দেয়ালের গা বেয়ে উঠে গেছে বিষাক্ত লতার শেকড়,
আর আমরা পুরোনো ড্রয়ারে বন্দি করে রেখেছি আমাদের দারুণ অতীত।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা চামড়া বদলে নিই,
বাজারের চলতি দরে বিক্রি করি বুকের ভেতর শুকিয়ে যাওয়া নদী।
লোহার গলানো এই রোদে আমরা প্রতিদিন নিজেদের মাংস কামড়ে খাই,
আর প্লাস্টিকের গাছে খুঁজে ফিরি বসন্তের ঘ্রাণ।
আমাদের করতলে কোনো রোদ জমে না আর,
সেখানে শুধু ধাতব মুদ্রার শীতল স্পর্শ আর হিসেবী কলঙ্ক।
কোদাল হাতে যে মাটিকে ভালোবেসেছিল আদিম প্রখরতায়,
সে আজ নিজের ছায়াকেই ভয় পায় প্রতিটা গলির মোড়ে।
হৃদয়কে বানিয়ে ফেলেছি নিরেট পাথর,
যার ওপর দিয়ে হেঁটে যায় অন্ধ ঘোড়ার কোনো রথ।
কোথায় সেই আদিম আগুনের ওম,
যা মানুষকে চিনিয়েছিল পাশের মানুষের ভিজে ওঠা চোখ?
কবে ধুয়ে যাবে রক্তমুখী কৃত্রিমতার হাত,
কবে কাঠগোলাপের মতো নিসংকোচে আবার ফুটবে মানুষের চেতনা?
আমরা কি তবে যন্ত্রের খোলস হয়েই রয়ে যাব,
নাকি কোনো এক ভোরে,
ধুলোর রাজপথ ছেড়ে, বিষাক্ত মুখোশ খসিয়ে,
আমরা আবার নতুন করে মানুষ হয়ে ওঠার সুযোগ পাব?