ি ছড়ার বরফশীতল জলের শব্দে
খুঁজে পাব হারিয়ে যাওয়া নিজের সেই বিশুদ্ধ মেজাজ,
যা ইট কাঠের যান্ত্রিক চাকা ঘোরানোর ভিড়ে
কবেই যেন চাপা পড়েছিল ধুলোর নিচে।
বুকে জড়িয়ে নেব উঁচু টিলা আর বিশালতার সেই নিস্তব্ধতা,
যেখানে শাল আর পলাশের ঝরে পড়া পাতারা সাক্ষী থাকে।
বুনো ফুল আর কাঁচা মাটির ঘ্রাণ মেখে
আমি সেদিন আবার নতুন করে নিজের ভেতরের মানুষকে ছুঁয়ে আসব।